দিতি-গোরার চোখে ধুলো দিয়ে ইন্দুকে অ’পহরণ করল রক্তিম! ননদকে রক্ষা করতে বিরাট ঝুঁকি নিল দিতি! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জি বাংলার (Zee Bangla) তারে ধরি ধরি মনে করি (Tare Dhori Dhori Mone Kori) ধারাবাহিকের গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, বাড়িতে ফেরার পর থেকেই কুন্তলের একের পর এক অসুস্থতার নাটক দিতির ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে দিয়েছিল। কুন্তলকে উচিত শিক্ষা দিতে দিতি এক অব্যর্থ কৌশল অবলম্বন করে। সে কুন্তলের নাকের সামনে শুকনো লঙ্কা পোড়ার ঝাঁঝালো গন্ধ ছড়িয়ে দেয়, যার ফলে কুন্তলের যাবতীয় অভিনয় মুহূর্তেই ভেস্তে যায়। ক্রমাগত হাঁচি আর কাশির দাপটে কুন্তল যখন নাস্তানাবুদ, তখন দিতি মনে মনে হাসে। তবে এই সাময়িক স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হয় না, কারণ পুজোর কেনাকাটার জন্য দিতিকে গোরার সাথে দশকর্মার দোকানে বেরোতেই হয়। বাড়ির প্রধান প্রহরীরা বাইরে পা রাখতেই ষড়যন্ত্রের নতুন জাল বিস্তার করতে শুরু করে বাড়িরই লোক পুলস্ত্য।
ইন্দুকে রক্তিমের হাত থেকে বাঁচাতে গোরা আর দিতি তাকে নিজেদের আশ্রয়ে নিয়ে এসেছিল ঠিকই, কিন্তু তারা ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি যে ঘরের শত্রু বিভীষণ হয়ে পুলস্ত্য তলে তলে রক্তিমকে সাহায্য করছে। পুলস্ত্য সুযোগ বুঝে রক্তিমকে জানিয়ে দেয় যে বাড়ির পুরুষরা পুজোর কাজে বাইরে রয়েছে। এই সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া না করে রক্তিম ছদ্মবেশ ধারণ করে গোস্বামী বাড়িতে অনুপ্রবেশ করে। একজন আইনজীবীর ছদ্মবেশে সে অত্যন্ত সুচতুরভাবে ইন্দুর বিশ্বাস অর্জন করার চেষ্টা করে। তার মূল লক্ষ্য ছিল ইন্দুকে ভুলিয়ে-ভালিয়ে নিজের ফাঁদে ফেলা এবং সুযোগ বুঝে তাকে অজ্ঞান করে অপহরণ করা।
রক্তিম যখন বাড়ির ভেতরে উকিল সেজে ইন্দুর ওপর মায়াজাল বিস্তার করছে, ঠিক তখনই বাইরে আরও এক বিপদের কালো মেঘ ঘনিয়ে আসে। রক্তিম কেবল নিজে আসেনি, বরং এক মহিলাকে ছদ্মবেশে গোরার বাড়িতে পাঠিয়েছিল পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে। এই রহস্যময়ী মহিলা বাড়ির চারপাশ টহল দিচ্ছিল যাতে রক্তিমের কাজে কোনো ব্যাঘাত না ঘটে। অশুভ শক্তির এই নিখুঁত পরিকল্পনা যখন প্রায় সফল হতে চলেছে, তখনই পরিস্থিতির মোড় ঘুরে যায়। কেনাকাটা সেরে ফেরার পথে মাঝরাস্তায় সেই সন্দেহভাজন মহিলার মুখোমুখি হয় দিতি এবং গোরা।
রাস্তায় সেই অদ্ভুত মহিলার আচরণ এবং তার গতিবিধি দেখে দিতি ও গোরার মনে সন্দেহের দানা বাঁধে। তারা বুঝতে পারে যে তাদের অনুপস্থিতিতে বাড়িতে বড় কোনো বিপদ ঘনিয়ে এসেছে। কোনো সময় নষ্ট না করে তারা দ্রুত বাড়ির দিকে রওনা হয়। একদিকে রক্তিম বাড়ির ভেতরে ইন্দ্রকে প্রায় বাগে এনে ফেলেছে, অন্যদিকে দিতি আর গোরা ঝড়ের গতিতে সমস্ত বাধা টপকে বাড়ির দিকে ধাবিত হচ্ছে। অশুভ শক্তির এই মারণ কামড় থেকে নিজেদের পরিবার আর ইন্দুকে রক্ষা করাই এখন তাদের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ‘আমি কোনো দলের পতাকা ধরিনি, দায় কেন নেব?’ ‘পলিটিক্যাল পার্টিগুলো আমাদের ফায়দা লুটছে…’ টলিউড ও রাজনীতি নিয়ে বিস্ফোরক লাবণী সরকার!
গোরা এবং দিতি বাড়ি ফিরেই এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন হয় তারা জানতে পারে যে ইন্দুকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কিছুক্ষণ আগেই রাস্তায় তাদের সেই কাপড় কাচার বউটির সাথে দেখা হয়েছিল, এদিকে গোস্বামী বাড়িতেও এক ছদ্মবেশী নারী সদস্যের অনুপ্রবেশ ঘটেছিল বলে তারা নিশ্চিত হয়। সব মিলিয়ে দিতি বেশ জোরালোভাবেই সন্দেহ করে যে, বাড়িতে ঢুকে পড়া ওই নকল মহিলাই সুকৌশলে ইন্দুকে বাড়ি থেকে সরিয়ে ফেলেছে বা গায়েব করেছে। ইন্দুকে উদ্ধারের নেশায় এখন এক গভীর রহস্যের জালে জড়িয়ে পড়ে গোরা ও দিতি। এবারে দেখার অপেক্ষা কি হয়।

