বিরাট দুঃসংবাদ! না ফেরার দেশে সুরের সাধক! ১০৪ বছর বয়সে পরলোক গমন করলেন পদ্মশ্রী প্রাপ্ত কিংবদন্তি শিল্পী! শোকস্তব্ধ দুই বাংলা!

বাংলা সঙ্গীতজগতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। দীর্ঘদিন ধরে নিজের অসাধারণ সুরে অসংখ্য মানুষকে মুগ্ধ করা প্রখ্যাত সারেঙ্গী শিল্পী বৃহস্পতিবার গভীর রাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। রাত প্রায় দেড়টা নাগাদ তাঁর মৃত্যুর খবর সামনে আসতেই শিল্পীমহল ও অনুরাগীদের মধ্যে নেমে আসে শোকের আবহ। বহু বছর ধরে সঙ্গীতচর্চার মাধ্যমে তিনি মানুষের হৃদয়ে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কিছুদিন ধরেই তিনি অসুস্থ ছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন এই প্রবীণ শিল্পী। গত কয়েক মাসে শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। জলপাইগুড়িতে চিকিৎসাও চলছিল নিয়মিত। চিকিৎসকদের একটি বিশেষ দল তাঁর শারীরিক পরিস্থিতির উপর নজর রাখছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত অবস্থার আর উন্নতি হয়নি।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, শেষ কয়েকদিনে তিনি অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন। ধীরে ধীরে খাওয়াদাওয়াও প্রায় বন্ধ করে দেন। শারীরিক শক্তি কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। অবশেষে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সকলকে কাঁদিয়ে চিরবিদায় নেন তিনি। শুক্রবার তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে ময়নাগুড়ির ধওলাগুড়িতে।
আরও পড়ুন: ‘সবার সাথে বন্ধুত্ব করা উচিত নয়!’ ‘আমি চট করে মিশি না!’ ‘জোর করে কাউকে ভালোবাসতে বা…পারব না!’ কেনো সবার থেকে দূরত্ব বজায় রাখেন অভিনেতা? ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মুখ খুললেন হানি বাফনা!
শুধু সারেঙ্গী বাজানোই নয়, নিজের সুরের মাধ্যমে নানা ধরনের পশুপাখির ডাকও তুলে ধরতে পারতেন তিনি। এই অসাধারণ প্রতিভার জন্য আলাদা পরিচিতি পেয়েছিলেন শিল্পী। সঙ্গীতের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা এবং সরল জীবনযাপন বহু মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে। তবে এত সম্মান ও জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও জীবনের বড় একটা সময় তাঁকে আর্থিক কষ্টের মধ্য দিয়েই কাটাতে হয়েছিল।

প্রয়াত এই শিল্পীর নাম মঙ্গলাকান্ত রায়। তিনি মূলত ওপার বাংলার মানুষ হলেও এপার বাংলাতেও তাঁর সুরের অসংখ্য অনুরাগী ছিলেন। ২০২৩ সালে তাঁকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করা হয়। ১০৪ বছর বয়সে জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়িতে নিজের বাড়িতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন কিংবদন্তি এই সারেঙ্গী বাদক।

