কোমায় বাবা-মা? সহায় সম্বলহীন অবলা নারী সেজে আবারও গোস্বামী বাড়িতে ঢুকে পড়ল কুন্তল! ষ’ড়যন্ত্রের আভাস পেল দিতি! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জি বাংলার (Zee Bangla) তারে ধরি ধরি মনে করি (Tare Dhori Dhori Mone Kori) ধারাবাহিকের গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, কুন্তলিনীর স্বভাব গত জন্ম থেকেই ছিল ভয়ঙ্কর, আর এই জন্মেও তার কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। দিতি তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার পর তার জেদ আগুনের মতো জ্বলে ওঠে। সে মনে মনে স্থির করে যে, যেকোনো মূল্যে আজ রাতের মধ্যেই তাকে ব্রজধামে ফিরতে হবে। এই ফেরার পথ প্রশস্ত করতে সে এক হাড়হিম করা পৈশাচিক ফন্দি আঁটে, যেখানে মানবিকতা বা সম্পর্কের কোনো স্থান ছিল না।
কুন্তলিনী কুটিল বুদ্ধিতে ঠিক করে, যদি তার বাবা-মা বেঁচে না থাকেন, তবে সে একা ও অসহায় হয়ে পড়বে। আর একজন নিরাশ্রয় মেয়েকে গোস্বামী বাড়ির কেউ দয়া করে তাড়িয়ে দিতে পারবে না। ব্রজধামে ফেরার ‘টিকিট’ পেতে সে নিজের জন্মদাতা বাবা-মাকেই বিষ খাইয়ে মেরে ফেলার ছক কষে। বাড়ি ফিরে গিয়ে সে অত্যন্ত স্বাভাবিক থাকার অভিনয় করে এবং তার মা জেরা শুরু করলে তাদের শান্ত করতে শরবত বানাতে যায়। সেই শরবতেই সে মিশিয়ে দেয় সাধকের দেওয়া সেই মরণঘাতী বিষ।
নিজের লক্ষ্যে পৌঁছাতে কুন্তলিনী এতটাই নিচে নেমে যায় যে, মা-বাবার হাতে বিষ তুলে দিতে তার হাত একবারও কাঁপেনি। তবে চতুর কুন্তল জানত, কেবল মা-বাবার মৃত্যু হলে তার ওপর সন্দেহ আসতে পারে। তাই নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে সে নিজেও সামান্য পরিমাণ বিষ পান করে। এর ফলে ঘটনাটি বিষক্রিয়া বা দুর্ঘটনার রূপ নেয় এবং মুহূর্তের মধ্যে এক বীভৎস নাটক তৈরি হয়।
বিষক্রিয়ার খবর দাবানলের মতো গোস্বামী বাড়িতে পৌঁছালে পরিবারের সকলেই উৎকণ্ঠিত হয়ে হাসপাতালে ছুটে যান। সেখানে জানা যায়, কুন্তলিনীর মা-বাবা কোমায় চলে গেছেন। কুন্তলিনীর পরিকল্পনা সফল হয়, কারণ সে আবারও সবার সহানুভূতি কুড়োতে সক্ষম হয়। কিন্তু দিতি প্রথম থেকেই কুন্তলিনীর স্বভাব সম্পর্কে সচেতন ছিল। সবার চোখে জল থাকলেও, দিতির তীক্ষ্ণ নজর এই গোটা ঘটনাকে একটি সাজানো নাটক হিসেবে সন্দেহ করতে শুরু করে।
আরও পড়ুনঃ পারুলের সন্দেহই কি তবে সত্যি? রুক্মিণী-ঋত্বিককে নিয়ে চন্দ্রাবতীর ভয়ংকর পরিকল্পনা ফাঁস! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব
পরের দিনই কুন্তলিনী নিজের ছক অনুযায়ী পুনরায় গোস্বামী বাড়িতে ফিরে আসে। অসহায়ত্বের মুখোশ পরে সে আবারও ব্রজধামে নিজের জায়গা করে নেয়। তবে দিতি দমে যাওয়ার পাত্রী নয়; সে কুন্তলিনীর এই প্রত্যাবর্তনের পেছনের আসল রহস্য বুঝতে পারে। সে সরাসরি গোরাকে নিজের সন্দেহের কথা জানায় এবং সতর্ক করে দেয় যে, এই দুর্ঘটনার আড়ালে লুকিয়ে আছে কুন্তলিনীর কোনো এক গভীর ও নোংরা খেলা।

