‘কাশতে কাশতে গলা দিয়ে র’ক্ত বেরোচ্ছে তাও গেয়েছি…পেটে স্টেইন ছিল, ইউরিন দিয়ে র’ক্ত বেরিয়েছে তাও গান থামাইনি!’ ডাক্তারের বারণ না মেনেও শো করেছেন দেবলীনা! জমে থাকা সমস্ত অভিমান নিয়ে দর্শকদের দুয়ারে গায়িকা!

বর্তমান বাংলা সংগীত জগতের (Music Industry) এক প্রতিশ্রুতিমান এবং সুপরিচিত নাম দেবলীনা নন্দী (Debolina Nandy)। মূলত রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী হিসেবে নিজের যাত্রা শুরু করলেও, বর্তমানে তিনি আধুনিক গান এবং কভার সংগীতেও সমান জনপ্রিয়। শৈশব থেকেই সংগীতের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ ছিল। প্রথাগত শাস্ত্রীয় সংগীতের পাশাপাশি রবীন্দ্রসংগীতেও তিনি বিশেষ তালিম নিয়েছেন।

কেবল গানের মধ্যেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি দেবলীনা। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবে তিনি অত্যন্ত সক্রিয়। সোশ্যাল মিডিয়া নিত্যদিনের ব্লক ভিডিও শেয়ার করেন দেবলীনা। তবে বিগত কয়েকদিন ধরে সারা সোশ্যাল মিডিয়ায় জুড়ে ভাইরাল দেবলীনা। ৭৮ টা ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছিলেন দেবলীনা। আত্মহত্যা করার আগে ফেসবুকে লাইভে এসে নিজের সাথে ঘটে যাওয়া সমস্ত ঘটনার কথা জানান তিনি। শ্বশুরবাড়ি স্বামী শাশুড়ি সকলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। তারপর থেকেই সারা সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে ভাইরাল তিনি।

অনেকেই দেবলীনা সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে সহানুভূতি দেখালেও ৭৮ টি ঘুমের ওষুধ খেয়ে যখন আত্মহত্যার কথা সামনে আসে তখন তাকে নিয়ে শুরু হয় ট্রোল, সমালোচনা, হাসাহাসি। এবারে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে একটি ভিডিও পোস্ট করে মানুষের ট্রোল, সমালোচনার বিরুদ্ধে জবাব দিলেন দেবলীনা। সোশ্যাল মিডিয়ারতে ভিডিওর মাধ্যমে দর্শকের কাছে পরিচিতি পেয়েছেন তিনি। গানই তার পেশা। আর সেই গানের শো বিভিন্ন জায়গায় করেই দেবলীনাকে পেট চালাতে হয়। বাবা-মায়ের দায়িত্ব দেবলীনার উপরে। কিন্তু অনেক সময়ই শারীরিক অসুস্থতা বা গলা খারাপের জন্য সমস্যা হয়। কিন্তু এই অজুহাত গুলো দেবলীনা কখনো দেননি বলে দাবি করেন।

ভিডিওতে কিছু দর্শকের উদ্দেশ্যে ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে দেবলীনা বলেন, ‘আমরা তো আর শ্রেয়া ঘোষালদের মত বড় আর্টিস্ট নই, তাই আমাদের মরতে মরতে হলেও গান গাইতে যেতে হয়। বিভিন্ন জায়গায় শো এর ডেট থাকলে আমরা সেই ডেট পিছিয়ে দিতে পারি না। কারণ আমরা ছোটখাটো আর্টিস্ট। আমার অপারেশনের পর থেকেই মাঝেমধ্যে অনেক সমস্যা হয় ইউরিন এর মধ্যে দিয়ে রক্ত বের হয়। আবার কখনো ঠান্ডা লেগে গেলে গলা বসে গেলে গানের পিচ ওপর নিচে হয়ে যায়, গলার সুর সব সময় বসে না। আর সেই ভিডিওগুলো দেখেই অনেক দর্শক ট্রোল করে। আমি তো সোশ্যাল মিডিয়াতে অসংখ্য গানের ভিডিও পোস্ট করেছি। খালি গলাতেও বিভিন্ন সময় গান গেয়েছি। কিন্তু কিছু কিছু দর্শক ওই একটা ভিডিওর মাধ্যমে বিচার করে বসে। করোনার আগে এডিনো ভাইরাস বলে একটা ভাইরাস এসেছিল। সেই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলাম আমি। কথা বলতে পারতাম না কাশি হতে হতে গলা দিয়ে রক্ত বেরিয়ে যেত সেই অবস্থাতেও স্টেজে গান গাইতে হয়েছে।’

আরও পড়ুনঃ নতুন বছরে টলিউডে বিয়ের সানাই! বিয়ের গুঞ্জনে সিলমোহর অভিনেতার! সাতপাকে বাঁধা পড়তে চলেছেন রণজয়-শ্যামৌপ্তি!

একজন শিল্পী হিসেবে দর্শকদের হতাশ না করার দায়বদ্ধতা থেকে তিনি সেই অবস্থাতেই অনুষ্ঠান চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। শারীরিক যন্ত্রণা ও গলার রক্তক্ষরণ নিয়ে গান গাওয়া যে কতটা কষ্টসাধ্য, তা যে কেউ কল্পনা করতে পারেন না। এই প্রতিকূলতার কথা প্রকাশ্যে এনে দেবলীনা নন্দী মূলত ট্রোলিং দিকটি তুলে ধরেছেন। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, পর্দার ওপারে থাকা মানুষটির পেছনের গল্প না জেনে মন্তব্য করা কতটা অমানবিক হতে পারে। এত কষ্টের পরেও মঞ্চ না ছাড়া তার অদম্য জেদ এবং গানের প্রতি ভালোবাসারই বহিঃপ্রকাশ।

Back to top button