বিয়ের মণ্ডপেই কি ফাঁ’স হবে পুরোনো পাপ? সানি-সুপর্ণার এক সত্যি কাঁপিয়ে দিল আদিত্যের বাবাকে! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জি বাংলার (Zee Bangla) পর্দায় শুরু হয়েছে নতুন ধারাবাহিক ‘কমলা নিবাস’ (Kamala Nibas )। গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, মানসিক টানাপোড়েনের এক কঠিন মুহূর্তে পল্লবী হঠাৎ করেই আদিত্যকে ফোন করে। আদিত্য এখনও একটা বড় সত্যি জানে না সে বুঝতেই পারেনি যে পল্লবী আর মিঠির মাম্মাম আসলে একই মানুষ। তবে ফোনে পল্লবীর মিষ্টি কথাবার্তা শোনার পর আদিত্যের মনের সমস্ত রাগ ও অতীতের অভিমান যেন মুহূর্তের মধ্যে ধুয়েমুছে যায়। নিজের ভালোবাসার টানে সে অতীতের সব তিক্ততা ভুলে গিয়ে মনে মনে এক নতুন জীবনের প্রতিজ্ঞা করে।
এদিকে গল্পে এক খুশির হাওয়া বয়ে নিয়ে আসে ঝিনুক এবং সম্রাটের বিয়ের অনুষ্ঠান। চারদিকে ধুমধাম করে তাদের গায়ে হলুদের সমস্ত আয়োজন সম্পূর্ণ করা হয়। প্রথমে নাচ-গানের মধ্য দিয়ে সম্রাটের গায়ে হলুদ শেষ হয় এবং তারপরেই নিয়ম মেনে ঝিনুকের গায়ে হলুদ সম্পন্ন হয়। এই আনন্দানুষ্ঠানে পরিবারের প্রত্যেকে মেতে ওঠেন এবং ঝিনুকের বিয়ে নিয়ে বাড়ির সবাই ভীষণ খুশি ও উৎসাহিত হয়ে পড়েন।
এই খুশির আমেজের মাঝেই হঠাৎ একটা ছন্দপতন ঘটে। পল্লবী যখন ঝিনুককে হলুদ মাখাতে যায়, তখন আদিত্যের বৌদি তাকে বাধা দেয়। সে সবার সামনে পল্লবীকে জানায় যে, যেহেতু পল্লবীর বিয়ে ভেঙে গিয়েছিল এবং তার কুষ্টিতে দোষ আছে, তাই সে হলুদ ছোঁয়ালে ঝিনুকের শুভ অনুষ্ঠানে বাধা আসতে পারে। এই কুসংস্কারাচ্ছন্ন কথা শুনে উপস্থিত সকলেই অবাক হয়ে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে আদিত্যের মা তার বড় বৌমার হয়ে সবার কাছে ক্ষমা চান। মনে গভীর আঘাত পেয়ে পল্লবী যখন অনুষ্ঠান ছেড়ে চলে যেতে যায়, তখন সম্রাট তাকে আটকায়। সম্রাট স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, পল্লবী যদি ঝিনুককে গায়ে হলুদ না মাখায়, তবে তার এই অনুষ্ঠানটি অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।
আরও পড়ুন: ‘সবচেয়ে বেশি মিস করি ওর…’ ‘ ওকে শেষ মেসেজে লিখেছিলাম, এখনও অনেকটা সময় আছে…’ কিন্তু সেই সময়টা আর এলো না অভিনেতার জীবনে! প্রয়াত রাহুলকে নিয়ে কি বললেন প্রিয়াঙ্কা?
অন্যদিকে, আদিত্যের মধ্যে হঠাৎ এক অদ্ভুত পরিবর্তন দেখা যায়, যা বাড়ির কেউই সহজে বিশ্বাস করতে পারছে না। প্রীতির বর অর্থাৎ পল্লবীর ভাইয়ের সাথে আদিত্যের এই হঠাৎ ভালো ব্যবহার দেখে তার বৌদি বেশ অবাক হয়। এমনকি আদিত্যকে এই বিয়েবাড়িতে উপস্থিত থাকতে দেখে তার মা-বাবাও বিস্ময় প্রকাশ করেন। ওদিকে ঝিনুককে যখন তার দিদি ও বৌদি মিলে সুন্দর করে সাজিয়ে বিয়ের জন্য তৈরি করছে, ঠিক তখনই বিয়েবাড়িতে আচমকা এসে হাজির হয় রণ। সে পাগলের মতো আচরণ করতে থাকে এবং শেষবারের মতো ঝিনুককে নিজের মনের কথা বলার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে।
আগামী পর্বে দেখা যাবে এক মস্ত বড় রহস্যের উন্মোচন। সানি ও সুপর্ণার সাথে কথা বলার একপর্যায়ে আদিত্যের বাবা তাদের জিজ্ঞেস করেন, শ্রীনিবাস বাবুর সাথে তাদের কী পরিচয়। তখন সুপর্ণা জানায় যে, শ্রীনিবাস বাবুর মেয়ের সাথেই তার দাদার বিয়ে ঠিক হয়েছিল। পাত্রী যে পল্লবী, সেটা নিশ্চিত হওয়ার পর সানি ও সুপর্ণা আরও জানায় যে, বিয়ের দিন এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় তাদের দা ভাই ও মাম্মাম মারা যায়। এই কথা শুনেই আদিত্যের বাবা চমকে ওঠেন এবং মনে মনে ভাবেন এ তো সেই এক্সিডেন্ট! অর্থাৎ পরিষ্কার বোঝা যায়, ওই দুর্ঘটনার পেছনে আদিত্যের বাবারই হাত ছিল। আর অন্যদিকে, বিয়ের মণ্ডপে আদিত্য যখন পল্লবীর দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে, তখন দূর থেকে আদিত্যের বৌদি কড়া নজর রাখে যে আদিত্য আসলে কী করতে চলেছে।

