‘রিয়ালিটি শো তে থাকতে গেলে মিথ্যে গল্প বলতে হবে কেন?’ ‘মিথ্যে গল্প রং চড়িয়ে বলতে পারব না…গান গাইতে পারলে থাকবে, নয়তো বের করে দিন!’ জল মেশানো গল্প না বলে, মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন গায়িকার মা! ভয়ংকর সত্য সামনে আনলেন অন্বেষা দত্ত!

ভারতীয় সঙ্গীত জগতের এক উজ্জ্বল ও বহুমুখী প্রতিভার নাম অন্বেষা দত্ত। (Anwesha Dutta)। মাত্র ১৩ বছর বয়সে জাতীয় স্তরের রিয়েলিটি শো ‘ছোট ওস্তাদ’-এর মঞ্চ থেকে তাঁর পথচলা শুরু। ২০০৮ সালে বিখ্যাত পরিচালক ঋতুপর্ণ ঘোষের ‘খেলা’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে টলিউডে এবং মাত্র ১৪ বছর বয়সে ‘গোলমাল রিটার্নস’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে প্লেব্যাক গায়িকা হিসেবে তাঁর আত্মপ্রকাশ ঘটে। ‘রাঞ্ঝানা’ ছবির ‘বানারসিয়া’ বা সালমান খানের ‘প্রেম রতন ধন পায়ো’ ছবির জনপ্রিয় গান তাঁর কণ্ঠের জাদুতেই সমৃদ্ধ হয়েছে। বাংলা ও হিন্দি ছাড়াও তামিল, মারাঠি, কন্নড়ের মতো একাধিক ভাষায় প্রায় ৫০০-র বেশি চলচ্চিত্রে গান গাওয়া অন্বেষা ২০২৩ সালে সঙ্গীত পরিচালক হিসেবেও নিজের খাতা খুলেছেন। সুমিষ্ট কণ্ঠ আর মৃদুভাষী স্বভাবের এই মানুষটি বাংলা ও হিন্দি সঙ্গীতপ্রেমীদের অত্যন্ত প্রিয় এক মুখ।

আজকের দিনে টেলিভিশন পর্দার সঙ্গীত বা নাচের রিয়েলিটি শোগুলো দর্শকদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়। তবে এই শোগুলোর চটকদার দৃশ্য আর অতিরিক্ত নাটকীয়তা নিয়ে মাঝেমধ্যেই নেপথ্যের নানা গুঞ্জন শোনা যায়। সম্প্রতি ইউটিউব চ্যানেল ‘সিটি সিনেমা’-তে দেওয়া একটি দীর্ঘ ও মনোগ্রাহী সাক্ষাৎকারে অন্বেষা এবং তাঁর পরিবার এই রিয়েলিটি শোগুলোর ভেতরের কিছু বাস্তব সত্য তুলে ধরেছেন। গায়িকা ও তাঁর বাবা-মায়ের এই অকপট আলোচনায় উঠে এসেছে কীভাবে দর্শকদের আবেগ নিয়ে খেলা করার জন্য রিয়েলিটি শোগুলোতে কৃত্রিম পরিবেশ বা পূর্বপরিকল্পিত গল্প সাজানো হয়।

সাক্ষাৎকারে রিয়েলিটি শো-এর বিবর্তন এবং পরিবেশের পরিবর্তন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে অন্বেষা তাঁর জীবনের একটি বড় সত্যের মুখোমুখি করান দর্শকদের। অন্বেষা জানান, তিনি যখন রিয়েলিটি শো-তে প্রতিযোগী হিসেবে লড়াই করছিলেন, তখন প্রতিযোগিতার স্বার্থে তাঁর মাকে নিয়ে এক অদ্ভুত পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়েছিল। শো কর্তৃপক্ষ বা কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে তাঁর মাকে অন্বেষার জীবন ও সংগ্রাম নিয়ে কিছু ‘স্ক্রিপ্টেড’ মিথ্যে গল্প বলার জন্য অনবরত চাপ দেওয়া হয়েছিল, যাতে পর্দার ওপারে থাকা দর্শকদের মনে কৃত্রিম আবেগ তৈরি করা যায়।

আরও পড়ুনঃ অ’ভিশপ্ত ২০২৬-এ একের পর এক মৃ’ত্যু! মাত্র ৪৪ বছরেই মর্মান্তিক পরিণতি! না ফেরার দেশে জনপ্রিয় অভিনেতা! শোকস্তব্ধ বিনোদন দুনিয়া!

টেলিভিশন কর্তৃপক্ষের এমন অনৈতিক ও সাজানো প্রস্তাবের সামনে অন্বেষার মা কিন্তু মাথা নত করেননি। অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় এবং সাহসিকতার সাথে তিনি রিয়েলিটি শো-এর কর্মকর্তাদের মুখের ওপর নিজের আপত্তি জানিয়ে দেন। অন্বেষার মা কর্মকর্তাদের সোজা বলে দিয়েছিলেন যে, প্রচার বা লাইমলাইটে আসার জন্য তিনি নিজের বা মেয়ের ব্যাপারে কোনো বানিয়ে বলা মিথ্যে গল্পের আশ্রয় নিতে পারবেন না। টেলিভিশনের পর্দায় কোনো সস্তা নাটকীয়তা তৈরি করার চেয়ে নিজের সততা বজায় রাখাটা তাঁর কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

 

অন্বেষার মা কেবল মিথ্যে গল্প বলতেই অস্বীকৃতি জানাননি, বরং রিয়েলিটি শো-এর আসল উদ্দেশ্য অর্থাৎ প্রতিভার লড়াইকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন। কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তাঁর করা মন্তব্যটি ছিল অত্যন্ত জোরালো; তিনি বলেছিলেন, “সেটার জন্য আমার মেয়ে যদি গান গাইতে পারে থাকবে কম্পিটিশনে, না হলে আউট করে দেবেন।” অর্থাৎ, অন্বেষা যদি কেবল নিজের প্রতিভা এবং গায়কীর জোরে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারে তবেই থাকবে, কোনো সাজানো মিথ্যে আবেগের সহানুভূতির জোড়ে নয়। অন্বেষা ও তাঁর পরিবারের এই আপসহীন মনোভাব আজও ইন্ডাস্ট্রিতে এক বিরল উদাহরণ তৈরি করে রেখেছে।

Back to top button