ফোনে রুকুর কথা শুনে কেন কেঁপে উঠল পারুলের মন! রুকু-ঋত্বিকের হানিমুনই কি তাদের শেষ যাত্রা? দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জি বাংলার (Zee Bangla) পরিণীতা ধারাবাহিকে (Parineeta) গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, বাড়িতে সবাই খুব অধীর আগ্রহে রায়ানের জন্য অপেক্ষা করছিল। পারুলের মনে বিশ্বাস ছিল যে রায়ান ফিরবেই, তাই সে তার জন্য অনেক আয়োজন করে নানা রকম খাবারের ব্যবস্থা করেছিল। কিন্তু রায়ান বাড়িতে ফিরে এলেও তার মেজাজ একটুও পাল্টায়নি। সে সবার সামনেই পারুলকে জানিয়ে দেয় যে, সে বাড়িতে ফিরেছে ঠিকই কিন্তু তাদের সম্পর্কের তিক্ততা কমেনি। সে আগের মতোই পারুলকে ঘৃণা করে। রায়ানের এই নিষ্ঠুর কথাগুলো শুনে পারুলের মন ভেঙে গেলেও বাড়ির অন্য সবাই তাকে সাহস দেয় ও শান্ত করে।
রায়ানকে এড়িয়ে চলার জন্য পারুল নতুন একটি মিথ্যের আশ্রয় নেয়। কিন্তু রায়ান অত সহজে তাকে ছাড়তে রাজি নয়; সে পারুলকে নিজের প্রতিযোগী মনে করে এবং পাল্লা দিতে প্রস্তুত থাকে। তবে মজার বিষয় হলো, পারুলের ওপর মনে মনে রাগ থাকলেও রায়ান কিন্তু তার প্রতি অযত্ন করে না। যখন কাজ করতে গিয়ে পারুলের হাত কেটে যায়, তখন রায়ান নিজেই এগিয়ে আসে এবং খুব যত্ন করে পারুলের কাটা জায়গায় মলম লাগিয়ে দেয়। তাদের এই ঝগড়া আর যত্নের মিশেল এক অদ্ভুত পরিবেশ তৈরি করে।

গল্পে বড় একটা মোড় আসে যখন চন্দ্রাবতী সান্যাল হঠাৎ করে ঋত্বিক আর রুক্মিণীকে বাড়িতে ফিরিয়ে নিতে আসেন। যে মানুষটি কয়েকদিন আগেও তাদের চরম অপমান করেছিলেন, আজ তার মুখে হঠাৎ মিষ্টি কথা শুনে পারুল অবাক হয়ে যায়। পারুলের মনে খটকা লাগে যে, এই পরিবর্তনের পেছনে নিশ্চয়ই কোনো খারাপ উদ্দেশ্য আছে। আসলে পারুলের আশঙ্কাই ঠিক চন্দ্রাবতী মনে মনে খুব ভয়ংকর একটা পরিকল্পনা করেছেন। ঋত্বিক আর রুক্মিণী যদি একবার ওই বাড়িতে ফেরে, তবে তাদের প্রাণে মেরে ফেলার ছক কষেছেন তিনি।
পরের দিন এক স্ট্যান্ড আপ কমেডি প্রতিযোগিতায় পারুল রায়ানের কাছে হেরে যায়। কিন্তু আসল লড়াই শুরু হয় যখন রায়ানের সামনে পাবলো আসে। পাবলোকে হারিয়ে দিয়ে রায়ান দম্ভ করে জানায় যে, এখন লড়াই সমানে-সমান বা ‘ওয়ান-ওয়ান’ হয়েছে। রায়ান সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলে যে, সে দেখে নেবে কে বেশি শক্তিশালী রায়ান বাসু নাকি পাবলো সেন। পারুলও দমে যাওয়ার মেয়ে নয়, সে-ও হাসিমুখে রায়ানের এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে নেয়।
আরও পড়ুন: ‘চামচাগিরি করে কি সিনেমায় সুযোগ পাওয়া যায়?’ ‘টেলিভিশনে টিকে থাকতে গেলে শুধু লুক নয়, লাগে অভিনয়’, বিস্ফোরক অভিনেতা সম্রাট মুখোপাধ্যায়!
সবশেষে, রুকু আর ঋত্বিক যখন হানিমুনের জন্য কেরালা রওনা দেয়, তখন রুকুর ফোন পেয়ে পারুল খুব চিন্তিত হয়ে পড়ে। চন্দ্রাবতীর মতলব নিয়ে তার মনে আগে থেকেই ভয় ছিল, তাই সে রুকুদের খুব সাবধানে থাকতে বলে। এক অজানা আতঙ্কে পারুলের বুক কাঁপতে থাকে। সে বুঝতে পারে তাদের ওপর বড় কোনো বিপদ আসতে পারে, তাই সে মনে মনে ভগবানের কাছে প্রার্থনা করতে থাকে যেন রুকু আর ঋত্বিক সুস্থভাবে ফিরে আসে।

