শ্রীনিবাস রাজি হলেও, বিয়ের প্রস্তাবে রাজি নয় ঝিনুক! সময় চেয়ে কি বড় কোনো বিপদ এড়াতে পারবে সে? দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জি বাংলার (Zee Bangla) পর্দায় পথচলা শুরু করেছে নতুন ধারাবাহিক ‘কমলা নিবাস’ (Kamala Nibas)। গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, সংসারের কঠিন বিপদের দিনে ছেলেরা মুখ ফিরিয়ে নিলেও, মেয়েরা কিন্তু সব সময় বাবার পাশে এসে দাঁড়ায়। শ্রীনিবাস বাবুর চরম বিপদেও তাঁর মেয়েরা তাঁকে সাহস দিয়ে বলে যে, তারা সব সময় বাবার সাথেই আছে। এই ভরসা শ্রীনিবাস বাবুর বুকে কিছুটা বল জোগায়। তবে পরদিনই গল্পে একটা অদ্ভুত ও অলৌকিক ঘটনা ঘটে। শ্রীনিবাস বাবু যখন মন খারাপ করে জমি বিক্রি করতে যান, তখন পাওনাদার মহাজন হন্তদন্ত হয়ে সেখানে ছুটে আসে। সবাইকে অবাক করে দিয়ে সে শ্রীনিবাস বাবুর হাত-পা ধরে ক্ষমা চাইতে শুরু করে। মহাজন জানায়, ধারের টাকা আর শোধ করতে হবে না এবং জমিও বিক্রি করতে হবে না। এই অভাবনীয় ঘটনায় শ্রীনিবাস বাবুর পরিবারের ওপর থেকে মস্ত বড় বিপদের মেঘ এক নিমেষেই কেটে যায়।

পরিবারের এই মস্ত বড় ফাঁড়া কেটে যাওয়ার পর, সবাই মিলে ঝিনুকের সাথে সম্রাটের বিয়ের কথাবার্তা এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই কারণে পরের দিন শ্রীনিবাস বাবু আর কমলা দেবী সম্রাটের অফিসে যান তার সাথে দেখা করতে। অফিসে গিয়ে সম্রাটের কথাবার্তা ও ব্যবহার দেখে শ্রীনিবাস বাবুর তাকে বেশ পছন্দ হয়ে যায়। কিন্তু শ্রীনিবাস বাবু খুশি হলেও, কমলা দেবীর মনে কেন যেন একটা অজানা ভয় আর খটকা তৈরি হয়। সম্রাটের এই অতিরিক্ত ভালো ব্যবহারের পেছনে কোনো খারাপ বা গোপন উদ্দেশ্য লুকিয়ে আছে কি না, তা নিয়ে কমলা দেবীর মন এক গভীর দুশ্চিন্তায় ভরে ওঠে।

পুরো ঘটনায় সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয় রনজয়ের জন্য। ছেলেটা সত্যিই আকাশসমান ভালোবাসে ঝিনুককে। সমাজে কেউ যখন ঝিনুককে নিয়ে খারাপ কথা বলছিল, তখন রনজয় যেভাবে বুক চিতিয়ে তার প্রতিবাদ করলো, সেটাই প্রমাণ করে ওর ভালোবাসাটা কতটা গভীর আর নিঃস্বার্থ। রনজয়ের ভালোবাসায় কোনো ছলনা বা স্বার্থ নেই, আছে শুধু খাঁটি অনুভূতি আর সত্যিকারের টান। অন্যদিকে সম্রাট কিন্তু ঝিনুককে পাওয়ার জন্য তার বাবা-মাকে নিজের দিকে টানার চেষ্টা করছে। এমনকি ঝিনুকের দাদারাও সম্রাটের বিপুল সম্পত্তি দেখে বিয়েতে প্রায় রাজি হয়ে যাচ্ছিল। তবে বড় বৌদি খুব সুন্দরভাবে সবাইকে বোঝালেন যে, শুধু অর্থ-সম্পত্তি নয়, মানুষের মন আর ভালোবাসাটাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সত্যিকারের সম্পর্ক গড়ে ওঠে বিশ্বাস আর আন্তরিকতা দিয়ে, টাকার জোরে নয়।

আরও পড়ুন: গাড়ির ভেতর মৃ’ত্যুর দূত! শয়তান সাধুর শেষ চালে বন্দি দিতি-গোরা! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

দুর্ভাগ্যবশত, ঝিনুক আজকে রণর মনের আসল কথাগুলো শুনতেই পারলো না। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কথার সময় সে কানে ইয়ারবাডস পরে বসেছিল। নিজের এই অসতর্কতার কারণে হয়তো তাকে এবার সারা জীবন ভুগতে হবে, কারণ তার কপালে এবার জুটতে চলেছে এক সাইকো বা উগ্র স্বভাবের সম্রাট। সম্রাট যে কতটা অদ্ভুত আর বিপজ্জনক, তা তার আচরণেই প্রকাশ পায়। সামান্য চায়ের কাপে চামচটা ঠিক করে রাখা হয়নি বলে এবং কুকিজগুলো সাজিয়ে দেওয়া হয়নি বলে সে যেভাবে রেগে আগুন হয়ে গিয়েছিল, তা দেখে ভয় লাগে। না জানি বিয়ের পর এই ছোট ছোট ভুলের কারণে সে ঝিনুকের সাথে কেমন অন্যায় ব্যবহার করবে!

ওদিকে গল্পের অন্য প্রান্তে মিঠির ওপর দিনরাত অত্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে তার পিসেমশাই এবং পিসেমশাইয়ের মা। মাঝরাতে ক্ষুধার যন্ত্রণায় মিঠি যখন ছটফট করে ওঠে, তখন দূর থেকে পল্লবীর মায়ের মন মিঠির জন্য কেঁদে আকুল হয়। এদিকে বাড়িতে শ্রীনিবাস বাবু ঝিনুককে পরিষ্কার জানিয়ে দেন যে, সম্রাটকে তাদের সবার খুব পছন্দ হয়েছে এবং তারা এই বিয়েতে রাজি। কিন্তু ঝিনুকের মন এখনো সায় দেয়নি; সে স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে এই সবকিছু নিয়ে ভেবে দেখার জন্য তার আরও কিছুটা সময় প্রয়োজন।

Back to top button