রায়ানকে ছাড়াই সন্তান মানুষ করার চরম সিদ্ধান্ত পারুলের! রাগে আইনি লড়াইয়ের পথে রায়ান! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জি বাংলার (Zee Bangla) পরিণীতা ধারাবাহিকে (Parineeta) গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, রাতের রহস্যময় ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটির পেছনের আসল সত্যটা শেষমেশ রায়ান ও পারুলের সামনে চলে আসে। তারা বুঝতে পারে যে, এই নোংরা ষড়যন্ত্রের পেছনে অন্য কেউ নয়, বরং মৈনাক আর ত্বরিতার হাত ছিল। চরম সত্যটা জানার পর রায়ান নিজের রাগের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে এবং মৈনাককে মারতে তেড়ে যায়। অন্যদিকে, পারুলও আর চুপ করে না থেকে ত্বরিতাকে সরাসরি কাঠগড়ায় দাঁড় করায়। তবে গল্পের এই মোড়ে এসে মনে হয়, এত বড় একটা অন্যায় করার পরেও মৈনাক আর ত্বরিতা বড্ড সহজে পার পেয়ে গেল। তাদের যে ধরনের কঠিন শাস্তি পাওয়া উচিত ছিল, তা যেন কোথাও একটা অধরা রয়ে গেল এবং রায়ান-পারুলের অবস্থান আরও অনেক বেশি কড়া হওয়া দরকার ছিল।

এই চরম অশান্তি ও উত্তেজনার পরই গল্পটা কোনো ভূমিকা ছাড়াই একঝটকায় ৩০ দিন এগিয়ে যায়। তিরিশ দিন পর দেখা যায়, পারুল নিজের আগের সিদ্ধান্তেই অটল রয়েছে এবং সে বসু বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে ফেলেছে। ঠিক এই জায়গাতেই পারুলের চরিত্রটি দর্শকদের বা পাঠকদের সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ে। সে রায়ানের জন্য কোনো কান্নাকাটি করেনি, তার পেছনে ছুটে যায়নি বা নিজের কোনো দুর্বলতা প্রকাশ পেতে দেয়নি। বরং সে ভীষণ শান্ত ও পরিণতভাবে রায়ানকে উদ্দেশ্য করে বলে, সবার জীবনেই একটা এক্সপায়ার ডেট থাকে। আমাদের পরিণতিরও এক্সপায়ার ডেট আজ। তোর সাথে আমার ফ্রেন্ডশিপটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। পারুলের মুখের এই পরিণত কথাগুলো সবার মন ছুঁয়ে যায়।

পারুলের এই চলে যাওয়া এবং শান্ত রূপ দেখে রায়ান ভেতরে ভেতরে প্রচণ্ড কষ্ট পাচ্ছিল। কিন্তু তার পুরুষালি অহংকার ও জেদ এতটাই বেশি ছিল যে, সে মুখ ফুটে নিজের মনের আসল কথা বা কষ্টের কথা প্রকাশ করতে পারছিল না। একদিকে খুব দ্রুত বাবা হওয়ার আনন্দ, অন্যদিকে এত অল্প সময়ের মধ্যে জীবনের সবকিছু ওলটপালট হয়ে যাওয়ায় রায়ান এক চরম অবিশ্বাস ও দিশেহারা পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে যায়। এরই মধ্যে নাটকে নতুন মোড় আসে যখন মৈনাক শেষ পর্যন্ত নিজের সব দোষ স্বীকার করে নেয়। রায়ান তাকে আবারও মারতে গেলে বাড়ির দাদুর হস্তক্ষেপে মৈনাক সেবারের মতো রায়ানের মার থেকে বেঁচে যায়।

বাড়িতে এত বড় একটা সুসংবাদ আসায় এবং বংশের উত্তরাধিকারীর আগমনে পরিবারের প্রায় সকলেই খুশি হয়েছিল। কিন্তু রায়ানের মা কোনোভাবেই এই পরিস্থিতি মেনে নিতে পারছিলেন না, তার মনে ক্ষোভ জমে ছিল। ওদিকে রায়ান আর পারুল যে এত তাড়াতাড়ি বাবা-মা হয়ে গেল, সেটা তারা নিজেরাও যেন ঠিক বিশ্বাস করে উঠতে পারছিল না। তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করতে থাকে যে, এই অদ্ভুত পরিস্থিতিতে এবার তাদের ভবিষ্যৎ কী হবে। ঠিক তখনই পারুল এক চরম ও সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয়। সে পরিষ্কার জানিয়ে দেয় যে, সে বসু পরিবারের এই উত্তরাধিকারীকে একা নিজের দায়িত্বেই বড় করবে এবং এর জন্য সে কারও সাহায্য নেবে না।

আরও পড়ুনঃ মৃ’ত্যুমুখ থেকে মিঠিকে বাঁচাল আদিত্য! এবারে কি মিঠির হাত ধরেই সামনাসামনি হবে আদিত্য-পল্লবী! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

পারুলের মুখে একা সন্তান মানুষ করার কথা শুনে রায়ানও নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকে। সে ঠিক করে যে, সন্তানের প্রতি নিজের দায়িত্ব থেকে সে কোনোভাবেই পিছিয়ে যাবে না এবং পারুলকে দেখিয়ে দেবে সেও একজন ভালো বাবা হতে পারে। কিন্তু পারুল রায়ানের এই জেদকে পাত্তাই দেয় না এবং সরাসরি জানিয়ে দেয় যে সে একজন ‘সিঙ্গেল মাদার’ বা একক মা হিসেবেই বাঁচতে চায়। সন্তানের ওপর থেকে নিজের অধিকার হাতছাড়া হচ্ছে এবং পারুল তাকে জড়িয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে দিচ্ছে না দেখে রায়ান আর মাথা ঠিক রাখতে পারে না। সে এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে না পেরে শেষ পর্যন্ত নিজের সন্তানের অধিকার ও দায়িত্ব পাওয়ার জন্য পারুলের নামে কোর্টে কেস করে দেয়, যা গল্পকে এক নতুন আইনি লড়াইয়ের দিকে ঠেলে দেয়।

Back to top button