রক্তিমের বোনা ম’রণজালে বন্দি মধু আর ইন্দু! দিতি কি পারবে বিপদের মুখ থেকে দুজনকে ফিরিয়ে আনতে?দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জি বাংলার (Zee Bangla) তারে ধরি ধরি মনে করি (Tare Dhori Dhori Mone Kori) ধারাবাহিকের গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, অচিন্ত্য ও মধু বাড়ি থেকে বেরোনোর মুহূর্তেই গোস্বামী বাড়ির দালানে কালো ফুল উড়ে এসে পড়ে। এই অলক্ষণ দেখে দিতি বা অদ্বিতীয়া নিশ্চিত হয় যে কোনো বড় বিপর্যয় ঘটতে চলেছে। সেই আশঙ্কাই সত্যি হয় যখন পথের মাঝে রক্তিমের গুণ্ডারা তাদের ওপর অতর্কিতে হামলা চালায়। আসলে ঘরের শত্রু ভুলু আগেভাগেই রক্তিমকে খবর দিয়ে দিয়েছিল যে তারা বাড়ি থেকে বেরিয়েছে। রক্তিমের লোকজনের প্রচণ্ড মারে অচিন্ত্য ধরাশায়ী হয়ে পড়ে এবং গুণ্ডারা জোরপূর্বক মধুকে তুলে নিয়ে যায়। দিতি ও গোরা আপ্রাণ চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত রক্তিমের নিষ্ঠুর চালের কাছে হার মানতে বাধ্য হয়।
রক্তিম এবার এক কুটিল চাল চেলে তার নিজের বোন ইন্দুকে দাবার ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করা শুরু করে। সে ভেবেছিল ইন্দুকে নিয়ন্ত্রণে নিলে দিতি দুর্বল হয়ে পড়বে, কিন্তু দিতি দমে যাওয়ার পাত্রী নয়। সে সাফ জানিয়ে দেয় যে, ইন্দুর গায়ে যদি সামান্য আঁচটুকুও লাগে, তবে সে রক্তিমকে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে খুঁজে বের করবে। দিতি শপথ নেয় যে ইন্দুর কোনো ক্ষতি হলে সে রক্তিমকে এমন শিক্ষা দেবে যা সে কোনোদিন কল্পনাও করতে পারবে না। বোনের সুরক্ষাকে হাতিয়ার করে রক্তিম যে খেলা শুরু করেছিল, দিতির তেজ তাকে উল্টে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দেয়।
মধু ও অচিন্ত্যর খোঁজে গোরা আর দিতি পুলিশের দ্বারস্থ হয়। তারা চেয়েছিল রক্তিমের ফোন নম্বর ট্র্যাক করে তার গোপন আস্তানা খুঁজে বের করতে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, সংশ্লিষ্ট পুলিশ অফিসার ছিল রক্তিমের কেনা লোক, যে কারণে সে তদন্তে কোনোভাবেই সাহায্য করতে চাইছিল না। অগত্যা দিতি তার রণচণ্ডী রূপ ধারণ করে এবং সাপ দিয়ে ভয় দেখিয়ে ওই দুর্নীতিগ্রস্ত অফিসারকে কাবু করে ফেলে। প্রাণের ভয়ে শেষ পর্যন্ত ওই পুলিশ অফিসার নতি স্বীকার করে এবং দিতির নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করতে বাধ্য হয়।
পুলিশের সাহায্য নিয়েও দিতি সফল হতে পারে না কারণ রক্তিম এবার অত্যন্ত সতর্ক। সে সবরকম ট্র্যাকিং ব্যবস্থা এড়িয়ে মধুকে একটি গোপন জায়গায় নিয়ে যায় এবং সেখানে তড়িঘড়ি করে এক অচেনা পাত্রের সাথে তার বিয়ের আয়োজন করে। একদিকে যখন দিতি ও গোরা পাগলের মতো হন্যে হয়ে মধুকে খুঁজছে, অন্যদিকে রক্তিম ভয় দেখিয়ে ও জোর খাটিয়ে মধুকে বিয়ের পিঁড়িতে বসিয়ে দেয়। রক্তিমের উদ্দেশ্য ছিল দিতিকে চূড়ান্ত পরাজিত করা।
আরও পড়ুনঃ ‘একসঙ্গেই তো কাজ করেন, সামনাসামনি বলা যেত না?’ ‘ইচ্ছে করে এসব কাদা ছোড়াছুড়ি…’ জীতু বিতর্কে নতুন মোড়! পায়েলের অভিযোগের জবাবে সরব সুদীপা চট্টোপাধ্যায়!
সবশেষে রক্তিম দিতিকে ফোন করে এক চরম অমানবিক চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয়। সে জানায় একদিকে মধুর বিয়ে সম্পন্ন হচ্ছে, অন্যদিকে সে ইন্দুকে নিয়ে এক বিপজ্জনক খেলা খেলছে। রক্তিম ইন্দুকে ছাদে নিয়ে গিয়ে কানামাছি খেলার নাম করে তার চোখ বেঁধে দেয় এবং ইন্দুর জীবন এখন বিপন্ন। দিতি মহাপ্রভুর আশীর্বাদ ও গোরার হাত ধরে বুক ভরা সাহস নিয়ে এগিয়ে চললেও পরিস্থিতি ক্রমে নাগালের বাইরে চলে যায়। দিতি যখন রক্তিমকে রুখে দেওয়ার শপথ নিচ্ছে, ঠিক তখনই চোখ বাঁধা অবস্থায় ইন্দু ছাদের একেবারে কিনারে পৌঁছে যায়, যা এক ভয়াবহ পরিণতির ইঙ্গিত দেয়।

