‘কথা বলতে পারে না, কিন্তু এত বড় বড়…ওর মাথাটা অনেক যত্ন করে তৈরি করেছেন ভগবান!’ বিরাট দুর্ঘটনায় হয়েছে অপূরণীয় ক্ষতি! কথা বলতে না পারলেও অসাধ্য সাধন করে দেখালেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের নাতি!

ভয়াবহ এক পথ দুর্ঘটনার পর মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছেন কিংবদন্তি অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের (Soumitra Chatterjee) নাতি রণদীপ বসু। ভয়াবহ সেই অভিজ্ঞতার পর এখন ধীরে ধীরে সুস্থতার পথে এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা ঠিক কেমন এবং এই কঠিন সময়ে পরিবার, বিশেষ করে তার মা কীভাবে লড়াই করছেন, তা নিয়েই সম্প্রতি এক ভিডিওতে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন তিনি। এই ভিডিওটি সামনে আসার পর থেকেই টলিপাড়া এবং অনুরাগীদের মধ্যে আলোচনার ঝড় উঠেছে।

দুর্ঘটনাটি অত্যন্ত আকস্মিক ছিল, যা পরিবারের জন্য ছিল এক ভয়াবহ ট্র্যাজেডি। দুর্ঘটনার ঠিক পরের দিনই তার সুজয় ঘোষের একটি হিন্দি কাজের জন্য মুম্বাই যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তার আগেই এই দুর্ঘটনা সবকিছু বদলে দেয়। এই চরম সংকটের মুহূর্তে মা নিজের ভেঙে না পড়ে ইতিবাচক মানসিকতা বজায় রেখেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এই সময়ে জীবনের ভালো দিকগুলো বা নিজের আশীর্বাদগুলোকে মনে করে ঈশ্বরের ওপর আস্থা রেখেই তিনি পরিবারকে আগলে রেখেছেন।

বর্তমানে ছেলের শারীরিক অবস্থার বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে, যা পরিবারের জন্য বড় স্বস্তির খবর। যদিও দুর্ঘটনার ফলে ছেলে এই মুহূর্তে কথা বলতে পারছেন না, কিন্তু এতে তার মনোবল ভাঙেনি। তিনি পরিবারের সদস্যদের সাথে মোবাইল বা অন্য কোনো মাধ্যমে টাইপ করে চমৎকারভাবে যোগাযোগ বজায় রাখছেন। এমনকি টাইপ করার মাধ্যমে তিনি নিজের প্রয়োজনীয়তা এবং মনের ভাব সুনিপুণভাবে প্রকাশ করছেন, যা তার দ্রুত সুস্থতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

মস্তিষ্কের গুরুতর আঘাতের পরেও সবচেয়ে আশার কথা হলো, তার বুদ্ধিমত্তা বা স্মৃতিশক্তির কোনো ক্ষতি হয়নি। চিকিৎসকদের অবাক করে দিয়ে সে জটিল শব্দের বানান ঠিক রাখতে পারছে, যা তার সুস্থ হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে বড় ইতিবাচক দিক। বড় দুর্ঘটনার পরেও তার মধ্যে’সেন্স অফ হিউমার’ বজায় রয়েছে, যা প্রমাণ করে সে মানসিকভাবে কতটা শক্ত। এই অদম্য মানসিক শক্তিই তাকে নতুন করে বাঁচার লড়াইয়ে সাহস জোগাচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ পশ্চিম এশিয়ার অশান্তির জেরে বিদেশে আতঙ্কের মাঝেই আটকে সন্দীপ্তা সেন! দেশে না ফিরতে পারায় দুশ্চিন্তায় অভিনেত্রী!

আগামী মার্চ মাসে ছেলের বয়স নয় বছরে পা দেবে। মা অত্যন্ত আশাবাদী যে, বর্তমানে যে উন্নতি দেখা যাচ্ছে, তাতে একদিন সে আবার পুরোপুরি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে। তিনি দৃঢ় বিশ্বাস করেন, অদূর ভবিষ্যতে সে নিজের পায়ে উঠে দাঁড়াতে পারবে, হাঁটতে পারবে এবং আগের মতোই সবার সাথে কথা বলতে পারবে। পরিবার এখন সেই দিনটির অপেক্ষাতেই দিন গুনছে।

Back to top button