সম্রাটের কোলে চড়ে ঝিনুকের গৃহে প্রবেশ! স্বপ্নের মতো রাজপ্রাসাদ নাকি একাকীত্বের মায়াজাল? সম্রাটের বাড়িতে পা রেখেই অবাক ঝিনুক! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জি বাংলার (Zee Bangla) পর্দায় শুরু হয়েছে নতুন ধারাবাহিক ‘কমলা নিবাস’ (Kamala Nibas)। গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, পল্লবীকে মিঠির মাম্মাম বলে ডাকতে দেখা মাত্রই ফুলের তোড়া হাতে দাঁড়িয়ে থাকা আদিত্যের হাসিমুখ মুহূর্তের মধ্যে মলিন হয়ে যায়। এই দৃশ্যটি তার বুকে চরম আঘাতের মতো লাগে। সে নিজেকে আর সামলাতে না পেরে প্রচণ্ড ক্ষোভ ও দুঃখে বাড়িতে ফিরে আসে। নিজের ঘরের সমস্ত জিনিসপত্র ভাঙচুর ও এলোমেলো করে ফেলে সে তার ভেতরের যন্ত্রণা প্রকাশ করতে থাকে এবং নিজেকেই কষ্ট দিতে শুরু করে।
অন্যদিকের গল্পে, ঝিনুকের বিদায়ের ঠিক আগমুহূর্তে শ্রীনিবাস বাবু কমলাকে আশ্বস্ত করে বলছিলেন যে ঝিনুকের সাথে অঞ্জু ও বড় বউমা যাচ্ছে, তাই চিন্তার কোনো কারণ নেই। ঠিক সেই সময়ে সম্রাট তাদের কথা শুনতে পেয়ে এগিয়ে আসে এবং সাফ জানিয়ে দেয় যে, বিয়ের পর সে শুধু ঝিনুককেই তার বাড়িতে নিয়ে যাবে, অন্য কাউকে নয়। সম্রাটের এই অদ্ভুত ও আচমকা শর্ত শুনে শ্রীনিবাস বাবু এবং কমলা দুজনেই ভীষণ চমকে ওঠেন।
সম্রাটের এই অন্যায্য শর্তের পরেও পরিস্থিতির চাপে কমলা চোখের জলে ঝিনুককে বিদায় জানায়। ঝিনুক কান্নাকাটি করতে করতে সনাতন নিয়ম মেনে মায়ের আঁচলে চাল ঢেলে দেয় এবং সংসারের সব ঋণ পরিশোধ করে সবার থেকে বিদায় নেয়। তবে ঝিনুকের সাথে বাড়ির কোনো সদস্য যাবে না—সম্রাটের এই জেদের পেছনে লুকিয়ে আছে তার আসল সাইকো রূপ। সে আসলে ঝিনুকের ভালোবাসাকে শুধু নিজের করে রাখতে চায়, তাই তাকে বাপের বাড়ির বা অন্য কারও সাথে মিশতে দিতে রাজি নয়।
ঝিনুক বিদায় নিয়ে চলে যাওয়ার পর কমলার মন ভীষণ খারাপ হয়ে পড়ে। ঝিনুক ছাড়া পুরো বাড়িটা ফাঁকা ফাঁকা লাগতে থাকে এবং এত অল্প বয়সে মেয়েটা একা একা শ্বশুরবাড়িতে সব সামলাতে পারবে কি না, তা নিয়ে কমলা কাঁদতে থাকেন ও দুশ্চিন্তা করতে শুরু করেন। মায়ের এই অবস্থা দেখে পল্লবী সহ বাড়ির বাকি সকলে এগিয়ে আসে এবং কমলাকে শান্ত করার চেষ্টা করে। তারা বোঝায় যে ঝিনুক সেখানে খুব ভালো থাকবে, তাই মিছে চিন্তা না করতে।
আরও পড়ুনঃ অভিনেতার পরিবারের র’ক্তারক্তি কান্ড! লাঠি তথা লোহার রড দিয়ে বেধড়ক মা’র! হাসপাতালে চলছে জীবন মৃ’ত্যুর লড়াই!
এদিকে, সম্রাট ঝিনুককে নিজের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ভালোবাসার টানে কোলে তুলে দরজার সামনে দাঁড় করায়। কিন্তু ঘরের দরজা খুলতেই ঝিনুকের চোখ কপালে ওঠে এবং সে সম্রাটের সেই বিশাল বড় বাড়ি দেখে একেবারে চমকে যায়। চারিদিকের এই জাঁকজমক আর শূন্যতা দেখে ঝিনুক মনে মনে ভাবতে শুরু করে যে, এত বড় একটা রাজপ্রাসাদ মতন বাড়িতে শেষ পর্যন্ত তারা মাত্র দুজন মানুষ একা একা কীভাবে থাকবে।

