‘পারুলের দিকে তাকালে চোখ উ’পড়ে নেব!’ ঋককে মাটিতে ফেলে মা’রধর! রণমূর্তি ধারণ করল রায়ান! নায়কের হুঁশিয়ারি শুনে অবাক বসু পরিবার!

জি বাংলার (Zee Bangla) পরিণীতা ধারাবাহিকে (Parineeta) গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, বাড়ি ফিরে পারুল দাদুর কাছে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে এবং নিজের আচরণের জন্য ক্ষমা চায়। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে দাদু তখন এক চমৎকার অভিনয়ের আশ্রয় নেন। তিনি রায়ানকে লক্ষ্য করে এমন আবেগপ্রবণ কথা বলতে শুরু করেন, যাতে রায়ানের মনের লুকিয়ে থাকা অনুভূতিগুলো প্রকাশ্যে আসে। পরিবারের বাকি সদস্যরাও দাদুর সাথে যোগ দিয়ে রায়ানের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। তারা সাফ জানিয়ে দেন যে, রায়ান যখন পারুলের দায়িত্ব নিতে অক্ষম, তখন ঋকের সাথে পারুলের বিয়েতে বাধা দেওয়ার কোনো নৈতিক অধিকার তার নেই।
তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে দাদু চিৎকার করে রায়ানের কাছে জানতে চান, কেন সে এই বিয়েতে বাধা দিচ্ছে? রায়ান কি সত্যিই পারুলকে ভালোবাসে, নাকি কেবল তার পিছুটান রয়েছে? দাদুর উপর্যুপরি প্রশ্নে রায়ান নিজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে এবং সবার সামনে চিৎকার করে স্বীকার করে নেয় যে, সে পারুলকে ভালোবাসে। রায়ানের এই আকস্মিক স্বীকারোক্তিতে পুরো পরিবার স্তম্ভিত হয়ে যায়। তবে মুহূর্ত পরেই রায়ান নিজের ভুল বুঝতে পেরে কথা ঘুরিয়ে নেয় এবং ভালোবাসার কথা অস্বীকার করে। এরপর পরিস্থিতি থমথমে হয়ে পড়লে সবাই সেখান থেকে চলে যায়।
সবাই চলে যাওয়ার পর রায়ান পারুলকে সতর্ক করে দিয়ে বলে, সে যেন পরিবারের এই আবেগের ফাঁদে পা দিয়ে ঋককে বিয়ে না করে। রায়ান দাবি করে যে সবাই তাকে মানসিকভাবে ব্ল্যাকমেইল করছে এবং সে যেভাবেই হোক টাকা জোগাড় করে দোকান বাঁচানোর চেষ্টা করবে। অন্যদিকে, অনিরুদ্ধ ও রুক্মিণীরা নানা ফন্দি আটতে থাকে যাতে পারুল ও রায়ান কোনোভাবেই এই সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে না পারে। তারা নানা দিক থেকে পারুলকে কোণঠাসা করার পরিকল্পনা করে।
অসহায় পারুল তখন ঋকের কাছে গিয়ে অনুরোধ করে যেন সে বিয়ের শর্ত তুলে নিয়ে টাকাটা দিয়ে সাহায্য করে। কিন্তু ঋক তার সিদ্ধান্তে অনড় থাকে; সে স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে পারুলকে তার পছন্দ হয়েছে এবং তাকে নিজের করে না পাওয়া পর্যন্ত সে পিছু হটবে না। ঋকের জেদ দেখে পারুল ঘৃণাভরে তাকে জানায় যে, সে সারাজীবন কেবল রায়ানকেই ভালোবেসে এসেছে। পরিস্থিতির চাপে সে ঋককে বিয়ে করতে বাধ্য হলেও, তার মনে ঋকের জন্য কোনোদিন কোনো জায়গা তৈরি হবে না।
আরও পড়ুনঃ ‘আমরা সব জেনেই ঝুঁকি নিই’! মহারাজের মন্তব্যে শোরগোল টলিপাড়ায়! রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রয়াণে কর্মপরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুললেন পাওলি দাম!
গল্পের মোড় অন্যদিকে ঘোরে যখন রায়ান রাগের মাথায় ঋকের ওপর চড়াও হয়। সে ঋককে মাটিতে ফেলে মারতে মারতে হুঙ্কার দেয় যে, পারুলের দিকে নজর দিলে সে তার চোখ তুলে নেবে। রায়ান ঋককে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলে যে আজ তাদের মধ্যে এক মরণপণ লড়াই হবে। পারুলের সম্মান এবং ভালোবাসার জন্য রায়ান যেকোনো সীমা অতিক্রম করতে প্রস্তুত, তা ঋকের সাথে তার এই দ্বন্দ্বে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

