নিজের হকের টাকা চাইতে গিয়ে অপমানিত শ্রীনিবাস! অন্যের বিপদের পাশে থাকলেও নিজের বিপদে কপালে জুটল কেবল লাঞ্ছনা! চোখে জল আনবে আজকের পর্ব

জি বাংলার (Zee Bangla) পর্দায় পথচলা শুরু করেছে নতুন ধারাবাহিক ‘কমলা নিবাস’ (Kamala Nibas )। গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, সাগর ও পল্লবীর বিয়ের সবকিছু ঠিকঠাক হওয়ার পর যখন সবাই খুশি ছিল, তখনই গল্পের খলনায়িকা হয়ে দাঁড়ায় সাগরের বোন। সে মনেপ্রাণে এই বিয়েটা আটকাতে চায়। তাই পল্লবীর মধ্যবিত্ত পরিবারের মনে ভয় ধরাতে সে এক বিশাল বাজেটের গল্প ফাঁদে। সে দম্ভ করে বলে যে, তাদের আত্মীয়-স্বজন অন্তত দুই হাজার এবং বিয়ের খরচ এক কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। সাগরের বোনের এমন আকাশচুম্বী দাবি শুনে পল্লবীর মা খুব ঘাবড়ে যান এবং মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে যান।

হঠাৎ করে এত টাকার খরচের কথা শুনে পল্লবীর বাবা-মা দিশেহারা হয়ে পড়েন। তারা নিজেদের জমানো টাকা নিয়ে হিসেব নিকেশ শুরু করেন। পল্লবীর মা পরামর্শ দেন যে, বিপদের জন্য তাদের যে কয়েক লক্ষ টাকার ফিক্সড ডিপোজিট আছে, তা মেয়ের বিয়ের জন্যই ভেঙে ফেলতে হবে। একটি সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের অসহায়ত্ব এখানে ফুটে ওঠে, যেখানে একদিকে মেয়ের সুখের চিন্তা আর অন্যদিকে সাগরের বোনের অহংকার এই দুইয়ের চাপে তারা পিষ্ট হতে থাকেন।

এই কঠিন সময়ে টাকার ব্যবস্থা করতে শ্রীনিবাস ও কমলা ঠিক করেন যে, তারা শঙ্করের বাড়ি যাবেন। আগে বিপদের সময় শঙ্করকে কিছু টাকা ধার দিয়েছিলেন শ্রীনিবাস। তিনি ভেবেছিলেন নিজের বিপদে সেই টাকাটা এখন ফেরত চাইলে হয়তো সমস্যার সমাধান হবে। কিন্তু শঙ্করের বাড়িতে গিয়ে তারা সম্পূর্ণ উল্টো অভিজ্ঞতার শিকার হন। টাকা ফেরত দেওয়ার কোনো সদিচ্ছা না দেখিয়ে শঙ্করের ছেলে উল্টো এক বিশ্রী পরিস্থিতি তৈরি করে।

শঙ্করের ছেলে সরাসরি টাকা না দিয়ে এক ধরনের নাটক শুরু করে। সে তার মায়ের সামনে শ্রীনিবাসকে ‘অন্নদাতা’ বলে ব্যঙ্গ করে এবং এমনভাবে কথা বলে যেন টাকা চাইলে তাদের অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যাবে। সে ভয় দেখায় যে, কয়েকদিন পর পাওনাদারদের লম্বা লাইন পড়বে। ছেলের এমন অপমানজনক কথা শুনে শ্রীনিবাস রেগে গিয়ে বাড়ির ভেতরে ঢুকে প্রতিবাদ করতে চাইলে কমলা তাকে থামিয়ে দেন। কমলা চাননি পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হোক, তাই তিনি শ্রীনিবাসকে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে আসেন।

আরও পড়ুনঃ যমের দুয়ার থেকে গোরাকে ফেরালো কুন্তল! ফুল মুরারী কাব্যের সন্ধানে পুলস্ত্যের ঘরে দিত! ধরা পড়ার মুখে কি ফাঁস হলো বড় কোনো রহস্য? দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

রাস্তায় বেরিয়ে শ্রীনিবাসের রাগ আর ধরে রাখা সম্ভব ছিল না। তিনি ক্ষোভের সাথে কমলাকে বলেন যে, এই টাকাটা তার হকের টাকা, কোনো দান বা ভিক্ষা নয়। বন্ধু বিপদে পড়েছিল বলেই তিনি কষ্ট করে জমানো টাকা ধার দিয়েছিলেন, কিন্তু আজ যখন নিজের মেয়ের বিয়ের জন্য টাকার দরকার, তখন তাকেই অপমান সইতে হচ্ছে। একদিকে মেয়ের বিয়ের বিশাল বাজেটের চাপ আর অন্যদিকে নিজের পাওনা টাকা না পাওয়ার যন্ত্রণা এই দুই সংকটে পল্লবীর পরিবারের জীবন এখন এক বড় পরীক্ষার মুখে।

Back to top button