বিপদের দিনে পল্লবীর রক্ষাকর্তা আদিত্য! গুন্ডা দমনের পর পল্লবীর খোঁপায় ফুলের মালা পরাল সে! এক অপূর্ব ঘটনার সাক্ষী রইল দর্শক!

জি বাংলার (Zee Bangla) পর্দায় পথচলা শুরু করেছে নতুন ধারাবাহিক ‘কমলা নিবাস’ (Kamala Nibas)। গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, সুপর্ণার হঠাৎ ফোন পেয়ে পল্লবী যেমন অবাক হয়, তেমনই তার পরিবারের সবাই বেশ চিন্তায় পড়ে যান। আগের দিনই সুপর্ণারা এসে তাদের ভীষণ অপমান করেছিল, তাই একা একা পল্লবীকে ওই বাড়িতে পাঠাতে বাড়ির কেউ ভরসা পাচ্ছিলেন না। অবশেষে নিরাপত্তার কথা ভেবে পল্লবীর বড় দাদাও তার সঙ্গে সাগরের বাড়িতে যান। সেখানে তারা পৌঁছানো মাত্রই উকিলবাবু সাগরের বহু প্রতীক্ষিত উইলটি পড়ে শোনান। উইলে লেখা ছিল, সাগরের সমস্ত স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির একমাত্র আইনসম্মত মালিক হলো পল্লবী, এমনকি সাগরের হয়ে যেকোনো জায়গায় সই করার আইনি অধিকারও তাকেই দেওয়া হয়েছে। এই অভাবনীয় সিদ্ধান্তে পল্লবী নিজে যেমন স্তব্ধ হয়ে যায়, তেমনই সম্পত্তি হাতানোর সমস্ত চক্রান্ত ব্যর্থ হওয়ায় সুপর্ণা ও সানি এক বিশাল ধাক্কা খায়।
সাগরের বাড়ি থেকে ফিরে পল্লবীর দাদা আনন্দের সাথে সবাইকে জানান যে, এখন থেকে সাগরের সমস্ত সম্পত্তির মালিক পল্লবী। এর ফলে তাদের বাবা-মায়ের সাধের বাড়ি ‘কমলা নিবাস’ তৈরি করার স্বপ্ন এবার সহজেই পূরণ করা সম্ভব হবে। কিন্তু এই আনন্দের মাঝেই প্রতিবাদ করে ওঠে বাড়িতে আশ্রিত ছেলে রাজু, যাকে পরিবারের সবাই নিজেদের সন্তানের মতোই ভালোবাসে। রাজু স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, পল্লবী কখনোই নিজের স্বার্থে সাগরের এই সম্পত্তি বা টাকা গ্রহণ করবে না। রাজুর মুখে এই কথা শুনে ক্ষিপ্ত হয়ে পল্লবীর বড় দাদা তাকে চরম অপমান করে বাড়ি থেকে বের করে দেন।
দাদার অপমান সহ্য করতে না পেরে রাজু যখন কান্নাকাটি করছিল, তখন কমলা ছুটে গিয়ে তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। রাজু অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানায় যে, বড় দাদা ও ভাইয়ের এই রোজকার খোঁটা আর ছোট বড় কথা সে আর সহ্য করতে পারছে না; সে এবার নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে পয়সা রোজগার করতে চায়। কমলা তখন রাজুকে শান্ত করে আশ্বাস দেন যে, তিনি বাবার সাথে কথা বলে দ্রুত তার একটা কাজের ব্যবস্থা করে দেবেন। ওদিকে রাতের বেলা সুপর্ণা নিজের প্রয়োজনে বারবার পল্লবীকে ফোন করতে থাকে। পল্লবী কী করবে বুঝতে না পেরে মায়ের কাছে গেলে, সুপর্ণার পরের ফোনে কমলা স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে যা কথা হবে, তারা পল্লবীকে নিয়ে তাদের বাড়ি গিয়ে সামনাসামনিই কথা বলবেন।
এই প্রবল পারিবারিক অশান্তি ও উত্তেজনার মাঝেই বাড়ির পুরোহিতমশাই এসে কমলাকে একটি বিশেষ পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, মন্দিরে গিয়ে ভক্তিভরে শিব-পার্বতীর পুজো দিলে সংসারের সমস্ত অমঙ্গল আর বিপদ কেটে যাবে। অন্যদিকে, পল্লবীর প্রতি নিজের ভালোবাসা আর চেপে রাখতে পারছিল না আদিত্য। সে-ও মনে মনে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে যে, আর কোনো দেরি না করে এবার সে পল্লবীকে তার মনের সব কথা পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেবে।
আরও পড়ুনঃ ‘যারা ঝামেলা বাঁধাচ্ছেন তারা টেকনিশিয়ান নন, ইচ্ছে করে…’ ‘যোগ্যতার ভিত্তিতেই কাজ পাবেন সকলে…’ মুখ্যমন্ত্রীর দরবারে টালিগঞ্জের টেকনিশিয়ানরা! স্টুডিওপাড়ার বিশৃঙ্খলা রুখতে এগিয়ে এলেন রুদ্রনীল ঘোষ!
আগামী পর্বে দেখা যাবে, মন্দিরে পুজো দিতে গিয়ে পল্লবী এক চরম বিপদে পড়ে। কয়েকজন গুন্ডা সেখানে তাকে ঘিরে ধরে নোংরা কথা বলে বিরক্ত করতে থাকে। ঠিক তখনই পল্লবীর ওড়না ধরে এক গুন্ডা টান মারলে, সেটি বাতাসে উড়ে গিয়ে হুট করে সেখানে বাইক নিয়ে হাজির হওয়া আদিত্যের মুখের ওপর পড়ে। এরপর আদিত্য একাই সব গুন্ডাদের আচ্ছা করে ধোলাই দিয়ে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেয়। বিপদ কেটে যাওয়ার পর পল্লবী যখন মন্দিরে পুজো করছিল, তখন আদিত্য পেছন থেকে এসে পরম আদরে পল্লবীর খোঁপায় ফুলের মালা পরিয়ে দেয়, আর দূর থেকে তাদের বন্ধুরা দাঁড়িয়ে এই মিষ্টি মুহূর্ত দেখে মুচকি মুচকি হাসতে থাকে।

