সামান্য অগোছালো ঘরেই উন্মাদ সম্রাট! মেয়েকে দেখে কমলার মনে দানা বাঁধছে সন্দেহ! তবে কি কমলার সামনেই নিজের নিয়ন্ত্রণ হারাবে সম্রাট? দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জি বাংলার (Zee Bangla) পর্দায় শুরু হয়েছে নতুন ধারাবাহিক ‘কমলা নিবাস’ (Kamala Nibas)। গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, রাখিবন্ধনের উৎসব শেষ হওয়ার পর কমলা তার মেয়ে ঝিনুকের সঙ্গে তার শ্বশুরবাড়িতে যায়। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর এক অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ঝিনুক হঠাৎ করেই মায়ের সামনে নিজেকে আর সামলাতে না পেরে অঝোরে কাঁদতে শুরু করে। মেয়েকে এভাবে ভেঙে পড়তে দেখে কমলা অত্যন্ত চিন্তিত ও ব্যাকুল হয়ে পড়ে। কোনো উপায় না পেয়ে সে সরাসরি ঝিনুককে জিজ্ঞাসা করে বসে যে, সে কি আদৌ সম্রাটের সাথে সুখে ও ভালো আছে?
অন্যদিকে, সম্রাটের আগেই পুরো বাড়িতে গোপনে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো ছিল। ঘরে বসেই সে সিসিটিভির মাধ্যমে মা ও মেয়ের সমস্ত কথাবার্তা শুনে ফেলে এবং ভীষণ আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। তার মনে ভয় ঢুকে যায় যে, এতদিনের লুকিয়ে রাখা আসল রূপ হয়তো এবার সবার সামনে প্রকাশ পেয়ে যাবে। এখন দেখার বিষয় এটাই যে, ঝিনুক শেষ পর্যন্ত সব ভয় পেছনে ফেলে নিজের মায়ের কাছে তার জীবনের কঠিন সত্যিটা প্রকাশ করতে পারে কি না।
এরই মধ্যে গল্পে নতুন এক পরিস্থিতির সূচনা হয়। ঝিনুকের বাবা, রাজু এবং তার ঠাকুমা সহ পরিবারের সকলেই ঝিনুকের শ্বশুরবাড়িতে এসে উপস্থিত হয়। তারা সেখানে গিয়ে নিজেদের স্বাভাবিক নিয়মেই থাকতে শুরু করে এবং মেয়ের শ্বশুরবাড়িটিকেও নিজের বাড়ির মতো করে আপন করে নেয়। কিন্তু সম্রাটের চরিত্র একেবারেই আলাদা। সে অতিরিক্ত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা পছন্দ করে এবং ঘরের প্রতিটি জিনিস নির্দিষ্ট স্থানে রাখতেই অভ্যস্ত।
সম্রাটের এই স্বভাবের পেছনে ছিল তার এক গভীর মানসিক সমস্যা। ঘরের কোনো জিনিস সামান্য এদিক-ওদিক হলে বা সামান্য অপরিষ্কার দেখলেই তার মাথা গরম হয়ে যেত এবং ভেতরের মানসিক রোগটি চাঙ্গা হয়ে উঠত। রাজু ও ঠাকুমার থাকার কারণে ঘর সামান্য অগোছালো হতেই সম্রাটের মাথার রক্ত গরম হয়ে যায়। কাউকে কিছু না বলে সে নিজেই উন্মাদের মতো ঘর পরিষ্কার করতে শুরু করে দেয়।
আরও পড়ুনঃ কমলার মুখোমুখি ঝিনুক! মায়ের কাছে কি সমস্ত সত্যি স্বীকার করবে সে? ঝিনুককে আটকাতে নতুন ফাঁদ পাতলো সম্রাট! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব
সম্রাটকে এভাবে রেগে যেতে দেখে ঝিনুক প্রমাদ গোনে। সে পরিস্থিতি সামাল দিতে সঙ্গে সঙ্গে এগিয়ে এসে বলে যে, সে নিজেই সমস্ত কাজ গুছিয়ে দেবে। ঝিনুকের এই অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখে কমলা ভীষণ অবাক হয়ে যায়। কারণ ঝিনুক বাপের বাড়িতে কখনো এমন ছিল না সে ছিল স্বাধীন ও খোলা মনের মেয়ে। কমলা মনে মনে ভাবতে শুরু করে, ঝিনুক কি সত্যিই সংসারী হয়ে গেল, নাকি সম্রাটের ভয়ে ও চাপে পড়ে সে বাধ্য হয়ে নিজের চরিত্র বদলে ফেলেছে?

