‘ওই না বলাটা সবচেয়ে কঠিন ছিল!’ ‘আমি তো ভালো ছিলাম, সুখে ছিলাম হঠাৎ কেন…’ ‘রাতারাতি ওই চাপ সৃষ্টি…’ একপ্রকার জোর করেই উন্নয়নের পাঁচালী গেয়েছিলেন ইমন চক্রবর্তী! বি’স্ফোরক গায়িকা!

জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী ইমন চক্রবর্তী (Iman Chakraborty) বর্তমান বাংলা সংগীত জগতের অন্যতম জনপ্রিয় এবং প্রতিভাবান এক নাম। ২০১৬ সালে ‘প্রাক্তন’ চলচ্চিত্রের ‘তুমি যাকে ভালোবাসো’ গানের জন্য জাতীয় পুরস্কার জয়ের পর থেকেই তিনি শ্রোতাদের মনের মণিকোঠায় জায়গা করে নিয়েছেন। শুধু প্লে-ব্যাক নয়, রবীন্দ্রসংগীত এবং লোকগানেও তাঁর অসাধারণ দক্ষতা সর্বজনবিদিত। সম্প্রতি একটি টক-শো-তে এসে নিজের ব্যক্তিগত জীবন ও সাম্প্রতিক নানা বিতর্ক নিয়ে অত্যন্ত খোলামেলা আলোচনা করেছেন এই গুণী শিল্পী।

বিগত বেশ কিছুদিন ধরেই নেটপাড়ায় এবং সংবাদমাধ্যমে জল্পনা চলছিল যে ইমন চক্রবর্তী হয়তো রাজনীতিতে যোগ দিচ্ছেন এবং নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চলেছেন। এই সাক্ষাৎকারে সেই সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ইমন স্পষ্ট জানিয়েছেন যে তিনি কোনোভাবেই রাজনীতিতে আসছেন না। তিনি জানান, এবার তাঁর কাছে রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার বা নির্বাচনে দাঁড়ানোর প্রস্তাবটি অত্যন্ত প্রবল এবং গভীর ছিল। তবে প্রথম থেকেই তিনি এই প্রস্তাবের জবাবে ‘না’ বলে আসছিলেন। অবশেষে তিনি এবং তাঁর স্বামী নীলাঞ্জন সরাসরি গিয়ে হাত জোড় করে বিনীতভাবে সেই বড় রাজনৈতিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।

Iman Chakraborty, Tollywood, Bengali actress, entertainment, Bengali singer, ইমন চক্রবর্তী, টলিউড, বাঙালি গায়িকা, শিল্পী, বিতর্ক

রাজনীতিতে না আসার কারণ হিসেবে ইমন তাঁর গানের প্রতি ভালোবাসাকেই সবচেয়ে বড় করে দেখিয়েছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি তিনি নির্বাচনে দাঁড়িয়ে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন জায়গায় র্যালি বা রাজনৈতিক প্রচার করতে থাকতেন, তবে তাঁর নিজের মিউজিক বা গানের কী হতো! অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে তিনি জানান যে গান করাই তাঁর একমাত্র কাজ এবং ধর্ম। জীবনের এই মোড়ে এসে এত বড় একটি রাজনৈতিক প্রস্তাবকে ফিরিয়ে দেওয়া তাঁর জন্য মোটেও সহজ ছিল না। ইমন অকপটে স্বীকার করেছেন যে, কোনোভাবে ওই ‘না’ বলতে পারাটা তাঁর জীবনের অন্যতম কঠিন একটি দিন ছিল।

সাক্ষাৎকারে রাজ্য সরকারের “উন্নয়নের পাঁচালি” গানটি গাওয়া এবং এর ফলে সৃষ্ট তীব্র বিতর্ক ও ট্রোলিং নিয়েও কথা বলেন ইমন। নবান্নের সভাঘরে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সরকারের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরা এই গানটি গাওয়ার পর সমাজমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁকে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন, কেন একজন স্বাধীন জাতীয় পুরস্কার জয়ী শিল্পীকে এই ধরণের ‘কম্প্রোমাইজ’ করতে হলো? এই প্রসঙ্গে সঞ্চালকের প্রশ্নের জবাবে ইমনের অবস্থান ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট এবং পেশাদার।

আরও পড়ুনঃ নাচে গানে জমজমাট ঝিনুকের বিয়ের আসর! পল্লবীর আমন্ত্রণের মুখোমুখি আদিত্য! তবে কি ফাঁ’স হয়ে যাবে সব গোপন সত্যি? দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

ইমন জানান, এই গানটি অন্য একজনের গাওয়ার কথা ছিল। সেই সময় ওই বিধায়ক গর্ভবতী ছিলেন যার কারণে তিনি ওই গান গাইতে পারেননি। কিন্তু ইমন বারবার বলেছিল তারপরে তার শুটিং রয়েছে তিনি কোনোভাবেই গানের রেকর্ডিং করতে আসতে পারবেন না। কিন্তু তাও তাকে বারবার অনুরোধ করা হয়। আর ইমন সেই অনুরোধ ফেরাতে পারেননি। তিনি মূলত একজন আমন্ত্রিত শিল্পী হিসেবে রাজ্য সরকারের সেই প্রশাসনিক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে পাওয়া আমন্ত্রণকে সম্মান জানিয়েই সেখানে গিয়েছিলেন। গানটির কথা এবং সুর আগে থেকেই তৈরি ছিল, তিনি কেবল একজন পেশাদার গায়িকা হিসেবে নিজের দলের সাথে তা পরিবেশন করেছিলেন। এর সাথে তাঁর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক আদর্শের কোনো সম্পর্ক ছিল না। গানটি প্রকাশের পর নেটপাড়ায় যেভাবে বিষয়টিকে রাজনৈতিক রূপ দিয়ে তাঁকে তীব্র ট্রোল করা হয়েছিল, সেই অনভিপ্রেত অভিজ্ঞতা তাঁকে বিস্মিত ও আঘাত করলেও, নিজের গান এবং শ্রোতাদের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে তিনি বিন্দুমাত্র সরে আসেননি।

Back to top button