মায়ের দেখা পেলেও কি পূর্ণতা পাবে পারুলের স্বপ্ন? যাওয়ার আগে পারুলকে কি কথা দিয়ে গেল তার মা? দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জি বাংলার (Zee Bangla) পরিণীতা ধারাবাহিকে (Parineeta) গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, বিপদের এই চরম মুহূর্তে পারুলের মনের অবস্থা ছিল খুবই শোচনীয়। একদিকে ভয়ংকর পরিস্থিতি, অন্যদিকে মনের ভেতর পুরনো স্মৃতির তোলপাড়—সব মিলিয়ে সে এক কঠিন লড়াই লড়ছিল। মায়ের সাথে কাটানো সেই সুন্দর দিনগুলো যখন তার চোখের সামনে ভেসে উঠছিল, তখন দৃশ্যগুলো হয়ে উঠেছিল ভীষণ হৃদয়বিদারক। মায়ের স্নেহ আর পারুলের সেই আকুতি দর্শকদের মনকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। এত বড় ঝড়ের মাঝেও মেয়েটা যে কেবল একবার তার মায়ের কোলে ফিরতে চেয়েছিল, সেই আবেগঘন মুহূর্তগুলো যে কাউকে কাঁদিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল।

অন্যদিকে, রুক্মিণী ও ঋত্বিকের পরিস্থিতিও ছিল যন্ত্রণাদায়ক। গভীর জঙ্গল আর ভয়ংকর শত্রুদের হাত থেকে বাঁচতে তারা প্রতিটা সেকেন্ড লড়াই করছিল। অনেক কষ্টে লুকিয়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত ভাগ্যের ফেরে তারা গুন্ডাদের হাতে ধরা পড়ে যায়। গুন্ডারা তাদের দিকে বন্দুক ঠেকিয়ে চন্দ্রাবতী সান্যালকে খবর দেয়। তবে চন্দ্রাবতী সেখানে পৌঁছানোর আগেই ঋত্বিক ও রুক্মিণী নিজেদের সাহসিকতায় সেখান থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। ওদিকে পারুল, রায়ান এবং পরিবারের বাকিরা জঙ্গলের মানুষের সাহায্য নিয়ে তাদের হন্যে হয়ে খুঁজছিল।

অনেক খোঁজাখুঁজির পর অবশেষে পারুল ও রায়ান খুঁজে পায় রুক্মিণী আর ঋত্বিককে। প্রিয় মানুষদের কাছে পেয়ে রুক্মিণী ও ঋত্বিক কান্নায় ভেঙে পড়ে। কিন্তু তাদের সেই স্বস্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না। তারা সেখান থেকে পালানোর আগেই চন্দ্রাবতী সান্যাল সদলবলে সেখানে হাজির হন। প্রতিহিংসায় অন্ধ হয়ে চন্দ্রাবতী সবাইকে একসাথে পুড়িয়ে মারার নির্দেশ দেন। কাহিনীর এই মোড়ে জীবন আর মৃত্যুর মাঝে ব্যবধান হয়ে দাঁড়ায় মাত্র কয়েক সেকেন্ড। তবে ঠিক এই সংকটময় মুহূর্তে পারুলদের বাঁচাতে ভগবানের মতো সেখানে এসে উপস্থিত হয় পারুলের মা।

আগামী পর্বে দর্শকরা দেখতে পাবেন এক চরম আবেগঘন দৃশ্য। অনেকদিন পর মায়ের দেখা পেলেও সেই আনন্দ পারুলের জীবনে বেশিক্ষণ স্থায়ী হবে না। পারুল যখন তার মাকে জড়িয়ে ধরে আকুল হয়ে জিজ্ঞেস করবে, “তুমি আবার আমাকে ছেড়ে চলে যাবে না তো?” তখনই তার সেই আশা ভেঙে চুরমার হয়ে যাবে। পারুলের মা তাকে জানিয়ে দেয় যে, পরিস্থিতি এমন যে তাকে আবারও চলে যেতেই হবে। তবে যাওয়ার আগে সে তার মেয়েকে নিয়ে কতটা গর্বিত, সে কথা জানাতে ভুলবে না।

আরও পড়ুন: আমি বাংলা ছবি দেখি না!’ ‘সেদিন বুঝতে পেরেছিলাম, আমি ঠিক কোন…’ জাতীয় স্তরে বাংলার মুখ! কোন ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা বললেন টোটা রায় চৌধুরী? 

পুরো পর্বের সবচেয়ে আবেগপ্রবণ মুহূর্ত হবে মায়ের দেওয়া সেই শেষ আশ্বাস। মা পারুলকে বলবে, “তোর যখনইয় প্রয়োজন হবে, জানবি তোর মা সবসময় পাশে আছে।” এই কথাগুলো যেন ভেঙে পড়া পারুলকে ভেতর থেকে নতুন করে শক্তি জোগাবে। সব মিলিয়ে আগামী পর্বটি হতে চলেছে একইসাথে অত্যন্ত কষ্টের এবং অনুপ্রেরণার, যা সাধারণ দর্শকদের মনে এক গভীর রেখাপাত করবে।

Back to top button