ডিভোর্স রুখতে রায়ানের কাণ্ড! পারুলের জলে জোলাপ মেশালো রায়ান! ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম! রায়ানের মুখ দিয়ে ভালোবাসার কথা কি বের করতে পারবে পারুল?

জি বাংলার (Zee Bangla) পরিণীতা ধারাবাহিকে (Parineeta) গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, পারুল যখন অডিটোরিয়ামের বাইরে শিরিনকে দ্রুত গতিতে গাড়ি চালিয়ে চলে যেতে দেখল, তখনই তার সন্দেহের তীর বাস্তবে রূপ নিল। গাড়ির নাম্বার প্লেট মিলিয়ে সে নিশ্চিত হলো যে, এই অগ্নিকাণ্ড কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং শিরিনের এক জঘন্য ষড়যন্ত্র। মল্লার ও বাকিদের সামনে যখন পারুল এই সত্য উন্মোচন করল, তখন রায়ানের দীর্ঘদিনের পরিশ্রম আর তিল তিল করে গড়া স্বপ্ন পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ার যন্ত্রণায় তার মাথার রক্ত চড়ে গেল। নিজের মেধা আর আবেগের অবমাননা সইতে না পেরে রায়ান নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলল। তার গর্জন চারপাশ কাঁপিয়ে দিল সে ঘোষণা করল, তার স্বপ্নের ওপর আঘাত হানার চরম মূল্য শিরিনকে আজ হাড়াহাড়িতে বুঝিয়ে দেবে।

কাউকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই রায়ান ঝড়ের গতিতে তার বাইক নিয়ে শিরিনের গাড়ির পিছু ধাওয়া করল। পারুল ও অন্যরা তাকে আটকানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হলো কারণ তখন রায়ানের চোখে কেবল প্রতিশোধের নেশা আর পুড়ে যাওয়া স্বপ্নের ছবি। রাস্তার মাঝখানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাইক দিয়ে শিরিনের গাড়িকে আটকে দিল সে। গাড়ি থামতেই রায়ান উন্মত্তের মতো দরজা খুলে শিরিনকে একপ্রকার টেনে-হিঁচড়ে বের করে আনল। শিরিন কিছু বুঝে ওঠার আগেই রায়ান তার গালে কষে এক থাপ্পড় মারল। রায়ানের এই রুদ্রমূর্তি দেখে ধূর্ত শিরিনও ভয়ে কুঁকড়ে গেল। রায়ান বুঝিয়ে দিল যে, শান্ত মানুষের ধৈর্যের বাঁধ ভাঙলে তা আগ্নেয়গিরির চেয়েও ভয়ঙ্কর হতে পারে।

এই চরম উত্তেজনার মধ্যেই পারুল এক অদ্ভুত মানসিক যন্ত্রণায় দগ্ধ হতে শুরু করল। সে বুঝতে পারল, শিরিন আগে থেকেই জানে রায়ানের মনের মানুষটি আসলে কে, অথচ যার জন্য রায়ানের এত উন্মাদনা, সেই পারুল নিজেই আজ ধোঁয়াশার মধ্যে রয়ে গেছে। শিরিনের পরাজয় হলেও পারুলের মনের কষ্ট কমল না। এর মাঝেই ডিভোর্সের মামলা আদালত পর্যন্ত গড়ায়। কিন্তু রায়ান মনে মনে পারুলকে হারানোর ভয়ে অস্থির হয়ে ওঠে। তার জেদ আর ভালোবাসার এক অদ্ভুত সংমিশ্রণে সে এক পাগলামি সিদ্ধান্ত নিয়ে বসে যাতে পারুল কোর্টে পৌঁছাতে না পারে, সেজন্য সে গোপনে পারুলের পানীয় জলের সাথে জোলাপ মিশিয়ে দেয়।

পরদিন যথারীতি রায়ান ও পারুলের ডিভোর্সের দিন ধার্য থাকলেও পারুলের শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় তার কোর্টে যাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। ঠিক তখনই ঋত্বিক বাবু একটি ভিডিও ফুটেজ পারুলকে দেখান, যেখানে রায়ানকে সেই কাণ্ড করতে দেখা যায়। প্রমাণ দেখে পারুল হতবাক হয়ে গেলে ঋত্বিক বুঝিয়ে বলেন যে, রায়ান কেবল তাকে ডিভোর্স থেকে আটকাতেই এমন অবাস্তব পথ বেছে নিয়েছে। পাশ থেকে পিসি মনি ও ঠাম্মি সায় দিয়ে বলেন, রায়ান তাকে কতটা ভালোবাসে বলেই হয়তো মুখ ফুটে বলতে না পেরে এই পাগলামি করছে। দাদুর মতোই তার জেদ সবকিছুতে পারুলের সমকক্ষ না হওয়া পর্যন্ত সে হার মানবে না।

আরও পড়ুন: ভোট না দিয়েই বুথ ছাড়লেন সৌরসেনী! কি দেখে ভয় পেলেন অভিনেত্রী? অবশেষে কি ভোট দিতে পারলেন তিনি?

 

পরিবারের বড়দের কথা শুনে পারুলের জেদ এবার এক নতুন মোড় নেয়। রায়ান তাকে ভালোবাসলেও কেন বারবার তা আড়াল করে রাখছে, সেই রহস্য উন্মোচনের চ্যালেঞ্জ সে গ্রহণ করে। অভিমানী পারুল সবার সামনে দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা দেয়, রায়ানের এই অবুঝ পাগলামি আর সহ্য করা হবে না। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সে রায়ানকে বাধ্য করবে তার মনের লুকানো কথাগুলো নিজের মুখে স্বীকার করতে। রায়ান ও পারুলের এই বিচ্ছেদ আর মিলনের দোলাচলে শুরু হলো এক নতুন খেলা, যেখানে এখন কেবল অপেক্ষা রায়ানের সেই কাঙ্ক্ষিত ভালোবাসার স্বীকারোক্তির।

Back to top button