এক রাতের ভালোবাসা! পরের দিন সকালেই ফের বিচ্ছেদের লড়াই! কোন দিকে মোড় নেবে রায়ান-পারুলের জীবন? দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জি বাংলার (Zee Bangla) পরিণীতা ধারাবাহিকে (Parineeta) গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, পারুলের কাছে জীবনের মানেটা আর পাঁচটা মানুষের চেয়ে একেবারেই আলাদা। সংসারের হাজারো টানাপোড়েনের মাঝেও সে একদিন মহাদেবের মন্দিরে গিয়ে প্রার্থনা করে এবং ঈশ্বরের সামনে রায়ানের প্রতি তার গভীর ভালোবাসার কথা স্বীকার করে। অদ্ভুত বিষয় হলো, কিছুদিন আগেই রায়ানের মনেও পারুলের জন্য ঠিক একই অনুভূতি জেগেছিল এবং সেও এই মন্দিরে এসে মহাদেবকে জানিয়েছিল যে সে পারুলকে ভালোবাসে। কিন্তু মুখে তাদের কেবলই লড়াই আর অশান্তি। এরপর বাড়ি ফিরে পারুল এক চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় আগামী এক মাসের মধ্যে সে এই বাড়ি ছেড়ে চলে যাবে এবং রায়ানের হাতে ডিভোর্স পেপার ধরিয়ে দেয়।
হাতে ডিভোর্সের কাগজ দেখে রায়ানের দাদা ও বৌদি ভীষণ চিন্তায় পড়ে যায়। তারা বুঝতে পারে যে মুখে যতই ঝগড়া করুক না কেন, রায়ান আর পারুল আসলে একে অপরকে ভালোবাসে। তাই এই দুজনকে এক করার জন্য তারা একটা গোপন প্ল্যান তৈরি করে। তারা ঠিক করে রায়ান এবং পারুলের রাতের দুধের গ্লাসে এমন কিছু নেশার জিনিস মিশিয়ে দেবে, যা খেলে দুজনে সমস্ত রাগ-অভিমান ভুলে কাছাকাছি আসতে বাধ্য হবে।

এদিকে ডিভোর্স পেপার পেয়ে রায়ান আর নিজের রাগ ধরে রাখতে পারে না। সে সরাসরি পারুলের ঘরে গিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়ে এবং প্রশ্ন করে, “আমি কি তোকে কখনো এই বাড়ি থেকে চলে যেতে বলেছি? নাকি তোর বিপদে পাশে দাঁড়াইনি?” পারুলও ছেড়ে দেওয়ার পাত্রী নয়, সে সঙ্গে সঙ্গে পাল্টা জবাব দেয়, “তার জন্য ক্রেডিট নিতে এসেছিস? যা এখান থেকে!” এই কথা কাটাকাটির মাঝেই চরম রাগের মাথায় পারুল রায়ানের বুকে ধাক্কা মারে, আর নিজেকে সামলাতে রায়ান ঝট করে পারুলের হাতটা টেনে ধরে পিঠের পেছনে মুড়িয়ে নেয়। ঠিক সেই মুহূর্তেই রায়ানের রাগ যেন এক পলকে উবে যায়। পারুলের এত কাছাকাছি এসে সে মনের ভেতর এক অদ্ভুত অনুভূতি টের পায় এবং সমস্ত অভিমানকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে হঠাৎ করেই পারুলের গালে আলতো করে একটা চুমু খেয়ে বসে। আচমকা রায়ানের এই কাণ্ডে পারুল স্তব্ধ হয়ে যায়।
বাইরে তখন শুরু হয়েছে তুমুল ঝড়-বৃষ্টি। ঠিক এই থমথমে আবহাওয়ার মাঝেই কাজ করে যায় দাদা-বৌদির সেই গোপন পরিকল্পনা। রায়ান আর পারুল দুজনেই না জেনে সেই নেশা মেশানো দুধ খেয়ে নেয়। এমনিতেই চুমুর ঘটনার পর দুজনের মনের ভেতরের লুকিয়ে থাকা ভালোবাসা জেগে উঠেছিল, তার ওপর এই পানীয়ের ঘোর—সব মিলিয়ে বাইরের ঝড়-বৃষ্টির রাতে দুজনে নিজেদের সমস্ত ক্ষোভ ও দূরত্ব ভুলে যায় এবং একে অপরের গভীর ভালোবাসার মধ্যে সম্পূর্ণ হারিয়ে যায়।
আরও পড়ুন: বিরাট দুঃসংবাদ! না ফেরার দেশে সুরের সাধক! ১০৪ বছর বয়সে পরলোক গমন করলেন পদ্মশ্রী প্রাপ্ত কিংবদন্তি শিল্পী! শোকস্তব্ধ দুই বাংলা!
কিন্তু বিপত্তি ঘটে পরের দিন সকালে। ঘুমের ঘোর কাটতেই যখন দুজনে নিজেদের একসাথে আবিষ্কার করে, তখন তারা আর পরিস্থিতি সামলাতে পারে না। রাতের সব ভালোবাসা যেন সকালের আলোয় আবার পারিবারিক ইগো আর অপমানে বদলে যায়। দুজনেই লজ্জিত ও ক্ষুব্ধ হয়ে একে অপরকে দোষ দিতে শুরু করে। পারুল রেগে গিয়ে বলে সে এই অন্যায়ের জন্য পুলিশের কাছে অভিযোগ করবে, অন্যদিকে রায়ানও পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলে সেও পারুলকে সহজে ছেড়ে দেবে না। ফলে তাদের সম্পর্কের টানাপোড়েন মিটে যাওয়ার বদলে এক নতুন মোড় নেয়।

