সব ছেড়ে সন্ন্যাসীর পথ বেছে নিল রায়ান! থিয়েটারের স্ক্রিপ্ট ছিঁড়ে কোন চরম সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে সে? পারুল কি পারবে রায়ানকে সন্ন্যাস থেকে ফেরাতে? দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জি বাংলার (Zee Bangla) পরিণীতা ধারাবাহিকে (Parineeta) গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, দীর্ঘ ছয় মাস ধরে যে ভালোবাসাকে রায়ান নিজের মনের মণিকোঠায় আগলে রেখেছিল, ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়ে সেই সত্য প্রকাশ্যে আসায় সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। রায়ানের আক্ষেপ, জীবনের কোনো কিছুর জন্যই সে এত স্ট্রাগল করেনি, যতটা পারুলকে পাওয়ার জন্য করেছে। কিন্তু সেই পবিত্র অনুভূতি আজ প্রতারণার আড়ালে ধুলোয় মিশে যাওয়ায় সে পারুলকে কাঠগড়ায় দাঁড় করায়। পারুল নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও রায়ানের টলে যাওয়া বিশ্বাস আর ফেরানো সম্ভব হয়নি।

হতাশার চরম সীমায় পৌঁছে রায়ান ঘোষণা করে যে, তার নতুন করে স্বপ্ন দেখার ইচ্ছাটুকুও আজ শেষ হয়ে গেছে। তার প্রতিটি কথা পারুলের হৃদয়ে তীরের মতো বিঁধতে থাকে। রায়ানের চলে যাওয়া দেখে পারুল স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে এবং মনে মনে আক্ষেপ করে যে, ভালোবাসা অর্জন করেও যেন এক নিমেষে সে সবকিছু হারিয়ে ফেলল। ব্যথাতুর হৃদয়ে সে বিধাতার কাছে প্রশ্ন তোলে, কেন তাকে আজকের এই দিনটি দেখতে হলো?

এদিকে রায়ানের মানসিক অবস্থার সুযোগ নিতে সেখানে হাজির হয় শিরিন। মনের দুঃখে নেশাগ্রস্ত রায়ানের কানে সে পারুলের নামে বিষ ঢালতে শুরু করে। কিন্তু শিরিনের সেই ষড়যন্ত্র সফল হয় না। নিজের কষ্টের মাঝেও রায়ান তাকে স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, শিরিন কোনোভাবেই পারুলের যোগ্য নয়। এর মধ্যেই পারুল খুঁজতে খুঁজতে রায়ানের কাছে এসে পৌঁছায় এবং নিজের পুঞ্জীভূত অভিমান নিয়ে তার সামনে ভেঙে পড়ে।

গল্পের মোড় অন্যদিকে ঘোরে যখন আগামী পর্বে দেখা যাবে, রায়ান নিজের থিয়েটারের স্ক্রিপ্ট ছিঁড়ে ফেলে জীবনের সমস্ত মায়া ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেয়। অভিনয় আর সৃজনশীল জগতকে বিদায় জানিয়ে সে সন্ন্যাসীর পথ বেছে নেয়, যা তার পরিবারের সবাইকে স্তম্ভিত করে দেয়। রায়ানের এই চরম সিদ্ধান্ত নাটকের মোড়কে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দেয়।

আরও পড়ুনঃ ‘রাহুলদার সেই টেক্সটটা এখনও আছে!’ মর্মান্তিক বিদায়ের আগে কী ছিল মনের কোণে? রাহুলের শেষ মেসেজ নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চ্যাটার্জী!

তবে এই কঠিন পরিস্থিতিতে পারুল নিজেকে শক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কান্না আর দুর্বলতাকে পেছনে ফেলে সে এখন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। যখন রায়ানের দাদু কাতর স্বরে তাঁর নাতিকে ফিরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন, তখন পারুল নিজের মনের জোরকে সম্বল করে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে। সে স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, যেভাবেই হোক সে রায়ানকে ফিরিয়ে আনবে। পারুলের এই নতুন রূপ এবং হারানো ভালোবাসা পুনরুদ্ধারের লড়াই এখন কোন দিকে যায়, সেটাই দেখার বিষয়।

Back to top button