তান্ত্রিকের শ’ব সাধনার রাতে মহাশ্মশানে ছদ্মবেশে দিতি-গোরা! তারা ফেরাতে পারবে কি গোস্বামী বাড়ির দারুব্রহ্ম?

জি বাংলার (Zee Bangla) তারে ধরি ধরি মনে করি (Tare Dhori Dhori Mone Kori) ধারাবাহিকের গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, সংকটজনক মুহূর্ত থেকেই শুরু হয় দিতির জীবনের সবচেয়ে বড় এবং কঠিন পরীক্ষা। একদিকে কোনো অবস্থাতেই পুজোর ব্রত ভাঙা সম্ভব নয়, অন্যদিকে এই শেষ মুহূর্তে পুজোর ফুল জোগাড়ের জন্য কাউকে ডাকাও কোনোভাবে সম্ভব ছিল না। পুরো পরিস্থিতিটা যেন দিতিকে এক লহমায় সম্পূর্ণ একাকী ও নিরুপায় করে দেয়। তবে সেই চরম অসহায় মুহূর্তেও দিতির প্রার্থনার দৃশ্যটা ছিল সত্যিই খুব সুন্দর ও মর্মস্পর্শী। চারপাশের ভয় ও অনিশ্চয়তাকে ছাপিয়ে সেখানে অনেক বেশি শক্তিশালী ও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল ভগবানের প্রতি তার অটল বিশ্বাস।

রামায়ণের মহাকাব্যিক অকালবোধনের গল্পটার সঙ্গে দিতির এই পরিস্থিতির এক অপূর্ব মেলবন্ধন। ত্রেতাযুগে শ্রীরামচন্দ্র দেবী দুর্গার পুজোর জন্য ১০৮টি নীল পদ্ম জোগাড় করেছিলেন এবং একটি পদ্ম কম পড়ায় নিজের পদ্মসদৃশ চোখটিই দেবীর চরণে উৎসর্গ করতে যাচ্ছিলেন। ঠিক সেই পৌরাণিক ত্যাগের পথেই যেন পা বাড়াতে প্রস্তুত হয় দিতি; নিজের ভক্তির চরম পরাকাষ্ঠা দেখাতে সে একটুও পিছপা হয়নি।

দিতির সেই চূড়ান্ত আত্মত্যাগের ঠিক আগের মুহূর্তে স্বয়ং শচীমাতা সেখানে আবির্ভূত হন এবং তাকে দর্শন দেন। মা পরম স্নেহে দিতিকে জানান যে, সে তার ভক্তির কঠিন পরীক্ষায় সসম্মানে উত্তীর্ণ হয়েছে। মায়ের এই অলৌকিক উপস্থিতি ও আশীর্বাদে অবশেষে সমস্ত অমঙ্গল কেটে যায়। মায়ের আশ্বাসে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, এবার সব বাধা দূর হয়ে গোস্বামী বাড়িতে পুজো সফলভাবে সম্পন্ন হবে। এর পরপরই দিতি জ্ঞান হারিয়ে লুটিয়ে পড়ে এবং তার গান হঠাৎ থেমে যাওয়ায় বাড়ির সবাই অত্যন্ত অবাক হয়ে যায়।

গোরা ও তার দাদুসহ সবাই উপরে ছুটে গিয়ে দেখে দিতি অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে। জ্ঞান ফেরার পর সকলে লক্ষ্য করে যে সেখানে পদ্মফুলের মালাটি নেই। দিতি তখন সবাইকে শচীমাতার দেখা দেওয়ার কথা জানালে তারা ভীষণ অবাক হয়। এরপর মহাপ্রভুর মন্দিরে গিয়ে দেখা যায়, সেই চুরি যাওয়া পদ্মফুলের মালাটি অলৌকিকভাবে মহাপ্রভুর গলায় শোভা পাচ্ছে! এর ফলে কুন্তলের সমস্ত কুৎসিত প্ল্যান ও ষড়যন্ত্র নিমেষেই মাটিতে মিশে যায়, গোস্বামী বাড়ির কোনো ক্ষতি সে করতে পারে না। এরপর গোরা মহাপ্রভুর সামনে ধ্যানে বসলে তার সামনে ভেসে ওঠে একটি অলৌকিক দৃশ্য, যেখানে সে দেখতে পায় তাদের চুরি হয়ে যাওয়া পবিত্র দারুব্রহ্ম কাঠটি কোথায় লুকিয়ে রাখা আছে।

আরও পড়ুনঃ ‘আর এসব প’রকীয়ার গল্প দেখানো চলবে না…’ বন্ধ হবে এই ধরনের কুরুচিকর মেগা? বাংলা সিরিয়ালের বিষয়বস্তু নিয়ে কড়া বার্তা পাপিয়া অধিকারীর!

সব কথা শোনার পর দাদু বুঝতে পারেন যে সেই পুরনো শয়তান আবার ফিরে এসেছে। তখন দিতি প্রতিজ্ঞা করে, যত বাধা-বিপত্তিই আসুক না কেন, সে এবং গোরা মিলে দারুব্রহ্ম কাঠ ফিরিয়ে আনবেই। গোরা তার ধ্যানের মাধ্যমে জানতে পেরেছে যে ওই শয়তান লোকটি রাতে ‘শব সাধনা’ করবে। আর এই সুযোগটাকেই কাজে লাগাতে চায় সে। গোরা দিতিকে জানায়, তাকে মৃতদেহ সেজে ওই তান্ত্রিকের কাছে পৌঁছাতে হবে, তবেই তারা দারুব্রহ্ম উদ্ধার করতে পারবে। এখন দেখার বিষয়, আগামী পর্বে তারা এই বিপজ্জনক মিশনে কতটা সফল হতে পারে!

Back to top button