হানিমুন ট্রিপে যমদূত চন্দ্রাবতী! মাঝপথেই রুকু-ঋত্বিককে আটক করলো একদন গুন্ডা! এবার কি করবে পারুল? দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জি বাংলার (Zee Bangla) পরিণীতা ধারাবাহিকে (Parineeta) গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, স্ট্যান্ড আপ কমেডি প্রতিযোগিতার মঞ্চে পারুল আর রায়ানের লড়াই ছিল দেখার মতো। যদিও পারুল তার সেরাটা দিয়েছিল, কিন্তু শেষমেশ রায়ানের ক্ষুরধার লেখনী আর অভিনয়ের কাছে সে পরাজিত হয়। তবে রায়ানের আসল লড়াই শুরু হয় যখন তার সামনে এসে দাঁড়ায় পাবলো। পাবলোকে হারিয়ে দেওয়ার পর রায়ানের দম্ভ আকাশছোঁয়া হয়ে ওঠে। সে বুক ফুলিয়ে ঘোষণা করে যে, এখন লড়াই সমানে-সমান বা ‘ওয়ান-ওয়ান’ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সরাসরি পাবলো সেনকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে সে জানিয়ে দেয়, এবার দেখা যাবে কে আসল শক্তিশালী—রায়ান বাসু নাকি পাবলো সেন। পারুলও দমে যাওয়ার পাত্রী নয়; সে রায়ানের এই ঔদ্ধত্যকে হাসিমুখে গ্রহণ করে এবং মনে মনে পরবর্তী যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে।
অন্যদিকে, রুকু আর ঋত্বিক যখন সব বাধা কাটিয়ে অবশেষে তাদের হানিমুনের জন্য কেরালার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়, তখন পারুলের মনে এক অজানা আশঙ্কার মেঘ জমতে থাকে। যাত্রাপথে রুকুর ফোন আসতেই পারুল আরও চিন্তিত হয়ে পড়ে। চন্দ্রাবতী সান্যালের কুটিল চাল আর প্রতিহিংসা নিয়ে তার মনে আগে থেকেই ভয় ছিল। সে ফোনের ওপার থেকে রুকুদের বারবার সাবধানে থাকার পরামর্শ দেয়। এক গভীর উৎকণ্ঠায় পারুলের বুক কাঁপতে থাকে; সে অনুভব করতে পারে যে কোনো এক বড় বিপদ হয়তো তাদের ছায়ার মতো অনুসরণ করছে। তাই সে মনে মনে ভগবানের কাছে আকুল প্রার্থনা জানাতে থাকে যেন তার প্রিয় রুকু আর ঋত্বিক সুস্থ শরীরে ঘরে ফিরে আসে।
রুক্মিণী ও ঋত্বিকের গাড়ি যখন কেরালার পথে কিছুটা এগিয়েছে, তখনই হঠাৎ এক অভাবনীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অতর্কিতে কয়েকটি গাড়ি এসে চারপাশ থেকে তাদের পথ আটকে দাঁড়ায়। কিছু ভাড়াতে গুন্ডা গাড়ি থেকে নেমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিবাদে জড়িয়ে পড়ে। তারা দাবি করতে থাকে যে রুকুদের গাড়ির কারণে কোনো এক কাল্পনিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। রুক্মিণী পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য বারবার বোঝানোর চেষ্টা করলেও, সেই গুন্ডারা কোনো কথাই কানে তুলছিল না। তাদের উগ্র আচরণ আর ক্রমাগত হুমকির মুখে রুকু ও ঋত্বিক বুঝতে পারে যে তারা এক গভীর ষড়যন্ত্রের জালে আটকা পড়েছে।
ঠিক সেই মূহুর্তে নাটকের চরম উত্তেজনার মতো ঘটনাস্থলে এসে হাজির হয় স্বয়ং চন্দ্রাবতী সান্যাল। তাকে সামনে দেখে রুকু আর ঋত্বিক একেবারে হতবাক হয়ে যায়। চন্দ্রাবতী তার স্বভাবজাত সেই ঠান্ডা গলায় বিদ্রূপের সুরে বলে ওঠে, “যাব বললেই কি যাওয়া যায়?” তার এই অশুভ হাসিতে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, রুকুদের হানিমুনের পরিকল্পনা ধূলিসাৎ করতেই সে এই জাল বুনেছিল। কোনো সুযোগ না দিয়েই চন্দ্রাবতী তার পোষা গুন্ডাদের নির্দেশ দেয় রুকু ও ঋত্বিককে তুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য। এক নিমিষেই আনন্দের যাত্রা এক বিভীষিকাময় অপহরণে পরিণত হয়, যা গল্পের মোড়কে এক নতুন সংকটের দিকে ঠেলে দেয়।
আরও পড়ুনঃ ‘প্রায় মা হতে চলেছিলাম…!’ অপারেশন থিয়েটারে সব শেষ! মা দিবসে মা হওয়া হলো না তাঁর! কোল খালি হলো অভিনেত্রী অন্বেষা রায় মুখোপাধ্যায়ের!
যখন বাইরে রুকু আর ঋত্বিককে ঘিরে চরম বিপদ ঘনিয়ে আসছে, ঠিক তখনই গল্পের অন্য প্রান্তে দেখা যায় এক সম্পূর্ণ ভিন্ন দৃশ্য। সব রেষারেষি আর মান-অভিমান সরিয়ে রেখে রায়ান আর পারুল একে অপরের খুব কাছে চলে আসে। কোনো এক আকস্মিকতায় তারা বিছানার ওপর পড়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরে রোমান্সে ডুবে যায়। তাদের দুজনের চোখের পলক পড়ছে না, যেন সময় থমকে গেছে সেই একটি মুহূর্তে। বাইরের জগতের ঝড়-ঝঞ্ঝা আর আসন্ন বিপদ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে তারা একে অপরের সান্নিধ্যে এক নতুন রসায়নের জন্ম দেয়, যা তাদের সম্পর্কের সমীকরণকে চিরতরে বদলে দেওয়ার ইঙ্গিত দেয়।

