মন্দির প্রাঙ্গণে প্রেমের সুর! দিতি ও গোরার মায়াবী যুগলবন্দীতে মুগ্ধ সকলে! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জি বাংলার (Zee Bangla) তারে ধরি ধরি মনে করি (Tare Dhori Dhori Mone kori) ধারাবাহিকের গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, দিতি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার সময় যাতে তার গাড়ি চালানো নিয়ে পরিবারের কেউ কোনো সন্দেহ বা প্রশ্ন তুলতে না পারে, সেজন্য গোরা আগেভাগেই দূরদর্শিতার পরিচয় দেয়। সে গোপনে রূপের নামে একটি ভুয়া ড্রাইভিং লাইসেন্স তৈরি করে রাখে, যাতে প্রয়োজনে সেটিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা যায়। তবে গোরার এই পরিকল্পনা কুন্তলের তীক্ষ্ণ নজর এড়াতে পারেনি। কুন্তল নিশ্চিত ছিল যে চালকের আসনে থাকা মেয়েটি রূপ নয়, কারণ ছোটবেলা থেকেই রূপ প্রতিটি ছোটখাটো বিষয় কুন্তলীর সাথে ভাগ করে নিত। এত বড় একটা দক্ষতা সে লুকিয়ে রাখবে, তা কুন্তলীর কাছে অবিশ্বাস্য মনে হয়।
পরদিন সকালে এক অভূতপূর্ব দৃশ্য দেখে বাড়ির সবাই চমকে যায়। দিতি একাই পুরো মন্দির প্রাঙ্গণ রঙবেরঙের ফুল দিয়ে অপূর্বভাবে সাজিয়ে তোলে। গোরার ভাই-বোনেরা আগে থেকেই জানত যে দিতি বিশেষ কিছু একটা করার পরিকল্পনা করছে, কিন্তু মূল পরিকল্পনাটি তাদের কাছেও পরিষ্কার ছিল না। স্বয়ং গোরাও দিতির এই বিশাল কর্মযজ্ঞ দেখে অবাক হয়ে যায়। তবে গোরার মা বিষয়টিকে সহজভাবে নেননি। তিনি বাড়ির শৃঙ্খলা ও নিজের কর্তৃত্ব বজায় রাখতে দিতিকে কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দেন এবং সাফ জানিয়ে দেন যে, তার অনুমতি ছাড়া এ বাড়িতে কোনো কিছুই হওয়া সম্ভব নয়।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে দিতি শান্তভাবে জানায় যে, সে সন্ধ্যার জন্য সবার জন্য একটি সুন্দর চমক প্রস্তুত করেছে। কিন্তু গোরার মা নাছোড়বান্দা বিস্তারিত না জেনে তিনি কোনো উৎসব হতে দিতে রাজি নন। অগত্যা দিতি প্রকাশ করে যে, সে সবাইকে নিয়ে ভ্যালেন্টাইন্স ডে পালন করতে চায়। এ কথা শুনে গোরার মা ভীষণ রেগে যান, কারণ তাদের রক্ষণশীল পরিবারে এমন পাশ্চাত্য সংস্কৃতির কোনো স্থান নেই। কিন্তু দিতি পিছু হটে না সে যুক্তি দেয় যে মহাপ্রভু নিজেই জগতকে ভালোবাসার শিক্ষা দিয়েছেন, তাই ভালোবাসার উৎসব পালন করলে ঈশ্বর অসন্তুষ্ট হবেন না।
দিতির এমন সুন্দর ও আধ্যাত্মিক যুক্তি শুনে গোরার দাদু মুগ্ধ হন। তিনি পুরো বিষয়টি বুঝতে পেরে দিতিকে উৎসবটি পালন করার অনুমতি প্রদান করেন। দাদুর এই সিদ্ধান্তে বাড়ির কর্ত্রী অর্থাৎ গোরার মা ভীষণ অপমানিত ও ক্রুদ্ধ বোধ করলেও, বড়দের সিদ্ধান্তের সামনে তিনি আর বাধা দিতে পারেন না। এভাবেই দিতির বুদ্ধিমত্তা আর দাদুর সমর্থনে বাড়ির কঠোর নিয়মের বেড়াজালে এক টুকরো নতুনত্বের আলো প্রবেশ করে।
আরও পড়ুনঃ রায়ানের হুঁশ ফেরাতে চরম সিদ্ধান্ত! এবার কি তবে ডিভোর্স পেপারে সইটা করেই দেবে পারুল? দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব
অবশেষে সন্ধ্যাবেলা মন্দির প্রাঙ্গণে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দিতি যে আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিণত ও শান্ত হয়েছে, তার প্রমাণ পাওয়া যায় আয়োজনের প্রতিটি স্তরে। গোরা শুরুতে মায়ের রাগের ভয়ে কিছুটা কুঁকড়ে থাকলেও, অনুষ্ঠানের স্নিগ্ধতা তাকেও ভরসা দেয়। অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল গোরা ও দিতির অসাধারণ যুগলবন্দী নৃত্য এবং গান। তাদের সেই সাবলীল পরিবেশনা উপস্থিত প্রত্যেকের মন ছুঁয়ে যায় এবং উৎসবটি এক অনন্য পূর্ণতা পায়।

