নিজের জীবন বাজি রেখে মিঠিকে উদ্ধার করল পল্লবী! সানির সব কুকর্ম সুপর্ণার সামনেই ফাঁস করল পল্লবী! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জি বাংলার (Zee Bangla) পর্দায় পথচলা শুরু করেছে নতুন ধারাবাহিক ‘কমলা নিবাস’ (Kamala Nibas )। গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, ঝিনুকের সাথে সম্রাটের বিয়ে দেওয়া নিয়ে পাত্রপক্ষের অন্দরমহলে জোরকদমে খোঁজখবর শুরু হয়েছে। সম্রাটের অতীত এবং চরিত্র সম্পর্কে নিশ্চিত হতে ঝিনুকের দুই দাদা সরাসরি সম্রাটের অফিসে গিয়ে হাজির হয় এবং তার কাজকর্ম ও স্বভাব নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য জোগাড় করে। শুধু দাদারাই নয়, স্বয়ং শ্রীনিবাস বাবু নিজেও মেয়ের জীবনসঙ্গীর বিষয়ে কোনো খামতি রাখতে চাননি। তিনি নিজে ছুটে যান সেই অনাথ আশ্রমে, যেখানে সম্রাট বড় হয়েছে, এবং আরও অন্যান্য জায়গায় ঘুরে সম্রাটের ব্যাপারে খোঁজ নেন। আশ্চর্য বিষয় হলো, সব জায়গা থেকেই সম্রাটের নামে সবাই অত্যন্ত ভালো ভালো মন্তব্য করে এবং তার সততার প্রশংসা করে। চারিদিকের এই ইতিবাচক সাড়া পেয়ে শ্রীনিবাস বাবুর মনে সম্রাটকে খুব পছন্দ হয়ে যায়। তিনি পরম শান্তিতে বাড়ি ফিরে কমলাকে আশ্বস্ত করে বলেন যে, সম্রাটের মতো ছেলের সাথে বিয়ে হলে তাদের আদরের মেয়ে ঝিনুক সারাজীবন খুব সুখে ও ভালো থাকবে।
বাড়িতে ফিরে শ্রীনিবাস বাবু আর কোনো সময় নষ্ট না করে ঝিনুককে ডেকে পরিষ্কার জানিয়ে দেন যে, সম্রাটকে তাদের বাড়ির সবার খুব পছন্দ হয়েছে এবং এই বিয়েতে পরিবারের সবার পুরোপুরি সম্মতি আছে। কিন্তু বাবা-মা ও ভাইদের এত উৎসাহ এবং সম্রাটের অত সুনাম শোনার পরও ঝিনুকের মন কিছুতেই সায় দিতে পারছিল না। তার মনের ভেতর এক অজানা আশঙ্কা আর দ্বিধাদ্বন্দ্ব অনবরত তোলপাড় সৃষ্টি করছিল। সম্রাটের মতো একজন মানুষকে নিজের জীবনসঙ্গী হিসেবে মেনে নেওয়ার ব্যাপারে সে নিজেকে এখনো মানসিকভাবে প্রস্তুত করতে পারছে না। তাই কোনো তাড়াহুড়ো না করে, সে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বাড়ির সবাইকে জানিয়ে দেয় যে, নিজের জীবনের এত বড় একটা সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ঠান্ডা মাথায় সবকিছু ভেবে দেখার জন্য তার আরও কিছুটা সময় প্রয়োজন।
বিয়ে আর ভবিষ্যতের কথা ভেবে ঝিনুকের মন ক্রমশ অস্থির ও ব্যাকুল হয়ে ওঠে, যা দেখে দিদি পল্লবী এগিয়ে আসে। পল্লবী তার বোনকে আশ্বস্ত করে এবং কোনো মানসিক চাপে না পড়ে সম্পূর্ণ সময় নিয়ে ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নিতে বলে। কারণ সে জানে, ঝিনুক বরাবরই অত্যন্ত সাহসী, চঞ্চল এবং নিজের অধিকারের কথা স্পষ্ট করে বলতে পারা একটি মেয়ে; তাই সে যা সিদ্ধান্ত নেবে, তা নিশ্চিতভাবেই নিজের ভালো-মন্দ চিন্তাভাবনা করেই নেবে। বোনকে বুঝিয়ে শান্ত করার পর, পল্লবী তার আরেক বোন মিঠিকে দেখার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ে। কিন্তু রাস্তায় বের হতেই আবারো তার মুখোমুখি হয় আদিত্য। তাদের মধ্যে বরাবরের মতো মিষ্টি খুনসুঁটি ও নোকঝোক শুরু হয়ে যায়। নাছোড়বান্দা আদিত্য কোনোমতেই পল্লবীকে একা ছাড়তে রাজি নয়, তাই সে পল্লবীর পিছু পিছু একই অটোতে চেপে তার গন্তব্যের দিকে রওনা দেয়।
ওদিকে সাগরদের বাড়িতে পৌঁছে পল্লবী চোখের সামনে এক সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখতে পায়। সেখানে এলাহী কায়দায় বিরাট বড় এক পার্টির আয়োজন করা হয়েছে, চারিদিকে আলো আর আভিজাত্যের ঝলকানি। বাড়ির পরিস্থিতি ও সবার নজর এড়াতে পল্লবী বুদ্ধি খাটিয়ে একজন পরিচারিকার ছদ্মবেশ ধারণ করে কোনোমতে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে। অন্দরমহলে ঢুকে সে দেখে, চারিপাশে হরেক রকমের সুস্বাদু খাবারের ছড়াছড়ি ও উৎসবের আমেজ। কিন্তু এই আনন্দের মাঝেও মিঠির অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। সানি এবং তার মা সারাদিন ধরে মিঠির ওপর মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে, এমনকি তাকে সারাদিন এক ফোঁটা খাবার পর্যন্ত খেতে দেওয়া হয়নি। ক্ষুধার্ত ও ক্লান্ত মিঠির এই করুণ দশা দেখে পল্লবীর বুক ফেটে যায়।
আরও পড়ুনঃ ভক্তির আগুনে পুড়ল কুন্তলের ষ’ড়যন্ত্র! দিতির ভক্তির ডাকে দেখা দিলেন স্বয়ং শচীমাতা! ঘটে গেলো এক অলৌকিক ঘটনা!
মিঠির এই চরম দুরবস্থা দেখে পল্লবী আর স্থির থাকতে পারেনি। সে ছদ্মবেশের আড়ালে থেকে যতবারই লুকিয়ে মিঠিকে একটু খাবার দিতে যায় বা তার কাছাকাছি পৌঁছানোর চেষ্টা করে, ততবারই কোনো না কোনো দিক থেকে বাধা চলে আসে। বাড়ির লোকজনের কড়া নজরদারির কারণে সে বারবার ব্যর্থ হতে থাকে। এরমধ্যেই হঠাৎ এক চরম বিপর্যয় ঘটে যায়। শারীরিক দুর্বলতা ও অসাবধানতার কারণে মিঠি ভারসাম্য হারিয়ে টাল সামলাতে না পেরে সোজা বাড়ির গভীর পুলে পড়ে হাবুডুবু খেতে শুরু করে। এই ভয়ঙ্কর দৃশ্য দেখা মাত্রই পল্লবী নিজের জীবনের পরোয়া না করে, ক্ষণিকের জন্যও কোনো কিছু না ভেবে সোজা জলের মধ্যে ঝাঁপিয়ে পড়ে। নিজের অসামান্য সাহস ও উপস্থিত বুদ্ধির জোরে সে ডুবে যাওয়া মিঠিকে জল থেকে টেনে তোলে এবং এক চরম বিপদের হাত থেকে উদ্ধার করে।

