বিশ্বাসঘাতকতার চরম মূল্য! সততার মাশুল দিতে গিয়ে চাকরি হারালেন শ্রীনিবাস! কমলার আশঙ্কাই সত্যি! দুর্ঘটনায় কি প্রাণ হারাবে শ্রীনিবাস?

জি বাংলার (Zee Bangla) পর্দায় শুরু হয়েছে নতুন ধারাবাহিক ‘কমলা নিবাস’ (Kamala Nibas)। গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, আদিত্য যেভাবে সকলের সামনে হরিশকে বেধড়ক পিটিয়ে অপমান করল, তা পল্লবীর মনে নিজের অধিকারের জন্য লড়াই করার এক নতুন সাহস জাগিয়ে তোলে। আদিত্যের সেই সাহসে বলীয়ান হয়ে চোখের জলের মাঝেই পল্লবী হরিশের মুখে কালি মাখিয়ে তাকে উপযুক্ত শিক্ষা দেয়। এই অন্যায়ের যোগ্য জবাব দেওয়ার পর আদিত্য যেভাবে অত্যন্ত আবেগ ও দরদ দিয়ে পল্লবীর মুখে আঙুল রেখে নিজের মনের কথাগুলো ব্যক্ত করে, তা এক পরম অসাধারণ মুহূর্তের সৃষ্টি করে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের এই পর্যায়টি হয়তো পল্লবীর চোখে আদিত্যের এক নতুন ভাবমূর্তি গড়ে তুলবে।

গতকালের নাটকীয় ঘটনার পরই অবশেষে পল্লবীর ভুল ভাঙে সে বুঝতে পারে যে আদিত্যকে চেনার ক্ষেত্রে সে ভুল করেছিল। তাই আদিত্য তাদের বাড়িতে আসামাত্রই পল্লবী আর কোনো দ্বিধা না রেখে আন্তরিকভাবে নিজের ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়ে নেয়। আদিত্যও স্বভাববশত মনে বেশিদিন অভিমান পুষে রাখার মানুষ নয়। তাই পল্লবীর বাড়িয়ে দেওয়া এক কাপ চা যেন নিমেষেই তাদের দুজনের মধ্যে জমে থাকা সমস্ত দূরত্ব ও দ্বিধাদ্বন্দ্ব দূর করে দেয়।

তবে এই স্বস্তির আমেজের অন্তরালেই যেন ঘনিয়ে আসছে এক তীব্র সংকটের মেঘ। হঠাৎ কমলার হাত থেকে পরিবারের ছবিটা পড়ে ভেঙে যাওয়াতেই তার মন এক অজানা আশঙ্কায় অশান্ত হয়ে ওঠে। ডান চোখ কাঁপতে থাকা আর কমলার পূর্বাভাসের মাঝেই শ্রীনিবাস কাজের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার আগে কমলার সিঁথিতে নিজ হাতে সিঁদুর পরিয়ে মন্দিরে পুজো দিতে যান। গোটা দৃশ্যপট স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে সামনে হয়তো বড় কোনো অমঙ্গলজনক খবর অপেক্ষা করছে।

গ্যারেজে পৌঁছানো মাত্রই শ্রীনিবাসের ওপর নেমে আসে চক্রান্তের নিষ্ঠুর আঘাত। নতুন যন্ত্রাংশের বদলে পুরোনো যন্ত্রাংশ লাগানোর মিথ্যে অপবাদ চাপানো হয় তার ওপর, যার ফলে অত্যন্ত অসম্মানজনকভাবে তাকে চাকরি হারানোর মুখে পড়তে হচ্ছে। দর্শক মহল পেছনের আসল অপরাধীকে চিনলেও, সরল ও সৎ শ্রীনিবাস কাউকেই দোষারোপ না করে নিজের বিশ্বাসের জায়গায় অবিচল থাকেন। তবে চক্রান্তের এই বেড়াজালে তার এই বিশ্বাসের মূল্য তাকে কতটা কঠিনভাবে মেটাতে হয়, সেটাই এখন দেখার।

আরও পড়ুনঃ ‘এখন আস্তে আস্তে ওঠার চেষ্টা করছে মা…!’ ‘মাকে দেখে ভালো লাগছে!’ আইসিইউ-তে কেটেছে ২২ দিন! চলেছে জীবন-মৃ’ত্যুর লড়াই! ক্যা’ন্সারকে হারিয়ে অবশেষে জিতে ঘরে ফিরলেন এষা ভট্টাচার্য! কঠিন সময়ে মায়ের পাশে ছায়ার মতো মেয়ে প্রেরণা!

অন্যদিকে, সম্রাটের আচরণ যেন এক জটিল ও রহস্যময় ধাঁধা। গতকাল যে মানুষটা ঝিনুককে অতটা কষ্ট দিল, আজ সেই মানুষটাই আবার অনুশোচনায় ভেঙে পড়ে তার কাছে ক্ষমা চাইছে, কাঁদছে এবং পরম যত্নে নিজের হাতে তাকে সাজিয়ে দিচ্ছে। ভালোবাসা, অপরাধবোধ আর তীব্র মানসিক যন্ত্রণার এই দোলাচলে সম্রাটের চরিত্রটি শেষ পর্যন্ত কোন মোড় নেবে, তা সত্যিই অনুধাবন করা কঠিন।

Back to top button