অগ্নিপরীক্ষার মুখে পারুল! জ্ব’লন্ত কাঠকয়লার মধ্যে থেকে কি পারবে রায়ানের বাবা-মাকে উদ্ধার করতে? দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জি বাংলার (Zee Bangla) পরিণীতা ধারাবাহিকে (Parineeta) গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, পারুল যখন ভেঙে পড়া রায়ানকে সান্ত্বনা দিচ্ছিল, ঠিক তখনই এক অভাবনীয় ঘটনার সূত্রপাত হয়। অন্যমনস্ক পারুল অসাবধানতাবশত পা ফসকে পড়ে যেতে নিলেই এক রহস্যময় সুদর্শন নায়কের আবির্ভাব ঘটে। অত্যন্ত রোমান্টিক ভঙ্গিতে সে পারুলকে জাপটে ধরে পতন থেকে রক্ষা করে। দীর্ঘক্ষণ তারা একে অপরের চোখের দিকে অপলক তাকিয়ে থাকে, যা দেখে দূর থেকে রাগে ও ঈর্ষায় ফেটে পড়ে রায়ান। এই দৃশ্য রায়ানের মনে সুপ্ত থাকা পারুলের প্রতি অধিকারবোধ ও আবেগকে আরও উসকে দেয়। তবে এই নতুন নায়ক পারুল নাকি রাকার জীবনে ঝোড়ো হাওয়া হয়ে আসবে, তা নিয়ে এক গভীর রহস্যের সৃষ্টি হয়।

মাঠের বাইরের শত্রুতা এবার পারিবারিক ধ্বংসলীলায় রূপ নিতে শুরু করেছে। টগরের মাধ্যমে বসু পরিবারের অন্দরমহলের সব গোপন খবর পেয়ে শিরিন ও সংযুক্তা হাত মেলায় কুখ্যাত অপরাধী লুকাসের সাথে। তাদের একমাত্র লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায় যেকোনো মূল্যে পারুলদের পুরো পরিবারকে বিপদে ফেলে তাদের শান্তি কেড়ে নেওয়া। প্রতিশোধের নেশায় মত্ত হয়ে তারা এমন এক নীল নকশা তৈরি করে, যা বসু পরিবারের অস্তিত্বকে সংকটের মুখে ঠেলে দেয়। তাদের এই অশুভ আঁতাত এক ভয়ংকর পরিণতির সংকেত দিতে থাকে।

বাড়ি ফেরার পথে আচমকাই শিরিন ও সংযুক্তার লোকজন রায়ানদের গাড়ি আক্রমণ করে। চালক নারুকে প্রথমে অজ্ঞান করে দিয়ে তারা পুরো গাড়িটি হাইজ্যাক করে নেয় এবং রায়ানসহ পুরো পরিবারকে অপহরণ করে সংযুক্তাদের গোপন আস্তানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সবাইকে অজ্ঞান করে আটকে রাখা হয়। অন্যদিকে বাড়িতে অনিরুদ্ধ, ঠাকুমা ও রুক্মিণী চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাতে থাকে। রায়ান ও পারুলের ফোন সুইচড অফ দেখে তাদের উদ্বেগ আরও বাড়ে। এমন সময় একটি প্রাইভেট নম্বর থেকে অনিরুদ্ধর কাছে ফোন আসে এবং জানানো হয় যে তাদের সবাইকে কিডন্যাপ করা হয়েছে এবং তাদের নিস্তার নেই।

আস্তানায় জ্ঞান ফেরার পর পারুলরা যখন নিজেদের বন্দি অবস্থায় আবিষ্কার করে, তখন সংযুক্তা নিজে সামনে এসে নিজের পরিচয় দেয়। তাকে জীবিত দেখে পরিবারের সবাই স্তম্ভিত হয়ে যায় এবং বুঝতে পারে যে তার মৃত্যুর পুরো নাটকটি ছিল আসলে এক বিশাল ষড়যন্ত্র। বিপদের এই মুহূর্তে বসু পরিবারের সদস্যরা দমে না গিয়ে একে অপরের হাত শক্ত করে ধরে। তারা সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে এই বন্দিদশা থেকে মুক্তির পথ খুঁজতে শুরু করে, কিন্তু শিরিন ও সংযুক্তার একের পর এক নতুন বিপদ তাদের ঘিরে ধরতে থাকে।

আরও পড়ুনঃ মৃ’ত্যুও মুছতে পারবেনা অভিনেতার উপস্থিতি? রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের জায়গা নেবে AI? থাকবে একই চেহারা একই কন্ঠস্বর? “ভোলেবাবা পার করেগা”য় অভিনেতার অসমাপ্ত কাজ নিয়ে নতুন চমক!

প্রতিহিংসার চরম সীমায় পৌঁছে সংযুক্তা রায়ানের বাবা-মাকে একটি খাঁচায় বন্দি করে এবং পারুলদের সামনে এক নৃশংস চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয়। সে জানায়, এটি তাদের জীবনের দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ। বাবা-মাকে বাঁচাতে হলে জ্বলন্ত কাঠকয়লার ভেতর থেকে চাবি বের করে খাঁচার তালা খুলতে হবে। এই অমানবিক শর্ত শুনে সবাই শিউরে ওঠে। সংযুক্তা স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, চাবি বের করতে না পারলে চোখের সামনেই তাদের মৃত্যু দেখতে হবে। নাট্যমঞ্চের লড়াই ছাপিয়ে বসু পরিবারের সামনে এখন এক কঠিন ‘সার্ভাইভাল গেম’ শুরু হয়েছে, যেখানে প্রতিটি পদক্ষেপ তাদের জীবনের শেষ মুহূর্ত হতে পারে।a

Back to top button