বিদেশের ঘরকন্যা ছেড়ে ফের লাইট ক্যামেরা অ্যাকশন! অভিনেত্রীর বিনোদন জগতে প্রত্যাবর্তন!

বাংলা টেলিভিশন (Bengali Television) জগতের পরিচিত মুখ তিনি। যিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান সঞ্চালনা এবং ধারাবাহিকে অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের কাছে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। সাবলীল উপস্থাপনা, পর্দায় স্বাভাবিক অভিনয় এবং প্রাণবন্ত ব্যক্তিত্বের জন্য তিনি দ্রুতই দর্শকমহলে আলাদা পরিচিতি পান। বিশেষ করে লাইভ শো ও স্টুডিওভিত্তিক অনুষ্ঠানে তাঁর আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি তাঁকে সমসাময়িকদের মধ্যে স্বতন্ত্র করে তোলে। তবে ক্যারিয়ারের মধ্যগগনে থাকা অবস্থাতেই ব্যক্তিগত কারণে তিনি আলোচনার কেন্দ্র থেকে সরে যান।
বিয়ের পর প্রিয়া বিদেশে পাড়ি দেন এবং শুরু হয় তাঁর জীবনের নতুন অধ্যায়। নতুন দেশ, নতুন সংস্কৃতি ও নতুন দায়িত্ব সব মিলিয়ে একেবারে ভিন্ন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয় তাঁকে। সংসার, সন্তান এবং পরিবারের প্রতি দায়িত্বই তখন হয়ে ওঠে তাঁর অগ্রাধিকার। একজন পূর্ণকালীন গৃহিণী ও মা হিসেবে নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তোলেন তিনি। মিডিয়ার ঝলকানি থেকে দূরে থাকলেও এই সময়টায় তিনি জীবনের অন্য এক পরিপূর্ণতা খুঁজে পান। সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকার করেন, শুরুতে মানিয়ে নেওয়া সহজ ছিল না, তবে পরিবারের সমর্থন ও নিজের দৃঢ় মনোবল তাঁকে স্থিতিশীল থাকতে সাহায্য করেছে।
তবে অভিনয় ও সঞ্চালনার প্রতি তাঁর ভালোবাসা কখনও পুরোপুরি মুছে যায়নি। বিদেশে সংসার সামলানোর ফাঁকেই তিনি নিজেকে প্রস্তুত রাখতেন পড়াশোনা, আত্মউন্নয়ন এবং মানসিকভাবে সক্রিয় থাকার মাধ্যমে। তিনি জানান, ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতা, দর্শকদের ভালোবাসা এবং কাজের প্রতি আবেগ তাঁকে বারবার টানত। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যখন সন্তান কিছুটা বড় হয় এবং পারিবারিক দায়িত্ব সামলে নেওয়া সহজ হয়, তখন আবার অভিনয়ে ফেরার ইচ্ছা জোরালো হয়ে ওঠে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর স্বামী ও পরিবারের উৎসাহ বড় ভূমিকা রেখেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
দীর্ঘ বিরতির পর আবার ফেরা সহজ ছিল না। পরিবর্তিত ইন্ডাস্ট্রি, নতুন প্রজন্মের শিল্পী এবং কাজের ধরণ সবকিছুই ছিল ভিন্ন। তবুও আত্মবিশ্বাস ও অভিজ্ঞতাকে সঙ্গী করে তিনি নতুন করে শুরু করেন। সাক্ষাৎকারে প্রিয়া কার্ফা (Priya Karfa) বলেন, বিরতির সময়টা তাঁকে মানসিকভাবে আরও পরিণত করেছে এবং জীবনের অগ্রাধিকার সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দিয়েছে। ফলে দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন ও প্রস্তুত। নিজের পরিচয় এবং স্বপ্নকে অস্বীকার না করে বরং সঠিক সময়ে ফিরে আসার সাহসই তাঁকে আলাদা করে তোলে।
আরও পড়ুনঃ পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করেই জনপ্রিয়তা! তিনি বাংলা সিরিয়ালের অতি পরিচিত মুখ! জেনে নিন সোমজিতা ভট্টাচার্যের জীবনের অজানা গল্প!
একজন অভিনেত্রীর ক্যারিয়ার বিরতি ও প্রত্যাবর্তনের কাহিনি নয় এটি একজন নারীর আত্মপরিচয়, দায়িত্ববোধ ও স্বপ্নপূরণের সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি। পরিবার ও পেশার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা যে সম্ভব, এবং সাময়িক বিরতি মানেই শেষ নয় এই বার্তাই স্পষ্ট হয়ে ওঠে তাঁর কথায়। প্রিয়া কার্ফার অভিজ্ঞতা অনুপ্রেরণা জোগায় তাঁদের, যারা জীবনের কোনো পর্যায়ে থেমে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

