না ফেরার দেশে হারিয়ে গিয়েছে মা-বাবা, স্ত্রী! একাকিত্বে জীবন কাটছে পথের পাঁচালীর সেই ছোট্ট অপুর!

সত্যজিৎ রায়ের (Satyajit Ray) পথের পাঁচালীর (Pather Panchali) কথা নতুন করে এই কোনো বাঙালিকে বলার নেই। সত্যজিৎ রায়ের সৃষ্টি করা একাধিক জনপ্রিয় চলচ্চিত্রের মধ্যে পথের পাঁচালী অন্যতম। পথের পাঁচালী শুধুমাত্র বাংলায় নয়, বাংলার বাইরে গিয়েও মাইলস্টোন তৈরি করেছে। এই ছবির জন্য একাধিক পুরস্কার পেয়েছেন সত্যজিৎ রায়।
এই ছবি অপু দুর্গার চরিত্র আজও দর্শকদের মনে গেঁথে রয়েছে। ছবিতে অপুর চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন অভিনেতা সুবীর ব্যানার্জি (Subir Banerjee)। তবে এই ছবিতে অভিনয় করার পর আর জন্য ছবিতে দেখা যায়নি সুবীর বাবুকে। সত্যজিৎ রায় যখন পথের পাঁচালী ছবিটি তৈরি করার কথা ভাবনা চিন্তা করছেন তখন অপু চরিত্রের জন্য পাঁচ থেকে সাত বছরের শিশুর সন্ধানে সংবাদপত্রে একটি বিজ্ঞাপন দেন। বিজ্ঞাপন দেখে কয়েকটি ছেলে অডিশন দিতে আসে, কিন্তু কোন ছেলেকেই সত্যজিৎ রায়ের পছন্দ হয়নি। অবশেষে একদিন সত্যজিৎ রায়ের স্ত্রী বিজয়া রায় তাদের বাড়ির পাশের ছাদে একটি ছেলেকে খেলতে দেখেন। সেই ছেলের কথা স্বামীকে জানাতেই তাকে ডেকে বেশ কিছু ছবি তোলেন সত্যজিৎ রায়। এরপর তাকে ছবিতে অপু চরিত্রে অভিনয়ের জন্য সুযোগ দেন।

কিন্তু সুবীর বাবুর মা ছিলেন অন্য চিন্তাধারার মানুষ। তখনকার দিনে মধ্যবিত্ত বাড়ির ছেলে মেয়েরা অভিনয় করতেন না। অভিনয়কে একেবারে নিচু পেশা হিসেবে দেখা হতো। সেই জন্য প্রথমে রাজি হননি সুবীর বাবুর মা। সত্যজিৎ রায়কে তার জন্য অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছিল। অবশেষে সুবীর বাবুর মা বাবার অনুমতি নিয়ে নিজের পথের পাঁচালী ছবিতে ছোট্ট অপু হিসেবে তাকে নিয়ে আসেন।
বর্তমানে কেমন আছে পথের পাঁচালীর ছোট্ট অপু?
ওই প্রথম ওই শেষ। এরপরে আর কখনোই সুবীর বাবুকে অন্য কোন ছবিতে অভিনয় করতে দেখা যায়নি। লাইট,ক্যামেরার দুনিয়ায় তিনি আর আসতে চায়নি। যদিও অপু নামটি সুবীর বাবু গা থেকে ঝেড়ে ফেলতে পারেননি। স্কুলে কলেজে সর্বত্র তাকে বলা হত পথের পাঁচালীর অপু।
আরও পড়ুনঃ ‘‘ভগবান একমাত্র আমার কোল থেকেই কেড়ে নিয়েছিলেন সবকিছু’- সন্তানকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন নায়িকা!
পথের পাঁচালী ছবিতে অভিনয় করার জন্য একটা পয়সাও কিন্তু নেননি সুবীর বাবু। পরবর্তী সময়ে সুবীর বাবু কলকাতার এক ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাক্টরিতেই কাজ নিয়েছিলেন। পরে কেন্দ্রীয় সরকারের ক্লার্কের চাকরি করতেন। ষাট বছর বয়সে অবসরপ্রাপ্ত হয়েছেন। বর্তমানে সুবীর বন্দ্যোপাধ্যায়ের বয়স ৮০ ছুঁই ছুঁই। প্রয়াত হয়েছেন তার পিতা-মাতা এমনকি স্ত্রীও। বর্তমানে তিনি একা। ক্যামেরার সামনে না আসতে চান না। অবসর জীবনটা একাকিত্বে কাটছে অভিনেতার। কিছুদিন আগে প্রয়াত হয়েছিলেন পথের পাঁচালীর দুর্গা অর্থাৎ অভিনেত্রী উমা দাশগুপ্ত। তার মৃ’ত্যুর খবর শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন সুবীর ব্যানার্জি।

