আবারো গোস্বামী বাড়িতে বিপদের ছায়া! একজোট চার অশুভ শক্তি! গোরা-দিতি কি পারবে এই ভয়ানক ষড়’যন্ত্র রুখতে?

জি বাংলার (Zee Bangla) তারে ধরি ধরি মনে করি (Tare Dhori Dhori Mone Kori) ধারাবাহিকের গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, গোরার সাথে পুনরায় সেই তিন রহস্যময় সাধুর সাক্ষাৎ এক অলৌকিক সংকেতের মতো কাজ করে। সাধুরা যখন তাকে সতর্ক করে জানান যে দিতি এক ভয়াবহ বিপদের সম্মুখীন, তখন গোরার মনে আশঙ্কার কালো মেঘ ঘনীভূত হয়। সাধুদের অশুভ ইঙ্গিত পাওয়া মাত্রই সে আর এক মুহূর্ত দেরি না করে ঝড়ের গতিতে বাড়ির দিকে রওনা দেয়। গোরার অন্তরাত্মা যেন আগেই টের পেয়েছিল যে, কোনো এক অশুভ শক্তি তার প্রিয়জনকে ঘিরে ধরেছে। এই আকস্মিক সতর্কতা গল্পে এক নতুন রোমাঞ্চের সৃষ্টি করে, যেখানে আধ্যাত্মিক শক্তি আর বাস্তব বিপদের এক অদ্ভুত লড়াই শুরু হয়।
অন্যদিকে, উৎসবের আনন্দ মুহূর্তে বিষাদে পরিণত হয় যখন একটি উন্মাদ হাতি প্রাঙ্গণে ঢুকে তান্ডব শুরু করে। আতঙ্কে সাধারণ মানুষ দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটলেও, দিতি অসহায়ভাবে সেই বিশাল দেহের হাতিটির সামনে পড়ে যায়। যমদূত সদৃশ হাতিটির সামনে দাঁড়িয়ে দিতি যখন নিশ্চিত মৃত্যুর প্রহর গুনছিল, ঠিক তখনই দেবদূতের মতো সেখানে উপস্থিত হয় গোরা। নিজের প্রাণের তোয়াক্কা না করে, অসীম সাহসী গোরা তার অলৌকিক ক্ষমতায় সেই দামাল হাতিটিকে বশ করে ফেলে। গোরার এই অতিমানবিক বীরত্ব দেখে উপস্থিত জনতা স্তম্ভিত হয়ে যায় এবং দিতি ফিরে পায় তার নতুন জীবন।
নিজের পরাজয় নিশ্চিত জেনে এবং গোরার অলৌকিক শক্তি দেখে হাতির মালিকের দম্ভ চূর্ণ হয়ে যায়। সে অনুশোচনায় দগ্ধ হয়ে সবার সামনে গোরার পা জড়িয়ে ধরে ক্ষমা ভিক্ষা করে। সে স্বীকার করে যে, কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা নয়, বরং রক্তিমের দেওয়া বিপুল অর্থের লোভে এবং প্ররোচনায় সে এই জঘন্য কাজ করতে বাধ্য হয়েছিল। এই স্বীকারোক্তি উৎসবের প্রাঙ্গণে এক বড়সড় বিস্ফোরণ ঘটায় এবং রক্তিমের কুৎসিত চেহারা সবার সামনে উন্মোচিত হয়। গোরার প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা যেমন বেড়ে যায়, তেমনি ষড়যন্ত্রকারীদের প্রতি ঘৃণার আগুন জ্বলে ওঠে।
পুরো ষড়যন্ত্রটি জানতে পেরে গোরা ও দিতি অগ্নিশর্মা হয়ে তৎক্ষণাৎ রক্তিমের বাড়িতে হানা দেয়। সেখানে গিয়ে দিতি আর চুপ থাকেনি; সে সপাটে এক চড় মেরে রক্তিমের দীর্ঘদিনের দম্ভ ধূলিসাৎ করে দেয়। দিতি অত্যন্ত দৃপ্ত কণ্ঠে ঘোষণা করে যে, তার রক্ষাকর্তা স্বয়ং গোরাচাঁদ গোস্বামী। যার আশীর্বাদ এবং সুরক্ষা কবজ তার সাথে আছে, কোনো হীন চক্রান্তই তার কেশাগ্র স্পর্শ করতে পারবে না। দিতির এই রুদ্রমূর্তি দেখে রক্তিম কার্যত বাকরুদ্ধ হয়ে যায় এবং সত্যের কাছে মিথ্যার পরাজয় ঘটে। তবে এই সংঘাতের মাঝেই ফুটে ওঠে ইন্দুর করুণ চিত্র, যে তার ভালোবাসার মানুষ রক্তিমকে বাঁচাতে নিজের সম্মান বিসর্জন দিয়ে বড় ভাই-বৌদির পায়ে লুটিয়ে পড়ে।
আরও পড়ুনঃ ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়ে মায়ের স্নেহের স্মৃতিতে কাতর পারুল! ধরা পড়ল রুক্মিণীর! পু’ড়িয়ে মা’রার চূড়ান্ত ফরমান জারি করল চন্দ্রাবতী সান্যাল!
গল্পের শেষে এক অদ্ভুত বৈপরীত্য লক্ষ্য করা যায় একদিকে যেমন পবিত্রতার জয় হয়েছে, অন্যদিকে ভালোবাসার টানে ইন্দু আজও রক্তিমকে সুপথে ফেরানোর স্বপ্ন দেখছে। কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীরা সহজে দমে যাওয়ার পাত্র নয়। আবারও গোস্বামী বাড়ির শান্তি বিঘ্নিত করতে একজোট হয়েছে সেই রহস্যময় সাধু, রক্তিম, পুলস্ত্য এবং কুন্তল। আসন্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে তারা আবার কোনো বড় ধরণের নাশকতার পরিকল্পনা করছে। একদিকে গোরার আধ্যাত্মিক সুরক্ষা আর অন্যদিকে এই চার অশুভ শক্তির মারণ কামড় আগামী দিনে গোস্বামী বাড়ির ভাগ্য কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

