মন্দিরে আ’গুন লাগিয়ে দিল পুলস্ত্য! আ’গুনের মুখে দিতি-গোরা! তবে কি এই জন্মেও মিলন হবে না ফুল মুরারির! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জি বাংলার (Zee Bangla) তারে ধরি ধরি মনে করি (Tare Dhori Dhori Mone Kori) ধারাবাহিকের গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, দিতি ও গোরা যখন একটি পুরনো জরাজীর্ণ মন্দিরে পৌঁছাল, দিতি হঠাৎ খুব আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ল। তার মনে হতে লাগল এই মন্দিরটি তার খুব চেনা। ঠিক তখনই দিতির চোখের সামনে ভেসে উঠল তাদের গত জন্মের অনেক দৃশ্য। সে দেখতে পেল গত জন্মে তার নাম ছিল ‘ফুল’ আর গোরার নাম ছিল ‘মুরারি’। নিজেকে এবং গোরাকে আগের জন্মের রূপে দেখে দিতি নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিল না। এই প্রচণ্ড মানসিক চাপে সে সেখানেই অজ্ঞান হয়ে পড়ে যায়।
জ্ঞান ফেরার পর দিতি গোরাকে তার দেখা সব অদ্ভুত ঘটনার কথা খুলে বলে। গোরা প্রথমে অবাক হলেও দিতির কথায় সে বিশ্বাস করতে শুরু করে। ঠিক সেই সময় তারা দেখতে পায় ‘পুলস্ত্য’ নামে এক ব্যক্তি আড়াল থেকে তাদের ওপর নজর রাখছে। দিতি ও গোরা তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলে। দিতির সন্দেহ হয় যে, তার গান গাওয়ার সময় গলা খারাপ হওয়ার পেছনেও হয়তো এই পুলস্ত্যই দায়ী ছিল। তারা বুঝতে পারে পুলস্ত্য মোটেও ভালো মানুষ নয়।
কিন্তু সেই আবেগঘন মুহূর্ত বেশিক্ষণ টিকল না। পুলস্ত্য হঠাৎ হিংস্র হয়ে ওঠে এবং চারদিকে কেরোসিন ঢেলে মন্দিরে আগুন ধরিয়ে দেয়। সে চিৎকার করে বলতে থাকে যে, আজ পুরনো সব সম্পর্কের শেষ দেখে ছাড়বে। তার চোখেমুখে ছিল অনেক দিনের জমে থাকা ঘৃণা। পুলস্ত্যের একটাই জেদ—সে এই জন্ম থেকে দিতি আর গোরার নাম-নিশানা পুরোপুরি মুছে ফেলবে।
দেখতে দেখতে মন্দিরের ভেতরে আগুনের শিখা দাউদাউ করে জ্বলে উঠল। পুরো জায়গা ধোঁয়ায় ভরে যাওয়ায় পরিস্থিতি খুব বিপজ্জনক হয়ে পড়ে। গোরা বুঝতে পারে, আর এক মুহূর্ত দেরি করলে তারা পুড়ে মারা যাবে। সে দিতিকে বারবার তাড়া দেয় যেভাবেই হোক এখান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য। মৃত্যুভয় আর অসহায়তার মাঝেও তাদের মনে বেঁচে থাকার এক তীব্র ইচ্ছা ফুটে ওঠে।
আরও পড়ুনঃ বসু বাড়িতে দোলের রঙে বিষাদের ছায়া! উৎসবের আড়ালে ধ্বংসের ছক! সংযুক্তার মা’রণ-অ্যাসাইনমেন্ট শুরু! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব
ঠিক সেই সময় বাড়িতে দাদু ঠাকুর দিতি ও গোরার মঙ্গলের জন্য ভগবানের কাছে আকুল হয়ে প্রার্থনা শুরু করেন। তার বিশ্বাস ছিল যে কোনো বিপদ দিতি ও গোরাকে স্পর্শ করতে পারবে না। অন্যদিকে মন্দিরের ভেতর আগুনের লেলিহান শিখার মাঝে ঘেরাও হয়েও দিতি আর গোরা ভগবানের নাম জপতে শুরু করে। একদিকে পুলস্ত্যের প্রতিহিংসা আর অন্যদিকে ভগবানের ওপর অগাধ বিশ্বাস এই দুইয়ের লড়াইয়ে এক চরম মুহূর্ত তৈরি হয়।

