রান্নাঘরে মৃ’ত্যুর ফাঁদ! দিতিকে পু’ড়িয়ে মা’রার ছক কুন্তলার! সফল হবে কি এই পৈ’শাচিক পরিকল্পনা? দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জি বাংলার (Zee Bangla) অত্যন্ত জনপ্রিয় ও দর্শকনন্দিত ধারাবাহিকগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ‘তারে ধরি মনে করি’ (Tare Dhori Dhori Mone Kori)। বর্তমানে এই ধারাবাহিকের গল্প এমন এক রোমাঞ্চকর পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে, যেখানে প্রতি মুহূর্তেই নতুন নতুন রহস্যের জট খুলছে। গল্পের প্রধান খলনায়ক পুল্যস্ত ধারাবাহিকভাবে দিতিকে অপহরণ করার চেষ্টা করে যাচ্ছে, কিন্তু প্রতিবারই তার সেই হীন প্রচেষ্টা ব্যর্থ হচ্ছে।

গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, যেই গাড়িতে দিতিকে কিডন্যাপ করা হয়েছিল গোরা গাড়িটিকে রাস্তার মাঝখানে আটকে দেয়। গাড়ি থামিয়েই গোরা গুন্ডাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। দিতিকে উদ্ধারের নেশায় সে তখন মরণপণ লড়ছে। একাই কয়েকজনকে কুপোকাত করে দিতির কাছাকাছি যখন সে প্রায় পৌঁছে গেছে, ঠিক তখনই ঘটে সেই অঘটন। গোরার নজর যখন সামনে, তখন পেছন থেকে কেউ একজন তার মাথায় ভারী কিছু দিয়ে সজোরে আঘাত করে। সবাই ভাবে গোরা অজ্ঞান হয়ে গেছে কিন্তু তারা যখনই পালাতে যাবে ঠিক সেই মুহূর্তেই গাড়ি এগোয় না। গোরা নিজের সর্বশক্তি দিয়ে গাড়ি আটকে রাখে।

হঠাৎ করেই দিতির জ্ঞান ফিরে আসে। গাড়ির ভেতরে সে দেখতে পায় একদিকে গোরার ওপর নৃশংস আক্রমণ চলছে, আর অন্যদিকে পুল্যস্ত তাকে জোরপূর্বক আটকে রেখেছে। দিতি আর স্থির থাকতে না পেরে পুল্যস্তকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে গাড়ি থেকে নেমে আসে এবং সরাসরি গোরার পাশে গিয়ে দাঁড়ায়। শুরু হয় পালটা লড়াই। দিতির সক্রিয় প্রতিরোধ আর গোরার অটল মনোভাবের সামনে টিকতে না পেরে পুল্যস্ত তার দলবল নিয়ে কোনোক্রমে প্রাণ বাঁচিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। এরপর গোরা ও দিতি প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যায়। সেখানে নিজের ক্ষতস্থানগুলো সারিয়ে নিয়ে গোরা এক মুহূর্ত দেরি না করে দিতিকে সাথে নিয়ে সোজা হাজির হয় পুল্যস্তর নিজের বাড়িতে। তার উদ্দেশ্য ছিল সকলের সামনে পুল্যস্তর মুখোশ খুলে দেওয়া এবং তাকে সরাসরি জবাবদিহি করতে বাধ্য করা।

পুল্যস্তর বাড়িতে পৌঁছে গোরা এক চরম নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। তার চিৎকার-চেঁচামেচি আর মারমুখী আচরণে বাড়ির সকলে প্রথমে অত্যন্ত বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ হয়। কিন্তু গোরা পরোয়া না করে একের পর এক প্রমাণ দিতে শুরু করে যে কীভাবে পুল্যস্ত বারবার তার স্ত্রী রূপকে অপহরণ করার চেষ্টা করছে। দিতিও এবার আর চুপ থাকেনি সে অত্যন্ত দৃঢ় কণ্ঠে নিজেকে গোরার স্ত্রী রূপ বলে দাবি করে এবং পুল্যস্তর যাবতীয় অপকর্মের প্রতিবাদ জানায়। তবে এই উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের মাঝেই ঘটে যায় এক অভাবনীয় ও রহস্যময় কাণ্ড। চিৎকার করতে করতে দিতির গলা শুকিয়ে গেলে, সে কারো সাহায্য না নিয়েই বা কাউকে কিছু না জিজ্ঞেস করেই সোজা বাড়ির ভেতরের রান্নাঘরে ঢুকে পড়ে এবং সেখান থেকে জলের বোতল নিয়ে আসে।

আরও পড়ুনঃ ফাঁ’স মিঠির মাতৃত্ব! পরিস্থিতি সামলাতে মিটিলকে জানাতে বাধ্য হল কমলিনী! আড়াল থেকে কি আরও কেউ শুনে নিল সবটা? দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

দিতির এই আচরণ দেখে উপস্থিত সকলেই বাকরুদ্ধ হয়ে যায়। সবার মনে একটাই বড় প্রশ্ন জেগে ওঠে দিতি যদি এই বাড়ির কেউ না হয়ে কেবল গোরার স্ত্রী রূপ হয়, তবে সে কি করে জানলো রান্নাঘরটি কোথায় এবং সেখানে জলের বোতল কোথায় রাখা থাকে, তা নিখুঁতভাবে জানল কী করে? এই একটি সাধারণ কাজ গোরার সাজানো পরিকল্পনা আর দাবির মুখে সন্দেহের পাহাড় খাড়া করে দেয়। বাড়ির লোকজন এবং পুল্যস্ত গোরার দিকে সন্দেহের আঙুল তোলে, যদিও গোরা অত্যন্ত চতুরতার সাথে সেই মুহূর্তের পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে। গোরার ভয় হতে থাকে দিতির অবচেতন মনে থাকা স্মৃতি কি তবে ধীরে ধীরে ফিরে আসছে, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো গূঢ় রহস্য তা নিয়ে এখন দর্শকমহলে জল্পনার অন্ত নেই।

Back to top button