কাটাকাটি থেকে আচমকা গালে চু’মু! ডিভোর্সের মাঝেই রায়ান-পারুলের রোমান্টিক মুহূর্ত? পারুলকে কাছে টেনে মনের হদিশ পেল রায়ান!

জি বাংলার (Zee Bangla) পরিণীতা ধারাবাহিকে (Parineeta) গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, রায়ানের অনুষ্ঠানে দারুণ পারফর্ম করার পর, সবাইকে অবাক করে দিয়ে রায়ানের দাদু রায়ানের মায়ের ভূয়সী প্রশংসা করেন। অথচ একটা সময় ছিল যখন দাদু কোনোদিনই চাননি যে বাড়ির বউ বাইরে গিয়ে গান-বাজনা করুক। শ্বশুরের ওপর এই নিয়ে রায়ানের মায়ের মনে এতদিন যে চাপা ক্ষোভ ও রাগ ছিল, তা আজ এক নিমেষে গলে জল হয়ে গেল। আর এই অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখিয়েছে পারুল। পারুলের বুদ্ধিমত্তা ও প্রচেষ্টার কারণেই আজ পরিবারের এই দীর্ঘদিনের দূরত্ব ঘুচে গেল।
অন্যদিকে, নিজের নাটকের শো-তে বিরাট সাফল্য পেয়েছে রায়ান। তার এই খুশির দিনে পরিবারের সবাই তাকে অনুরোধ করে, সে যেন এবার সকলের সামনে পারুলের প্রতি তার মনের লুকিয়ে থাকা ভালোবাসা প্রকাশ করে দেয়। কিন্তু রায়ানের মনে তখন অন্য ক্ষোভ। সে সাফ জানিয়ে দেয়, সে একসময় পারুলকে নিয়ে অনেক কিছু ভেবেছিল, কিন্তু পারুল তার জীবনের সমস্ত সুন্দর মুহূর্ত, সমস্ত স্বপ্ন আর গোছানো প্ল্যানিং মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছে। তাই সে নতুন করে আর কিছুই ভাবতে পারছে না।
রায়ানের এই অভিযোগে পারুলও চুপ থাকেনি। সে স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, রায়ানের জীবনকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি আর তার দৃষ্টিভঙ্গি এক নয়; পারুলের কাছে জীবনের মানে সম্পূর্ণ আলাদা। এই টানাপোড়েনের মাঝেই পারুল মহাদেবের মন্দিরে গিয়ে ‘ন্যাড়া গোপাল’ নিয়ে প্রার্থনা করে এবং মহাদেবের সামনে রায়ানের প্রতি তার গভীর ভালোবাসার কথা স্বীকার করে। অদ্ভুত বিষয় হলো, কিছুদিন আগেই রায়ানের মনেও পারুলের জন্য একই অনুভূতি জেগেছিল এবং সেও এই মন্দিরে এসে মহাদেবকে জানিয়েছিল যে সে পারুলকে ভালোবাসে। কিন্তু মুখে তাদের কেবলই লড়াই। এরপর বাড়ি ফিরে পারুল চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় সে আগামী এক মাসের মধ্যে এই বাড়ি ছেড়ে চলে যাবে এবং রায়ানের হাতে ডিভোর্স পেপার ধরিয়ে দেয়।
হাতে ডিভোর্স পেপার পেয়ে রায়ান আর নিজেকে ধরে রাখতে পারে না। সে সরাসরি পারুলের ঘরে গিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়ে এবং প্রশ্ন করে, “আমি কি তোকে কখনো এই বাড়ি থেকে চলে যেতে বলেছি? নাকি তোর বিপদে পাশে দাঁড়াইনি?” পারুলও ছেড়ে দেওয়ার পাত্রী নয়। সে সঙ্গে সঙ্গে পাল্টা জবাব দেয়, “তার জন্য credit নিতে এসেছিস? যা এখান থেকে!” এই কথা কাটাকাটির মাঝেই চরম রাগের মাথায় পারুল রায়ানের বুকে ধাক্কা মারে, আর নিজেকে সামলাতে রায়ান ঝট করে পারুলের হাতটা টেনে ধরে পিঠের পেছনে মুড়িয়ে নেয়।
আরও পড়ুনঃ বিরাট দুঃসংবাদ! আচমকা প্রয়াত “সুন্দরীর দিদি” তথা জনপ্রিয় ভ্লগার সায়নী চক্রবর্তী! জানেন কি হয়েছিল তার? শোকে ভেঙে পড়লেন অনুরাগীরা!
হাত মুড়িয়ে ধরার ঠিক সেই মুহূর্তেই রায়ানের রাগ যেন এক পলকে উবে যায়। পারুলের এত কাছাকাছি এসে সে মনের ভেতর এক অদ্ভুত অনুভূতি টের পায়। ঠিক তখনই ঘটে যায় সেই একদম অবিশ্বাস্য ও অপ্রত্যাশিত কাণ্ডটি! সমস্ত রাগ, অভিমান আর ডিভোর্সের কাগজকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রায়ান হঠাৎ করেই পারুলের গালে আলতো করে একটা চুমু খেয়ে বসে। আচমকা রায়ানের এই কাণ্ডে পারুল স্তব্ধ হয়ে যায় এবং একদৃষ্টিতে শুধু তার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে।

