বিয়ের আসরে আ’ত্মহত্যার হুমকি! সান্যাল বাড়ির ভাগ্য কি বদলে দিতে পারবে পারুল? দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব!

জি বাংলার (Zee Bangla) পরিণীতা ধারাবাহিকে (Parineeta) গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, রুকুর বিয়ে নিয়ে সান্যাল বাড়ির পরিবেশ এখন বেশ থমথমে। বাড়ির বড়রা দুই দলে ভাগ হয়ে গেছেন। দাদু পুরনো দিনের মানুষ, তাই তিনি মনে করেন বাড়ির কর্তা হিসেবে তাঁর কথাই শেষ কথা এবং সবার ওপর নিজের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে চান। কিন্তু এবার পরিস্থিতি বদলে যায় যখন রায়ান দাদুর মুখের ওপর প্রতিবাদ করে বসে। রায়ান স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, এখন আর আগের দিন নেই; বাড়ির ছোট-বড় সবার মতামতের দাম দিতে হবে। রায়ান নিজেকে যোগ্য প্রমাণ করতে চায় এবং পরিবারের সব দায়িত্ব নিজের কাঁধে নেওয়ার সাহস দেখায়।
গল্পে আসল লড়াইটা শুরু হয় দাদুর সেকেলে নিয়ম আর রায়ানের আধুনিক চিন্তাধারার মধ্যে। পারুল এই লড়াইয়ে রায়ানের পক্ষ নেয় এবং দাদুকে চ্যালেঞ্জ করে বলে যে, বাড়ির সবার মধ্যে ভোটাভুটি হওয়া উচিত। ভোট দিলেই বোঝা যাবে কার পাল্লা ভারী। দেখা যায়, বসু বাড়ির বেশিরভাগ মানুষই পারুলের চিন্তাধারাকে সমর্থন করছে। এদিকে চন্দ্রাবতী সান্যাল নিজে এসে বিয়ের নেমন্তন্ন করে যাওয়ায় রুকু মানসিকভাবে খুব ভেঙে পড়ে। সে বুঝতে পারে না শেষ পর্যন্ত কী হতে চলেছে।

আজকের পর্বে এক অভাবনীয় ঘটনা ঘটে। দাদু হঠাৎ সবাইকে ডেকে নির্দেশ দেন বিয়ের সানাই বাজাতে। দাদুর মুখে এই সম্মতির কথা শুনে রায়ান যেমন অবাক হয়, রুকু তেমনি আনন্দে চোখের জল ধরে রাখতে পারে না। তার এতদিনের দুশ্চিন্তা নিমেষেই খুশিতে বদলে যায়। বাড়ির সবাই একজোট হয়ে আনন্দ করতে শুরু করে এবং ঋত্বিক বাবুর সাথে ফোনে কথা বলে সব গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।
ফোনে কথা বলার সময় ঋত্বিক বাবু এক ভয়ংকর বিপদের কথা জানান। তিনি বলেন যে, চন্দ্রাবতী সান্যাল জেদ ধরে বসে আছেন। যদি কালকে ঋত্বিক বিয়ে না করেন, তবে চন্দ্রাবতী সান্যাল নিজের মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে আত্মহত্যা করবেন। এই কথা শুনে সবাই বেশ ভয় পেয়ে যায়। ঋত্বিক নিজেও খুব অসহায় বোধ করেন, কারণ যে জায়গায় তাকে রাখা হয়েছে সেখানে কড়া পাহারা রয়েছে। ঋত্বিকের মতে, সেখানে একটা মশা-মাছি ঢোকারও উপায় নেই, উদ্ধার করা তো অনেক দূরের কথা।
আরও পড়ুন: রাহির চাকরির কথা শুনেই রণচণ্ডী পিসি ঠাম্মি! পরিবারের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে শ্বশুরবাড়িতেই কোণঠাসা রাহি! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব
এই বিপদের মুখে পারুল দেবীর মতো রুখে দাঁড়ায়। সে ঋত্বিক দাকে আশ্বস্ত করে বলে যে, কোনো ভয় নেই; বিয়েটা তাঁর সাথেই হবে। পারুল দায়িত্ব নেয় ঋত্বিককে সেখান থেকে নিরাপদে বের করে আনার। ঋত্বিক যখন পাহারার কথা বলে সন্দেহ প্রকাশ করেন, তখন পারুল জোর গলায় বলে যে রুকু দিদির সুখের জন্য সে নিজের জান লড়িয়ে দেবে। পারুলের এই সাহসী আশ্বাস পুরো পরিবারকে নতুন করে আশা জাগায় এবং গল্পের মোড় এক রোমাঞ্চকর দিকে ঘুরিয়ে দেয়।

