বৈষ্ণব পরিবারে সংস্কারের নতুন অধ্যায়! দিতির সাহসে বদলে গেল বংশের পুরনো নিয়ম! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জি বাংলার (Zee Bangla) তারে ধরি ধরি মনে করি (Tare Dhori Dhori Mone Kori) ধারাবাহিকের গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, গোরা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে যে দিতি একদম সঠিক পথেই চলছে। সে জানে দিতি কতটা সৎ এবং ন্যায়ের পক্ষে লড়াকু এক ব্যক্তিত্ব। পরিবারের পুরনো ধ্যান-ধারণা আর মায়ের কঠিন শাসনের চাপে গোরা সরাসরি মুখ খুলতে না পারলেও, মনে মনে সে দিতিকেই পূর্ণ সমর্থন জানায়। গোরার কাছে দিতির পাশে থাকা মানেই হলো সত্যের পাশে থাকা। সে চায় দিতিকে আটকে না রেখে তার এই সাহসী জেদকে সম্মান জানানো হোক, যদিও পরিস্থিতির ফেরে সে পুরোপুরি প্রকাশ্য হতে পারছে না।
পরদিন বৈষ্ণব পরিবারের সকলে মিলে এক উৎসবে প্রসাদ আনতে যায়। এই সুযোগের অপেক্ষাতেই ছিল কুচক্রী পুলস্ত্য ও কুন্তলি। তারা সারাক্ষণ ছায়ার মতো লেগে থাকে যাতে কোনোভাবে দিতিকে বিপদে ফেলা যায়। অন্যদিকে, দিতি নিজের লক্ষ্যে স্থির; সে মনে মনে পরিকল্পনা করছে কীভাবে সেখানে কীর্তন পরিবেশন করবে। পুলস্ত্য খুব ভালো করেই জানে যে, দিতি একবার যা জেদ ধরে তা করেই ছাড়ে। কিন্তু এই জেদ শেষ পর্যন্ত কী বিপদ ডেকে আনে, তা নিয়ে এক চাপা উত্তেজনা বিরাজ করে।

মেলায় পৌঁছে দিতি এক বুদ্ধির আশ্রয় নেয়। সে গোরা ও তার বোনকে আগে পাঠিয়ে দিয়ে নিজের জন্য কিছুটা সময় বের করে নেয়। সবাই যখন প্রসাদ নিয়ে ব্যস্ত, দিতি তখন গোপনে গানের সরঞ্জাম সাজিয়ে মেলার মাঝখানে কীর্তন গাইতে শুরু করে। তার সুললিত কণ্ঠে কীর্তনের সুর ছড়িয়ে পড়তেই হাজার হাজার ভক্ত মুগ্ধ হয়ে থমকে দাঁড়ায়। তার গানে তুষ্ট হয়ে অনেক মানুষ তাকে সানন্দে পারিশ্রমিকও প্রদান করেন, যা দিতির আত্মনির্ভরশীলতার পথকে প্রশস্ত করে।
সুখকর এই মুহূর্ত বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না। হঠাৎ করেই সেখানে গোরার মা এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত হন। বাড়ির বউকে প্রকাশ্য মেলায় গান গাইতে দেখে তারা রাগে অগ্নিশর্মা হয়ে ওঠেন। গোরা বুঝতে পারে যে এবার বাড়িতে বড় কোনো ঝড় উঠতে চলেছে। সেখান থেকে সকলে রাগে গজরাতে গজরাতে বাড়ি ফিরে যায়। বাড়িতে পৌঁছানোর পর শুরু হয় তুমুল অশান্তি। গোরার মা দিতির ওপর চিৎকার করে উঠলেও দিতি দমে যাওয়ার পাত্রী নয়; সে অত্যন্ত যুক্তি দিয়ে নিজের কাজের ব্যাখ্যা দিতে থাকে।
আরও পড়ুনঃ পারুলকে বাঁচাতে রুখে দাঁড়াল রায়ান! শিরিনের উন্মত্ততায় রায়ানের চরম হুঁশিয়ারি! টান টান উত্তেজনাময় ধারাবাহিকের আজকের পর্ব
দিতির অকাট্য যুক্তি আর সাহসের সামনে শেষ পর্যন্ত দাদুকে নতিস্বীকার করতে হয়। দিতি বুঝিয়ে দেয় যে সে পরনির্ভরশীল হয়ে থাকতে চায় না। দাদু দিতিকেই সমর্থন জানিয়ে ঘোষণা করেন যে, বাড়ির ছেলেরা যদি বাইরে গিয়ে ভগবত পাঠ করতে পারে, তবে বউরাও কীর্তন গাইতে পারবে। দাদুর এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তে বাড়ির বাকিরা স্তব্ধ হয়ে যায়। এখন দেখার বিষয়, দিতির এই সাহসী পদক্ষেপ এবং বাড়িতে পুলস্ত্যর উপস্থিতি আগামী দিনে আর কী কী নতুন সংকটের জন্ম দেয়।

