রায়ানের হুঁশ ফেরাতে চরম সিদ্ধান্ত! এবার কি তবে ডিভোর্স পেপারে সইটা করেই দেবে পারুল? দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

নিত্য নতুন চমক নিয়ে হাজির হচ্ছে জি বাংলার (Zee Bangla) পরিণীতা (Parineeta) ধারাবাহিক। অনিরুদ্ধ পরিবারের সকলের কাছে নিজের মনের ইচ্ছা প্রকাশ করে জানায় যে, সে এই বাড়িরই একজন হয়ে উঠতে চায়। সে চায় বাড়ির সদস্যরা যেন তাকে শুধু জামাই হিসেবে নয়, বরং ঘরের ছেলে হিসেবেই গ্রহণ করে এবং কখনও দূরে ঠেলে না দেয়। অনিরুদ্ধের এমন আন্তরিক কথায় পরিবারের সকলেই আশ্বস্ত হয় এবং তার ওপর ভরসা খুঁজে পায়। এই আবেগময় মুহূর্তের মাঝেই সকলে উপলব্ধি করে যে, পিসিমনির বিয়ের দিনটি আসলে ‘ভ্যালেন্টাইন্স ডে’ বা ভালোবাসার দিনেই পড়েছে। প্রথমে সকলে ভুলে থাকলেও পরে বিষয়টি মনে পড়তেই বাড়ির ছোট-বড় সবাই মেতে ওঠে দিনটি পালনের আনন্দে।
উৎসবের আমেজে বাড়ির সবাই যখন একে অপরকে গোলাপ দিয়ে ভালোবাসা জানাচ্ছে, তখন অনিরুদ্ধও তার স্ত্রীকে গোলাপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে সে জানত না যে রায়ানের দাদু অত্যন্ত রাগী স্বভাবের এবং এসব আধুনিক রীতি-নীতি একদমই পছন্দ করেন না। দাদুর কড়া মেজাজ সম্পর্কে বিন্দুমাত্র ধারণা না থাকায় অনিরুদ্ধ বেশ সাবলীলভাবেই বিষয়টি নিয়ে কথা বলে, যা বাড়ির অন্য সদস্যদের মনে কিছুটা শঙ্কা জাগিয়ে তোলে। কারণ, দাদুর এই রাগী স্বভাবের সাথে মানিয়ে নেওয়া অনিরুদ্ধের জন্য মোটেও সহজ ছিল না।

পরিবারের গুমোট ভাব কাটাতে পারুল অনেক সাহস নিয়ে দাদুকে অনুরোধ করে ঠাম্মিকে একটি গোলাপ দেওয়ার জন্য। কিন্তু দাদু নিজের জেদ বজায় রেখে কিছুতেই রাজি হন না। শেষমেশ ঠাম্মি নিজেই সাহস সঞ্চয় করে সকলের অনুপ্রেরণায় দাদুর দিকে গোলাপ বাড়িয়ে দেন। প্রথমে দাদু প্রচণ্ড রেগে যান এবং পারুলের ওপর বিরক্ত হয়ে জানান যে, তিনি পারুলের থেকে এমন ব্যবহার আশা করেননি। তবে মান-অভিমানের পালা শেষে দাদুর রাগ জল হয়ে যায় এবং তিনি পরিবারের সবার সাথে আনন্দ-তামাশায় মেতে ওঠেন।
এদিকে বাসর ঘরে যখন নাচ-গান আর হইহুল্লোড় তুঙ্গে, তখন রুক্মিণী একলা মনে গোপালকে ভীষণভাবে মিস করতে থাকে। অন্যদিকে, পারুল রায়ানের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত ভালোবাসা না পেয়ে মনে কষ্ট নিয়ে সেখান থেকে সরে যায়। বাসর ঘরে বাড়ির সবাই মিলে যখন রায়ানের মনের মানুষের নাম জানার জন্য তাকে চেপে ধরে, রায়ান সুকৌশলে প্রসঙ্গটি এড়িয়ে যায়। রায়ানের এই নিরবতা বাড়ির বড়দের দুশ্চিন্তায় ফেলে দেয় যে কেন সে নিজের অনুভূতিগুলো প্রকাশ করছে না।
আরও পড়ুনঃ ১২ বছরের ভালোবাসা হারিয়ে ভালোবাসার নতুন সংজ্ঞা দিলেন রণিতা দাস! ‘যারা ভালোবাসার মূল্য দেয় না, প্রেম দিবসটা তাদের জন্যই…’ প্রেম নিয়ে কি বললেন অভিনেত্রী?
রায়ানের জেদ ভাঙতে এবং পারুলের প্রতি তার ভালোবাসা পরখ করতে দাদু এক অভিনব কৌশল অবলম্বন করেন। দাদুর বিশ্বাস, রায়ান আসলে পারুলকে ভালোবাসলেও তা স্বীকার করছে না। তাই রায়ানের বাবা পারুলকে ডেকে জানান যে, এবার হয়তো রায়ানের সাথে বিচ্ছেদের বা ডিভোর্সের কথা ভাবতে হবে। তাঁদের ধারণা, ডিভোর্সের ভয় দেখালে হয়তো রায়ানের হুঁশ ফিরবে এবং সে নিজের মনের কথা বলতে বাধ্য হবে। এখন দেখার বিষয়, আগামী পর্বে পারুল কি সত্যিই ডিভোর্স ফাইলে সই করবে নাকি রায়ান তার ভালোবাসা স্বীকার করে নেবে।

