পল্লবীর অগ্নিপরীক্ষা! বিয়ের পিঁড়িতে বসার আগেই সংকটে পল্লবী! সাগরের বাড়ির চরম শর্তে দিশেহারা পরিবার!

জি বাংলার (Zee Bangla) পর্দায় পথচলা শুরু করেছে নতুন ধারাবাহিক ‘কমলা নিবাস’ (Kamala Nibas )। গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, অভাবের সংসারে পল্লবীর বিয়ের বিপুল খরচ কীভাবে সামলানো হবে, সেই চিন্তায় পুরো পরিবার যখন দিশেহারা, ঠিক তখনই বড় ছেলে ও বড় মেয়ে সাফ জানিয়ে দেয় যে এত অল্প সময়ে টাকা জোগাড় করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। নিজের সন্তানদের এমন সরাসরি ‘না’ শুনে শ্রীনিবাস ও কমলা দুজনেই খুব ভেঙে পড়েন। অভাবের দিনে আপনজনদের এই দায়িত্ব এড়ানোর মানসিকতা পুরো বাড়িকে আরও বিষণ্ণ করে তোলে।

সন্তানদের এমন আচরণে শ্রীনিবাস বাবু রাগ না করে বরং খুব শান্তভাবে নিজের মনের কষ্ট প্রকাশ করেন। তিনি জানান যে, তিনি কারও কাছে টাকার জন্য হাত পাতেননি; তিনি শুধু চেয়েছিলেন সবাই যেন মন থেকে বোনের পাশে দাঁড়ায় এবং আনন্দটুকু ভাগ করে নেয়। একজন বাবার এই চাপা অভিমান আর আদর্শের কথাগুলো উপস্থিত সবার মন ছুঁয়ে যায়। বাবার এই নৈতিক জেদ একদিকে যেমন শ্রদ্ধার, অন্যদিকে পল্লবীর বিয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি করে একরাশ অনিশ্চয়তা।

এই কঠিন পরিস্থিতিতে পল্লবী নিজেই পরিবারের হাল ধরার চেষ্টা করে। সে ঠিক করে যে অফিস থেকে এক লক্ষ টাকা আগাম নেবে, যাতে তার বিয়ের আয়োজন বন্ধ না হয়ে যায়। নিজের বিয়ের দায়িত্ব নিজেই নিতে চাওয়ার এই সাহসী পদক্ষেপ পল্লবীর আত্মমর্যাদাকেই তুলে ধরে। তবে শ্রীনিবাস বাবু এতেও আপত্তি জানান। মেয়ের টাকা দিয়ে বিয়ের খরচ চালানো তাঁর কাছে মানসিকভাবে মেনে নেওয়া সম্ভব ছিল না, যা পরিবারের মধ্যে এক তীব্র দ্বন্দ্বের সৃষ্টি করে।

এরই মধ্যে সাগরের বোনের একটি ফোন কল পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। তিনি সরাসরি জানিয়ে দেন যে, তাঁদের পছন্দমতো বিয়ের আয়োজন না হলে এই বিয়ে ভেঙে দেওয়া হবে। একদিকে শ্রীনিবাস বাবুর আদর্শ আর অন্যদিকে সাগরের বাড়ির আকাশছোঁয়া চাহিদা এই দুইয়ের চাপে পড়ে পল্লবীর বিয়ে এখন বড়সড় সংকটের মুখে। একদিকে যখন মেজ মেয়ে ও জামাই নিজেদের স্বার্থ দেখছে, তখন ছোট বউয়ের পরিবারের প্রতি দায়িত্ববোধ দর্শকদের নজর কেড়েছে।

আরও পড়ুনঃ টিআরপি তালিকায় বিরাট রদবদল! হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে প্রথম স্থান হারালো পরিণীতা! শীর্ষ ‘তারে ধরি ধরি মনে করি’! দেখে নিন এই সপ্তাহের টিআরপি তালিকা!

তবে এত ঝামেলার মাঝেও কিছু আবেগঘন মুহূর্ত দর্শকদের মনে শান্তি দিয়েছে। বিশেষ করে পরিবারের প্রবীণ সদস্যরা যখন তাঁদের জমানো শেষ সম্বলটুকু বৌমার হাতে তুলে দেন, তখন বোঝা যায় যে সম্পর্কের টান আজও ফুরিয়ে যায়নি। এর পাশাপাশি সাগর ও পল্লবীর সহজ রসায়ন এবং ছোট বউয়ের সহযোগিতার মনোভাব গল্পে এক ইতিবাচক ভারসাম্য বজায় রেখেছে। এখন দেখার বিষয়, অভাব আর অভিমানের এই পাহাড় টপকে পল্লবীর বিয়ে শেষ পর্যন্ত কীভাবে সম্পন্ন হয়।

Back to top button