পরিত্যক্ত নয়, পুলস্ত্যও ব্রজধামেরই ছেলে! বাবার গোপন পরিচয় হয়ে উঠল পুলস্ত্যর সবচেয়ে বড় শক্তি! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জি বাংলার (Zee Bangla) তারে ধরি ধরি মনে করি (Tare Dhori Dhori Mone Kori) ধারাবাহিকের গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, ভোগ নিবেদন ও নাম সংকীর্তনের পর যখন প্রসাদ বিতরণের প্রস্তুতি চলছিল, তখনই এক রহস্যময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। দিতি নিচে প্রসাদ বিলিতে ব্যস্ত থাকায় বিশাখা দোতলায় যায় সিন্নি মাখার বাসন আনতে। ফেরার পথে হঠাৎ লাইব্রেরি ঘর থেকে অদ্ভুত শব্দ শুনে তার সন্দেহ হয়। সে দেখে ঘরের তালা খোলা, অথচ চাবি থাকার কথা দিতির কাছে। বিশাখা ভেতরে ঢুকে চিৎকার করলেও কাউকে দেখতে না পেয়ে দ্রুত নিচে গিয়ে সকলকে খবর দেয় যে বাড়িতে কোনো বহিরাগত ঢুকেছে।

অন্যদিকে, লাইব্রেরি ঘরের ভেতর লুকিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছিল পুলস্ত্য। কাব্য ও পুরনো নথিপত্র খুঁজতে খুঁজতে হঠাৎ সে একটি ধুলোমাখা পুরনো বাঁধানো ছবি খুঁজে পায়। ভালো করে লক্ষ্য করতেই সে চমকে ওঠে সেটি ছিল তার নিজের বাবা-মায়ের ছবি। গোস্বামী বাড়িতে নিজের বাবা-মায়ের ছবি দেখে সে হকচকিয়ে যায় এবং ভবিষ্যতের প্রমাণের জন্য তড়িঘড়ি নিজের ফোনে সেই ছবিটির একটি ফটো মোবাইলে তুলে নেয়।

বিশাখার খবরে দিতি ও গোরা সতর্ক হয়ে যায়। বাড়ির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গোরা তৎক্ষণাৎ সমস্ত দরজা বন্ধ করার নির্দেশ দেয় যাতে চোর পালাতে না পারে। এরপর তারা লাইব্রেরি ঘরে তল্লাশি চালায়, কিন্তু পুলস্ত্য ততক্ষণে ছদ্মবেশে ভিড়ের মধ্যে মিশে গেছে। অদ্বিতীয়া সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করতে একে একে উপস্থিত মহিলাদের ঘোমটা সরাতে শুরু করলে পুলস্ত্য ভয় পেয়ে যায়। ধরা পড়ার ঠিক আগের মুহূর্তে সে অদ্বিতীয়াকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে বাড়ির বাইরে পালানোর চেষ্টা করে।

আরও পড়ুনঃ ষ’ড়যন্ত্রের জালে পারুল! জ্ঞান ফিরতেই মৌসুমীকে হাতেনাতে ধরল সে! ফাঁস হলো পানে ওষুধ মেশানোর রহস্য! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

পালিয়ে যাওয়া পুলস্ত্যর পিছু নেয় গোরা ও অদ্বিতীয়া। রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় উপস্থিত এক মহিলার পুজোর থালা থেকে অদ্বিতীয়া একটি নারকেল তুলে নিয়ে লক্ষ্যভেদ করে পুলস্ত্যর দিকে ছুঁড়ে মারে। নারকেলের আঘাত এবং পরনের শাড়িতে পা আটকে পুলস্ত্য রাস্তায় আছড়ে পড়ে। সেই সুযোগে গোরা ও অদ্বিতীয়া তাকে ধরে ফেলে এবং টেনে-হিঁচড়ে গোস্বামী বাড়ির দালানে নিয়ে আসে। অপমানের চূড়ান্ত পর্যায়ে পুলস্ত্যকে ঘাড়ধাক্কা দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। তবে বাড়ির ভেতরেও পরিস্থিতি শান্ত হয় না। দিতি খাবার অনুরোধ করলে গোরার মা তীব্র অনীহা প্রকাশ করে প্লেট সরিয়ে দেন এবং জানিয়ে দেন তিনি দিতির হাতের খাবার ছোঁবেন না।

বাড়ি থেকে বিতাড়িত হলেও পুলস্ত্য এক বিশাল সত্যের মুখোমুখি হয়। নিজের বাবার কাছ থেকে সে জানতে পারে এক গোপন পারিবারিক ইতিহাস। এতদিন সে যে বাড়িটিকে নবদ্বীপের সাধারণ আদি বাড়ি বলে জেনে এসেছে, সেটি আসলে কোনো সাধারণ ভিটে নয় সেটিই তাদের বাড়ি। এবারে দেখার অপেক্ষা কি হয় আগামী পর্বে।

Back to top button