ঝিনুকের বিয়েতে বড় চমক! শেষমেশ সম্রাটকেই জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিল ঝিনুক! ধেয়ে আসছে কোন নতুন ঝড়?

জি বাংলার (Zee Bangla) পর্দায় পথচলা শুরু করেছে নতুন ধারাবাহিক ‘কমলা নিবাস’ (Kamala Nibas )। গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, ওদিকে সাগরদের বাড়িতে পৌঁছে পল্লবী চোখের সামনে এক সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখতে পায়, যা সে কল্পনাও করতে পারেনি। সেখানে এলাহী কায়দায় বিরাট বড় এক জমকালো পার্টির আয়োজন করা হয়েছে। চারিদিকে আলোর রোশনাই, আভিজাত্যের ঝলকানি আর উৎসবের আমেজ। আমন্ত্রিত অতিথিদের কোলাহলে চারিদিক মুখরিত। এমন এক পরিস্থিতিতে সবার নজর এড়িয়ে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করা পল্লবীর পক্ষে অসম্ভব ছিল। তাই সে নিজের বুদ্ধি খাটিয়ে একজন সাধারণ পরিচারিকার ছদ্মবেশ ধারণ করে এবং কোনোমতে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করতে সফল হয়। অন্দরমহলে ঢুকে সে দেখে চারিপাশে হরেক রকমের সুস্বাদু খাবারের ছড়াছড়ি। কিন্তু এই বাহ্যিক আনন্দ আর জাঁকজমকের আড়ালে এক নির্মম অন্ধকার লুকিয়ে ছিল।
উৎসবের এই আনন্দের মাঝেও মিঠির অবস্থা ছিল অত্যন্ত শোচনীয় ও বেদনাদায়ক। সানি এবং তার মা সারাদিন ধরে মিঠির ওপর নির্মম মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার চালিয়ে যাচ্ছিল। নিষ্ঠুরতার চরম সীমায় পৌঁছে তারা মিঠিকে সারাদিন এক ফোঁটা খাবার বা জল পর্যন্ত খেতে দেয়নি। ক্ষুধার্ত, তৃষ্ণার্ত এবং অনবরত অত্যাচারে ক্লান্ত মিঠির এই করুণ ও জরাজীর্ণ দশা দেখে পল্লবীর বুক ফেটে যায়। নিজের চোখের সামনে এমন অন্যায় দেখে সে ক্ষোভে ও দুঃখে ভেঙে পড়ে।
মিঠির এই চরম দুরবস্থা দেখে পল্লবী আর স্থির থাকতে পারেনি। সে ছদ্মবেশের আড়ালে থেকে যতবারই লুকিয়ে মিঠিকে একটু খাবার দিতে যায় বা তার কাছাকাছি পৌঁছানোর চেষ্টা করে, ততবারই কোনো না কোনো দিক থেকে বাধা চলে আসে। বাড়ির লোকজনের কড়া নজরদারি এবং উৎসবের ব্যস্ততার কারণে সে বারবার ব্যর্থ হতে থাকে। এরমধ্যেই হঠাৎ এক চরম বিপর্যয় ঘটে যায়। প্রচণ্ড শারীরিক দুর্বলতা ও ক্ষুধার কারণে মিঠি নিজের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে এবং টাল সামলাতে না পেরে সোজা বাড়ির গভীর পুলে পড়ে গিয়ে হাবুডুবু খেতে শুরু করে। এই ভয়ঙ্কর দৃশ্য দেখা মাত্রই পল্লবী নিজের জীবনের পরোয়া না করে, ক্ষণিকের জন্যও কোনো কিছু না ভেবে সোজা জলের মধ্যে ঝাঁপিয়ে পড়ে। নিজের অসামান্য সাহস ও উপস্থিত বুদ্ধির জোরে সে ডুবে যাওয়া মিঠিকে জল থেকে টেনে তোলে এবং এক নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে উদ্ধার করে।
হৈচৈ শুনে বাড়ির সকলেই সেই দৃশ্য দেখে ছুটে আসে এবং সুপর্ণা পল্লবীকে এই কর্মচারীর ছদ্মবেশে দেখে চরম অবাক হয়ে যায়। পল্লবী কোনোমতে মিঠিকে সামলে নিয়ে সেই নরককুণ্ড থেকে চিরতরে চলে যেতে চায়। কিন্তু নিষ্ঠুর সুপর্ণা আবারো পুলিশের ভয় দেখিয়ে পল্লবীকে চুপ করিয়ে দেয় এবং আইন ও ক্ষমতার দাপট দেখায়। অসহায় মিঠি পল্লবীকে জড়িয়ে ধরে বারবার তাকে সাথে করে নিয়ে যাওয়ার জন্য কান্নাকাটি করতে থাকে। মিঠির আকুলতায় পল্লবীর মন কেঁদে উঠলেও, সুপর্ণাদের চক্রান্তের কাছে তখন তার হাত-পা বাঁধা ছিল। তবে যাওয়ার আগে পল্লবী তীব্র ক্ষোভের সাথে অভিশাপ দিয়ে যায় যে, এই ছোট্ট নিষ্পাপ শিশুর সাথে তারা যে অমানুষিক অত্যাচার করছে, তার যোগ্য শাস্তি তারা প্রকৃতির নিয়মেই পাবে।
আরও পড়ুনঃ তান্ত্রিকের শ’ব সাধনার রাতে মহাশ্মশানে ছদ্মবেশে দিতি-গোরা! তারা ফেরাতে পারবে কি গোস্বামী বাড়ির দারুব্রহ্ম?
অন্য এক প্রেক্ষাপটে, রণ ঠিক করে যে আজ সে আর পিছপা হবে না এবং আবারও ঝিনুককে তার মনের কথা পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেবে। সেই অনুযায়ী সব রকম সুন্দর আয়োজন করে রণ ঝিনুকের সামনে নিজের ভালোবাসার কথা প্রকাশ করে। কিন্তু ঝিনুক রণের এই আকুলতাকে গুরুত্ব না দিয়ে ভেবে নেয় যে রণ হয়তো বরাবরের মতোই কোনো মজা করছে। এদিকে ঝিনুক নিজের মনে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে যে সে সম্রাটকেই বিয়ে করবে, কারণ বাড়ির সকলেই এই বিয়েতে রাজি এবং তাই সেও নিজের সম্মতি দিয়ে দিয়েছে। বাড়িতে ফিরে ঝিনুক তার এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা বাবাকে জানিয়ে দেয়। ওদিকে নিজের বাড়িতে ফিরেও পল্লবীর মন শান্ত হয় না সে অনবরত মিঠির জীবনের নিরাপত্তা ও তার চরম চিন্তায় মগ্ন হয়ে থাকে।

