‘মা বি’ষের শিশি এনে বলেছিল, সোনা একটা জিনিস দেব খাবি? তারপরে সবাই একসাথে ঘুমাবো!’ অনেক কষ্ট পেরিয়ে মিলেছে সফলতা! সেই দুর্দশার গল্প ভাগ করে নিলেন গায়িকা দেবলীনা নন্দী!

বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়া এবং ইউটিউবের জগতে দেবলীনা নন্দী (Debolina Nandy) একটি অত্যন্ত পরিচিত নাম। আজ তাঁর ইউটিউব চ্যানেলে ১০ লক্ষেরও বেশি মানুষ যুক্ত থাকলেও, এই সাফল্যের পেছনের পথটি ছিল কণ্টকাকীর্ণ। সেই কথা একবার এক সাক্ষাৎকারে ভাগ করে নিয়েছিলেন তিনি।
দেবলীনার সংগ্রামের শুরু হয়েছিল তাঁর ছোটবেলায়, যখন তাঁর বাবা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। লিভার এবং কিডনির সমস্যায় আক্রান্ত বাবার চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে পরিবারটি নিঃস্ব হয়ে পড়ে। দেবলীনা জানান, ‘ডাক্তাররা বলেও দিল যে বাবাকে মনে হয় না আর বাঁচানো যাবে।’ সেই সময় মা ও ভাইয়ের সাথে তাঁদের অনাহারে দিন কেটেছে। অভাবের তীব্রতা বোঝাতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার ভাই ম্যাগিটা খেয়ে নিচ্ছে আমি ম্যাগির জল খাচ্ছি…কেউ একটা মুড়ির প্যাকেট দিয়ে যাচ্ছে আমার ভাই মুড়ি খেয়ে নিচ্ছে আমি মুড়ি ভেজানোর জলটা খাচ্ছি।’
বিপদের সময় নিকটাত্মীয়দের কাছ থেকে সাহায্য পাওয়া তো দূরের কথা, উল্টো মানসিক লাঞ্ছনার শিকার হতে হয়েছিল তাঁদের পরিবারকে। বাবার অসুস্থতার জন্য তাঁর মাকে দায়ী করতেও ছাড়েননি অনেকে। দেবলিনা সেই দিনগুলোর কথা মনে করে বলেন, ‘সত্যি কথা বলছি আমি আজ অব্দি কোনো ফ্যামিলি মেম্বারের হেল্প পাইনি।’ পরিস্থিতির চাপে পিষ্ট হয়ে তাঁর মা একবার চরম সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথাও ভেবেছিলেন। দেবলীনা বলে, ‘মা একদিন দেখলাম যে বাড়িতে বিষের একটা শিশি নিয়ে এলো…মা বলছে যে সোনা মা একটা জিনিস খেতে দেবো খাবি তারপরে সবাই একসাথে ঘুমাবো।’
গানের প্রতি ভালোবাসা থাকলেও সেখানেও বাধা ছিল পদে পদে। রাত জেগে স্টেজ শো করার জন্য অপেক্ষা করা ছিল তাঁর নিত্যদিনের সঙ্গী। তিনি বলেন, ‘রাতে সাড়ে বারোটা একটা দুটো অব্দি আমাকে বসিয়ে রেখে দিচ্ছে যে সবার গাওয়া হবে তারপরে আমি দুটো গান গাইবো।’ এমনকি রিয়ালিটি শো-তে অডিশন দিতে গিয়েও তাঁকে যোগ্য সম্মান দেওয়া হয়নি। দেবলীনা আক্ষেপের সুরে জানান, ‘অডিশন দিতে ঢুকছি গানই শুনছে না জাস্ট একটা লাইন শুনে হয়ে গেছে।’
আরও পড়ুনঃ বিদেশের ঘরকন্যা ছেড়ে ফের লাইট ক্যামেরা অ্যাকশন! অভিনেত্রীর বিনোদন জগতে প্রত্যাবর্তন!
বারবার প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর দেবলীনা সিদ্ধান্ত নেন যে তিনি কারও দয়ায় নয়, নিজের প্রতিভায় পরিচিতি গড়বেন। তিনি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করতেন, ‘আমি এমন কিছু করবো যাতে আমাকে লোকে নিজের থেকে চেনে আমার পারফরম্যান্সের জন্য চেনে।’ সেই জেদ থেকেই ইউটিউবে তাঁর পথচলা শুরু এবং আজ তিনি ১ মিলিয়ন সাবস্ক্রাইবার সমৃদ্ধ একটি বড় পরিবারের মধ্যমণি।

