অপেক্ষার অবসান! রায়ানের ভালোবাসার মানুষের নাম ঘোষণায় তোলপাড় বসু পরিবারের সমীকরণ! কাকে ভালোবাসে রায়ান? দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জি বাংলার (Zee Bangla) পরিণীতা ধারাবাহিকে (Parineeta) গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, দোল উৎসবের আগের দিন দাদু পরিবারের সবাইকে নিয়ে রায়ানকে সিদ্ধি খাওয়ানোর এক মজার পরিকল্পনা করেন। তবে দাদুর এই পরিকল্পনার পেছনে কেবল নিছক মজা ছিল না, ছিল এক গভীর উদ্দেশ্য। তিনি স্পষ্ট জানান যে সাধারণ সিদ্ধি রায়ানের ওপর কাজ করবে না। তাকে খাওয়াতে হবে বিশেষ ‘সত্যবচন সিদ্ধি’। দাদুর বিশ্বাস ছিল, এই সিদ্ধি খেলে রায়ান তার মনের গভীরে লুকিয়ে রাখা শৈশবের সব গোপন কথা ও সত্য অবলীলায় সবার সামনে প্রকাশ করে দেবে।
অন্যদিকে, রায়ান ও পারুলের সম্পর্কের টানাপোড়েন এক ভিন্ন মাত্রা পায়। সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় পারুল অত্যন্ত অভিমানী সুরে রায়ানকে জানিয়ে দেয়, সে যদি তার গায়ে রঙ দেয় তবে সে আর দোলই খেলবে না। ঠিক এই মুহূর্তেই সেখানে নকল উকিল এসে হাজির হয়। সে দাবি করে যে কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী তাদের দুজনকে একসঙ্গে আবির দিয়ে দোল খেলতে হবে এবং তার ছবিও পাঠাতে হবে। বাধ্য হয়ে দুজনে আবারও সেই নির্দেশ পালন করতে রাজি হয়, আর দাদু ব্যস্ত থাকেন তার বিশেষ সিদ্ধি তৈরিতে।

পরদিন দোল উৎসবের আনন্দঘন পরিবেশে গল্পের মোড় ঘোরে এক অপ্রত্যাশিত দিকে। দাদুর পরিকল্পনা সফল হয় এবং রায়ান সেই তথাকথিত ‘সত্যবচন সিদ্ধি’ খেয়ে ফেলে। যার প্রভাবে মানুষের নিজের অন্তরের সত্য লুকিয়ে রাখার ক্ষমতা হারিয়ে যায়। বাড়ির সবার উপস্থিতিতে রায়ানের আচরণে পরিবর্তন আসতে শুরু করে, যা এক টানটান উত্তেজনার সৃষ্টি করে।
সিদ্ধির প্রভাবে রায়ান হঠাৎ সবার সামনে পারুলের হাত ধরে ফেলে। পারুল এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ব্যঙ্গ করে তাকে হাত ছেড়ে দিতে বলে এবং জানায় যে রায়ান আসলে যাকে ভালোবাসে, তার হাত ধরেই যেন সে দাঁড়ায়। পারুলের এই কথায় দীর্ঘদিনের জমে থাকা অভিমান ও সম্পর্কের অমীমাংসিত সমীকরণ ফুটে ওঠে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন রায়ান দমে না গিয়ে পালটা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়।
আরও পড়ুনঃ ‘আমার পিরিয়ড, মুখে ব্রণ নিয়ে আপনাদের এত মাথাব্যথা কেন?’ ‘নিঃসন্দেহে উনি একজন গণ্ডমূর্খ!’ ব্যক্তিগত আক্রমণ নিয়ে রণংদেহী মেজাজে ইমন চক্রবর্তী!
সবাইকে অবাক করে দিয়ে রায়ান দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা করে যে, আজ সে সবার সামনে জানিয়ে দেবে সে আসলে কাকে ভালোবাসে এবং আজ তাকে কেউ থামাতে পারবে না। রায়ানের এই সাহসিকতা ইঙ্গিত দেয় যে বহুদিনের চাপা আবেগ এবার আলোর মুখ দেখবে। দাদু নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে পুরো বিষয়টি লক্ষ্য করতে থাকেন। তার পরিকল্পনা সফল হচ্ছে দেখে তিনি বুঝতে পারেন যে, রায়ানের এই স্বীকারোক্তি পরিবারের সম্পর্কের সমীকরণ চিরতরে বদলে দিতে পারে। এবারে দেখার অপেক্ষা কি হয় আগামী পর্বে।

