পারুলের সন্দেহই কি তবে সত্যি? রুক্মিণী-ঋত্বিককে নিয়ে চন্দ্রাবতীর ভয়ংকর পরিকল্পনা ফাঁস! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জি বাংলার (Zee Bangla) পরিণীতা ধারাবাহিকে (Parineeta) গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, পারুলের পরিকল্পনা অনুযায়ী রায়ানের দুই বন্ধু তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসে। তারা জানায়, রায়ান নিজেকে সম্পূর্ণ শেষ করে দিচ্ছে এবং সারাদিন মদের নেশায় ডুবে থাকছে। এই অন্ধকার জীবন থেকে তাকে ফিরিয়ে আনতে পারুল একটি দারুণ সুযোগ খুঁজে পায়। কলেজে একটি ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে জেনে সে ঠিক করে, খেলাধুলার মাধ্যমেই রায়ানের হারানো জেদ আর জেতার মানসিকতাকে পুনরায় জাগিয়ে তুলতে হবে।
পরিকল্পনা সফল করতে পারুল রায়ানের বন্ধুর মাসির ছেলের ছদ্মবেশ ধারণ করে কলেজে হাজির হয়। সেখানে সে সরাসরি রায়ানকে ব্যাডমিন্টন খেলার চ্যালেঞ্জ জানায়। টানটান উত্তেজনার ম্যাচে পারুল রায়ানকে পরাজিত করে। দীর্ঘদিনের অভ্যাসহীনতা আর হারের এই ধাক্কা রায়ানের মনে গভীর প্রভাব ফেলে। অনেক দিন পর তার মনের ভেতর আবার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের খিদে জেগে ওঠে, যা দেখে পারুল মনে মনে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে।

খেলা শেষে ছদ্মবেশেই পারুল যখন রায়ানকে উপদেশ দিচ্ছিল, তখনই ঘটে যায় এক চরম বিপত্তি। উত্তেজনার বশে অসাবধানতাবশত পারুল নিজের গ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলে ফেলে। ওই অতি পরিচিত কণ্ঠের টান শুনে রায়ান চমকে ওঠে এবং গভীর বিস্ময় নিয়ে পারুলের দিকে তাকিয়ে থাকে। পারুলের এই ছোট্ট একটি ভুল কি তার সমস্ত পরিশ্রম আর পরিকল্পনাকে ভেস্তে দেবে? রায়ান কি সত্যিই তার ছদ্মবেশ ধরে ফেলবে, এটাই এখন দেখার বিষয়।
অন্যদিকে, বাড়িতে সবাই অধীর আগ্রহে রায়ানের জন্য অপেক্ষা করছিল। পারুলের বিশ্বাস ছিল রায়ান ফিরবে, তাই তার জন্য এলাহী খাবারের আয়োজন করা হয়। রায়ান বাড়িতে ফিরে এলেও তার আচরণে কোনো পরিবর্তন আসে না। সে স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে সে ফিরেছে ঠিকই, কিন্তু পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি; বরং সে পারুলকে আগের মতোই ঘৃণা করে। এই নিষ্ঠুর কথায় পারুল অত্যন্ত মর্মাহত হলেও পরিবারের বাকিরা তাকে সান্ত্বনা দেয়। রায়ানকে এড়াতে পারুল আরও একটি মিথ্যের আশ্রয় নিলেও রায়ান তার এই নতুন প্রতিযোগীকে এত সহজে ছেড়ে দিতে রাজি নয়। তবে অবাক করার মতো বিষয় হলো, মনে রাগ থাকলেও পারুলের প্রতি যত্ন নিতে সে ভোলেনি।
আরও পড়ুন: ‘অভাবের সময় রাহুলের মা রান্না করে খাইয়েছে…’ ‘ভাই দাদা বন্ধু পাতিয়ে কেউ ছাড় পাবে না…’ রাহুলের মৃ’ত্যুর তদন্তে কি নতুন মোড়! পালাবদলের পর মুখ খুললেন রুদ্রনীল ঘোষ!
গল্পের মোড় অন্যদিকে ঘোরে যখন চন্দ্রাবতী সান্যাল হঠাৎ করে ঋত্বিক এবং রুক্মিণীকে বাড়িতে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য উপস্থিত হন। তার মুখে হঠাৎ মিষ্টি কথা শুনে পারুল বেশ সন্দেহ প্রকাশ করে। যে মানুষটি কদিন আগেও চরম অপমান করেছিল, তার এই আকস্মিক পরিবর্তন পারুলের মনে শঙ্কার জন্ম দেয়। ওদিকে চন্দ্রাবতী মনে মনে ভয়ংকর কোনো ফন্দি এঁটে রেখেছেন। তার পরিকল্পনা অনুযায়ী, রুক্মিণী আর ঋত্বিক যদি একবার ওই বাড়িতে ফেরে, তবে সেটাই হবে তাদের জীবনের শেষ যাত্রা। চন্দ্রাবতীর এই রহস্যময় চালের আড়ালে কী পরিণতি লুকিয়ে আছে, তা সময়ের অপেক্ষা।

