বাবা ভুবনেশ্বরের মন্দিরে পারুল-টগর! বোতলের ভেতরে রাখা চিঠিতে লুকিয়ে কোন রহস্য? টগরের ইশারা কি বদলে দেবে সব হিসেব? দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জি বাংলার (Zee Bangla) পরিণীতা ধারাবাহিকে (Parineeta) গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, টগরকে সুস্থ করে যখন মল্লারের বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়, তখন মল্লারের মা এক কুৎসিত চাল চালেন। তিনি ইচ্ছে করেই টগরকে নিজের ছেলের থেকে আলাদা রাখার জন্য একটি কুপরিকল্পনা করেন। মল্লারের মায়ের এই হীন মানসিকতা বাড়ির কারোরই বুঝতে বাকি থাকে না। তবে সব প্ল্যানে জল ঢেলে দিয়ে মল্লার এবার শক্ত হাতে পরিস্থিতি সামাল দেয়। মায়ের অন্যায় সিদ্ধান্তের পাশে না দাঁড়িয়ে, সে টগরের পাশে এসে দাঁড়ায় এবং তার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেয়।
এদিকে বিছানায় শুয়ে থাকা অসুস্থ টগরের কাছ থেকে আসল সত্যিটা জানার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পারুল। সে ভালো করেই জানে, টগর এমন কিছু গোপন তথ্য জেনে গেছে যা সবার সামনে আসা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু টগর এখন কথা বলার বা স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করার অবস্থায় নেই। তাই পারুল তাকে বারবার অনুরোধ করতে থাকে, সে যেন অন্তত আকারে-ইঙ্গিতে বা ইশারায় হলেও বুঝিয়ে দেয় যে শিরিনের বাড়ি থেকে সে ঠিক কোন সত্যটা জানতে পেরেছিল। যে সত্যের সাথে জড়িয়ে রয়েছে খোদ পারুলের নিজের জীবনের এক বিরাট রহস্য।
পারুলের আকুল আর্জি ও কথামতো টগর নিজের শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে চেষ্টা করতে শুরু করে। অবশেষ শত কষ্টের মাঝেও সে তার হাত দিয়ে ‘বাবা ভুবনেশ্বর’-এর দিকে ইঙ্গিত করতে সক্ষম হয়। টগরের এই ইঙ্গিত পেয়েই তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন পারুল আন্দাজ করে নেয় যে, বাবা ভুবনেশ্বরের মন্দির বা তার সংলগ্ন এলাকাতেই কোনো এক বড় রহস্য লুকিয়ে আছে। সে মনে মনে নিশ্চিত হয় যে, খুব সম্ভবত কোনো বোতলের মধ্যে রাখা চিঠির ভেতরেই বন্দী হয়ে আছে তার জীবনের সেই আসল সত্যিটা, যা টগর তাকে বলতে চেয়েছিল।
আসলে ঘটনার পেছনে লুকিয়ে আছে এক বড় অতীত। টগর যখন পারুলের জীবনের আসল সত্যিটা জানতে পেরেছিল, তখন কোনো এক বিপদের আশঙ্কায় সে সমস্ত কথা একটি চিঠিতে লিখে বাবা ভুবনেশ্বরের মন্দিরে লুকিয়ে রেখে এসেছিল। ধারাবাহিকের আগামী পর্বে দর্শক দেখতে পাবেন, পারুল আর এক মুহূর্তও সময় নষ্ট না করে টগরকে সাথে নিয়ে সরাসরি বাবা ভুবনেশ্বরের মন্দিরে হাজির হয়। সেখানে গিয়ে সে এক এক করে বিভিন্ন বোতল টগরের সামনে এনে দেখাতে শুরু করে, যাতে আসল চিঠিটা খুঁজে পাওয়া যায়।
আরও পড়ুনঃ ‘ওই না বলাটা সবচেয়ে কঠিন ছিল!’ ‘আমি তো ভালো ছিলাম, সুখে ছিলাম হঠাৎ কেন…’ ‘রাতারাতি ওই চাপ সৃষ্টি…’ একপ্রকার জোর করেই উন্নয়নের পাঁচালী গেয়েছিলেন ইমন চক্রবর্তী! বি’স্ফোরক গায়িকা!
মন্দিরে পৌঁছে পারুল টগরকে ভরসা দিয়ে বলে, সে যেন মন শক্ত করে ভালো করে আঙুলের ইশারায় আসল বোতলটি দেখিয়ে দেয়। পারুলের কথামতো অসুস্থ টগর চেষ্টা চালিয়ে যায় এবং পারুল একটার পর একটা বোতল তার সামনে ধরে জিজ্ঞেস করতে থাকে। অবশেষে একপর্যায়ে একটি বিশেষ বোতল দেখাতেই টগর আঙুল উঁচু করে সম্মতি জানায়। কাকতালীয়ভাবে সেই বোতলের ভেতরে থাকা চিঠিতে লেখা রয়েছে পারুলের আসল বাবা সৌমিত্রর নাম! কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে পারুল কি সত্যিই উদ্ধার করতে পারবে টগরের এই ইশারা? নাকি আবারো কোনো নতুন বাধা এসে সত্য আড়াল করে দেবে, তা জানতে চোখ রাখতে হবে ধারাবাহিকের আগামী পর্বগুলোতে।

