বাপের বাড়ির শেষ সম্বলটুকুও পল্লবীর জন্য বিসর্জন! গয়না বেচে পল্লবীর বিয়ের টাকা জোগাড়ের সিদ্ধান্ত নিল কমলা! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জি বাংলার (Zee Bangla) পর্দায় পথচলা শুরু করেছে নতুন ধারাবাহিক ‘কমলা নিবাস’ (Kamala Nibas )। গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, আমাদের চারপাশে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোতে যেমন টানাপোড়েন থাকে, ঠিক তেমন এক বাস্তব ছবি ফুটে উঠল ‘কমলা নিবাস’-এর আজকের পর্বে। নিজের বিয়ের জন্য বাবা শ্রীনিবাস বাবুকে কষ্ট করতে দেখে পল্লবী খুব ভেঙে পড়ে। সে নিজেই বাবাকে বলে বিয়েটা আপাতত পিছিয়ে দিতে এবং দরকার হলে তার অফিস থেকে টাকা নিয়ে খরচ চালাতে। কিন্তু শ্রীনিবাস বাবু একজন প্রচণ্ড আত্মসম্মানী মানুষ। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন, মেয়ের বিয়ের দায়িত্ব একজন বাবার, সেখানে তিনি মেয়ের থেকে টাকা নেবেন না। বাবার এই জেদ আর ভালোবাসা দেখে সাধারণ দর্শক নিজেদের জীবনের লড়াইয়ের মিল খুঁজে পেয়েছেন।

আজকের পর্বে সবথেকে বেশি চোখে লেগেছে কমলা কাকির জীবনের এক করুণ কাহিনী। জানা গেল, বিয়ের সময় করা এক প্রতিজ্ঞার কারণে তিনি দীর্ঘ ৩৭ বছর নিজের বাপের বাড়িতে পা রাখেননি। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি পরিবারের সঙ্গে সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিলেন, এমনকি নিজের বাবার অসুস্থতার খবরটুকুও পাননি। নিয়মের বেড়াজালে আটকে পড়ে নিজের আবেগ আর পরিবারকে বিসর্জন দেওয়ার এই গল্পটি দর্শকদের মনে গভীর দাগ কেটেছে। বাপের বাড়ির জন্য তাঁর এই নীরব হাহাকার আজকের পর্বকে অনেক বেশি আবেগপ্রবণ করে তুলেছে।

অন্যদিকে সঞ্চিতা চরিত্রটি এখন ধীরে ধীরে নেতিবাচক হয়ে উঠছে। তার কথা বলার ধরন এবং আচার-আচরণ দেখে বোঝা যাচ্ছে যে, সে বড়ই স্বার্থপর। আদিত্যকে সে একদমই সহ্য করতে পারছে না, যা দেখে মনে হচ্ছে আগামী দিনে সঞ্চিতাই গল্পের বড় কোনো ঝামেলার কারণ হবে। নিজের স্বার্থ রক্ষা করতে সে যে কোনো সীমা পর্যন্ত যেতে পারে, তার ইঙ্গিত আজকের পর্বে স্পষ্ট। সব মিলিয়ে কমলা নিবাস এখন শুধু সাধারণ মানুষের জীবনের আনন্দ-বেদনার আয়না হয়ে উঠেছে। কোনো বাড়তি জাঁকজমক নেই, আছে শুধু এক মধ্যবিত্ত বাবার লড়াই আর এক মহিলার দীর্ঘ বছরের আত্মত্যাগের গল্প। মন্দিরে দাদা বৌদির সাথে দেখা হলে কমলার দাদা তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় সে শর্তের কারণে।

আগামী পর্বে সবথেকে হৃদয়স্পর্শী মুহূর্তটি তৈরি হয় যখন কমলা কাকি এক কঠিন কিন্তু মমতাময় সিদ্ধান্ত নেন। মধ্যবিত্ত সংসারে পল্লবীর বিয়ের খরচ জোগাতে যখন হিমশিম অবস্থা, তখন তিনি নিজের বিয়ের গয়নাগুলো বিক্রি করে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। এই গয়নাগুলো শুধু সোনা ছিল না, এগুলো ছিল তাঁর বাপের বাড়ির শেষ স্মৃতি যে বাপের বাড়ির সাথে তাঁর দীর্ঘ ৩৭ বছরের কোনো যোগাযোগ নেই।

আরও পড়ুনঃ ‘বিপ্লবদা তো শুধু সহ-অভিনেতা নন, উনি ছিলেন তথ্যের ভাণ্ডার, ওঁর প্রয়াণে আমরা বড়ই অসহায়!’ অভিনেতা বিপ্লব দাশগুপ্তের স্মৃতিচারণে অভিনেতা বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী!

তাঁর স্বামী শ্রীনিবাস বাবু যখন তাঁকে এই কাজ করতে বাধা দেন এবং স্মৃতিটুকু আগলে রাখতে বলেন, তখন কমলা কাকির উত্তরটি ছিল দেখার মতো। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন, “মেয়ের খুশির চেয়ে বড় কোনো স্মৃতি হতে পারে না।” একজন মায়ের কাছে যে সন্তানের ভবিষ্যৎ আর হাসিই সবথেকে বড় সম্পদ, তা আরও একবার প্রমাণিত হলো। যে বাপের বাড়ির জেদের কারণে তিনি এতগুলো বছর একাকীত্ব সহ্য করেছেন, আজ সেই স্মৃতিটুকুও তিনি হাসিমুখে বিলিয়ে দিচ্ছেন শুধুমাত্র পল্লবীর একটা সুন্দর আগামীর জন্য। মধ্যবিত্ত মায়ের এই নিঃস্বার্থ ভালোবাসা দর্শকদের চোখে জল এনে দিয়েছে।

Back to top button