পায়েস বি’ষ মিশাতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পরল ছদ্মবেশী রুদ্র! নিজের চিরশত্রুকে ঠিক চিনে নিল ফুলকি!

জি বাংলার (Zee Bangla) পর্দায় প্রতিদিন সন্ধ্যে সাড়ে সাতটায় সম্প্রসারিত হয় সকলের প্রিয় ধারাবাহিক ফুলকি (Phulki)। ধারাবাহিকটি শুরুর পর থেকে তার জনপ্রিয়তা একটু একটু করে বেড়েছে। টিআরপি তালিকাতে (TRP List) প্রতিটা সপ্তাহে দুর্দান্ত ফলাফল করা ফুলকি সব সময় এক থেকে পাঁচের মধ্যে নিজেদের জায়গা দখল করে রাখে। তবে ধারাবাহিকের গল্প একজন সাধারণ ঘরের মেয়ের বক্সার হয়ে ওঠা নিয়ে শুরু হলেও বর্তমানে ধারাবাহিকের মোড় অন্যদিকে ঘুরে গিয়েছে। বর্তমানে ধারাবাহিকটিতে প্রতিদিন টানটান উত্তেজনা পর্ব দেখানো হয়।
ধারাবাহিকের শেষ কয়েকটি পর্বে দেখানো হয়, পরের দিন রাজমহলের প্রার্থী নির্বাচনের জন্য সুনন্দা দেবী রাজমহলে আসার কথা দেন। ফুলকিও কথা দেয় সুনন্দার কোন ক্ষতি হতে দেবে না ফুলকি, সে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করছে। এদিকে এই কথা যখন রোহিত এবং লাবণ্যকে জানায় ফুলকি তখন আড়াল থেকে সমস্ত কিছু শুনে নেয় রুদ্র। ফুলকির ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য আরও এক মোক্ষম সুযোগ চলে আসে তার কাছে।

রুদ্র দেখা করতে যায় ছোট রাণীর দলের লোকের সঙ্গে। সেখানে গিয়ে বুঝতে পারে তার উপরে রেগে আছে দলের লোকজন। কারণ রুদ্র শেষ পর্যন্ত প্রীতম কুমারকে দিয়ে ফুলকিকে ফাঁসাতে পারেনি। নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করেছে ফুলকি। তাই জন্য তার ওপরে আর ভরসা করতে পারছে না কেউ। এদিকে সুনন্দা দেবী রাজমহলে আসবে সেই খবরটাই দিতে এসেছে রুদ্র। এক ঢিলে দুই পাখি মারার পরামর্শ দেয় রুদ্র। জানায় যেদিন সুনন্দা দেবী আসবে রাজমহলে সেদিন ফুলকির হাতেই সুনন্দা দেবীর মৃত্যু হলে বা তার কোন ক্ষতি হয়ে গেলে তাহলে ছোট রাণীর দলের পথের কাটা সুনন্দা দেবীও সরে যাবে অন্যদিকে ফুলকির ভাবমূর্তি নষ্ট হবে। তাকে আর রাজনীতির ময়দানে দেখা যাবে না, রাজনৈতিক জীবন শুরু হওয়ার আগেই শেষ হয়ে যাবে।
সেইমতো রুদ্র হাজির হয় রায় চৌধুরী বাড়িতে। লাবণ্য বাড়িতেই সুনন্দা দেবীর জন্য পায়েস রান্না করছিল। আর সেই সুযোগের ছদ্মবেশে হাজির রুদ্র। বহুদিন পর আবার ছদ্মবেশে রায় চৌধুরী বাড়িতে ঢুকলো রুদ্র। তাকে করা সমস্ত অপমান এক এক করে মনে পড়ে যাচ্ছিল। আর সেই অপমানের বদলা নেওয়ার জন্য আরো প্রতিহিংসা পরায়ন হয়ে উঠলো সে। অভিরূপকে দেখে তো লাবণ্য ভীষণ খুশি হয়। হয়তো লাবণ্য ধীরে ধীরে অভিরূপকে পছন্দ করছে, যদিও সেটা এখনো প্রকাশ পায়নি। এরপর সকলে মিলে খাবার দাবার প্যাক করে নিয়ে বেরিয়ে পড়ে গন্তব্য স্থলের উদ্দেশ্যে। সুনন্দাকে মারার জন্য পায়েস বিষ মেশানোর প্ল্যান করে রুদ্র।
আরও পড়ুনঃ ‘আমাদের সম্পর্ক থাকাকালীনও…তাই ওর নামে এরকম অভিযোগ!’ জিতু দিতিপ্রিয়ার বিতর্কে মুখ খুললেন প্রাক্তন স্ত্রী নবনীতা!
ওদিকে সুনন্দা দেবীর নিরাপত্তার জন্য কড়া ব্যবস্থা করা হয়। চারিদিকে পাহারা, পুলিশ সবকিছু নিয়োগ করে ফুলকি। বিশেষ এজেন্সি থেকে লোক আসে তাকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য। কিন্তু লাবণ্য যে এজেন্সির সাথে কথা বলে সুনন্দার বিশেষ সুরক্ষার ব্যবস্থা করেছে সেই এজেন্সির মাথার সঙ্গে আবার রুদ্রর যোগাযোগ আছে। রুদ্র হয়ে কাজ করছে সে। মানে সুনন্দাকে সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়টা পুরোটাই সাজানো কথা। এজেন্সির লোক রুদ্রর কথা মেনেই চলছে। ফুলকি যখন অভিরূপ এবং ওই এজেন্সির লোককে একসাথে কথা বলতে দেখে নেয় তখন তার মনে খটকা লাগে। কিন্তু রুদ্র জানায় সবদিক ভালো ভাবে নজর রাখতে বলছিল সে।কোনমতে ফুলকি নজর থেকে বেঁচে গেল রুদ্র। তারপরেই সুনন্দা দেবী আসে নিজের বক্তব্য রাখেন এবং সবশেষে জানান এই রাজমহলের আগামী দিনের প্রার্থী হিসেবে ফুলকির নাম তিনি ঘোষণা করছেন। ফুলকি যেভাবে দোষীদের শাস্তি দিয়েছি নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করেছে তাতে সে একজন যোগ্য প্রার্থী। কিন্তু তিনি জানেনও না তার জন্য কত বড় বিপদ অপেক্ষা করছে। তবে সুনন্দাকে পায়েস খাওয়ানোর আগেই ফুলকি হাতেনাতে ধরে ফেলে রুদ্রকে। পায়েস বিষ মেশাতে গিয়ে ফুলকির হাতে ধরা পড়ে রুদ্র। নিজের চিরশত্রুকে হাতেনাতে ধরে ফুলকি। যদি ধারাবাহিকের আগামী পর্বে এমন কিছু ঘটে তাহলে কেমন লাগবে দর্শকদের? যদি ফুলকি এবারেও রুদ্রকে চিনে নেয় যদি সকলের সামনে টেনে খুলে দেয় তার মুখোশ কেমন হয়? দেখা যাক কি হয় আগামী পর্বে।

