চন্দ্রাবতীকে টেক্কা দিতে মল্লার নিয়ে এল গুপ্ত ক্যামেরা! পারুলের মোক্ষম চালে কি কুপোকাত হবে চন্দ্রাবতী সান্যাল?

জি বাংলার (Zee Bangla) পরিণীতা ধারাবাহিকে (Parineeta) গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, ফোনে কথা বলার সময় ঋত্বিক বাবু এক শিউরে ওঠার মতো পরিস্থিতির কথা জানান। তিনি বলেন যে, চন্দ্রাবতী সান্যাল এক ভয়ংকর জেদ ধরে বসে আছেন। যদি আগামীকাল ঋত্বিক তাঁকে বিয়ে না করেন, তবে চন্দ্রাবতী নিজের মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে আত্মহত্যা করবেন। এই আত্মঘাতী হুমকির কথা শুনে উপস্থিত সবাই চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং গোটা পরিবেশে এক গভীর উদ্বেগের ছায়া নেমে আসে।

বিপদের গুরুত্ব বুঝতে পেরেও ঋত্বিক নিজেকে অত্যন্ত অসহায় বোধ করেন। যে স্থানে তাঁকে আটকে রাখা হয়েছে, সেখানে নিরাপত্তার বেষ্টনী এতটাই নিশ্ছিদ্র যে কোনো সাধারণ মানুষের প্রবেশ অসম্ভব। ঋত্বিকের ভাষায়, সেখানে একটি মশা-মাছি ঢোকারও উপায় নেই, উদ্ধার করা তো অনেক দূরের কথা। এই কড়া পাহারার কথা শুনে সবার মনে যখন আশঙ্কার কালো মেঘ জমছে, তখন ঋত্বিক নিজেও পালানোর কোনো পথ খুঁজে পাচ্ছিলেন না।

Parineeta, Zee Bangla, Bengali Serial, Bengali Television, Ishani Chatterjee, Uday Pratap Singh, Parineeta New Episode, Parineeta Today's Episode 23 April, Today's Episode, পরিণীতা, জি বাংলা, বাংলা সিরিয়াল, বাংলা টেলিভিশন, পরিণীতা আজকের পর্ব, ঈশানি চ্যাটার্জী, উদয় প্রতাপ সিং, পরিণীতা ২৩ এপ্রিল আজকের পর্ব

পারুলের দাদুকে রাজি করানোর ধরনটাই বলে দেয় সে কতটা বুদ্ধিমতী। কোনো জেদ বা রাগ না দেখিয়ে সে যেভাবে ঠান্ডা মাথায় কথা বলে দাদুকে নিজের পক্ষে আনলো, তাতে তার ব্যক্তিত্বের জোর স্পষ্ট বোঝা যায়। আবার রায়ানের সাথে পারুলের দৃশ্যগুলোতে যখন গল্পটা মোড় নেয়, তখন মনটা এক নিমেষে হালকা হয়ে যায়। তাদের মধ্যে কোনো বাড়তি নাটকীয়তা নেই, আছে খুব সাধারণ আর মিষ্টি কিছু মুহূর্ত, যা দেখতে বেশ আরামদায়ক লাগে। সবচেয়ে ভালো লাগছে এটা দেখে যে, রায়ান আর পারুলের সম্পর্কটা তাড়াহুড়ো করে নয়, বরং খুব সময় নিয়ে ধীরে ধীরে গড়ে তোলা হচ্ছে।

ঠিক এই সংকটময় মুহূর্তেই ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় পারুল। সে স্পষ্ট ভাষায় ঋত্বিক দাকে আশ্বস্ত করে জানায় যে, ভয় পাওয়ার কিছু নেই বিয়েটা তাঁর সাথেই হবে। রুকু দিদির ভবিষ্যৎ সুখের কথা চিন্তা করে পারুল নিজের জীবন বাজি রাখতেও প্রস্তুত। তার অদম্য সাহস ও দৃঢ় প্রতিজ্ঞা পুরো পরিস্থিতিকে নতুন মোড় দেয় এবং সে ঋত্বিককে নিরাপদে বের করে আনার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেয়।

আরও পড়ুন: পিসি ঠাম্মির নজর এড়িয়ে রাহিকে কলেজে পাঠানোর মাস্টারপ্ল্যান করলো রাহুল! অন্যদিকে সংসারের চরম অনটনেও শপিংয়ে মত্ত তিতলি! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

পারুলের নেতৃত্বে বসু বাড়ির সবাই একত্রিত হয়ে রুখে দাঁড়ানোর শপথ নেয়। পারুল আত্মবিশ্বাসের সাথে ঘোষণা করে যে, চন্দ্রাবতী সান্যাল যদি চতুরতায় ‘ডালে ডালে’ চলেন, তবে পারুল চক্রবর্তী চলে ‘পাতায় পাতায়’। সান্যাল বাড়িতে সশরীরে ঢুকতে না পারলেও পারুল এক গোপন দূতের কথা উল্লেখ করে, যা শুনে পরিবারের সবাই অবাক হয়ে যান। পিসি মণির কৌতূহলী প্রশ্নের মাঝেই সেখানে মল্লারের আবির্ভাব ঘটে।

মল্লার বাইক নিয়ে হাজির হয়ে পারুলের হাতে একটি বিশেষ স্পাই ক্যামেরা তুলে দেয়, যা দেখতে হুবহু একটি বড় মাছির মতো। ঋত্বিকের আগে বলা ‘মশা-মাছি না ঢোকা’র কথাটিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে পারুল মুচকি হেসে বলে যে, আসল মাছি না ঢুকলেও তার পাঠানো এই কৃত্রিম মাছি ঠিকই ভেতরে প্রবেশ করবে। এই আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যেই সান্যাল বাড়ির দুর্ভেদ্য প্রাচীর ভেদ করে ঋত্বিককে উদ্ধারের চূড়ান্ত ছক সাজিয়ে ফেলে অকুতোভয় পারুল।

Back to top button