মেয়ের বিয়ের সম্বন্ধ পাকা করতে সম্রাটের অফিসে শ্রীনিবাস-কমলা! সম্রাটের মুখোমুখি হয়ে কেন কেঁপে উঠল কমলার মন? দুর্ধর্ষ আজকে পর্ব

জি বাংলার (Zee Bangla) পর্দায় পথচলা শুরু করেছে নতুন ধারাবাহিক ‘কমলা নিবাস’ (Kamala Nibas )। গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, নিজের সব রাগ এবং অভিমান ভুলে পল্লবী শেষ পর্যন্ত একটা বড় সিদ্ধান্ত নেয়। সে ঠিক করে, সব বাধা মেনে নিয়েও সে সাগরের অফিসে আবার কাজে যোগ দেবে। আসলে অফিসে কাজ করার চেয়েও তার বড় উদ্দেশ্য ছিল ছোট্ট মিঠির দিকে নজর রাখা এবং তার কাছাকাছি থাকা। কিন্তু এখন পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে গেছে। সুপর্ণা আর তার পরিবার বাড়ির সব কাজের লোকদের তাড়িয়ে দিয়েছে। আর এখন বাড়ির সব কঠিন কাজ জোর করে করানো হচ্ছে ছোট্ট, নিষ্পাপ মিঠিকে দিয়ে। মিঠির এই কষ্ট পল্লবীকে ভেতর থেকে কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছিল।

পল্লবী অফিসে পা রাখতেই তার বিরুদ্ধে এক নতুন অশান্তি শুরু হয়ে যায়। সুপর্ণা, তার স্বামী আর শাশুড়ি কোনোভাবেই পল্লবীর ফিরে আসাটা মেনে নিতে পারছিল না। তাই তারা তিনজন মিলে পল্লবীকে সাগরের অফিস থেকে চিরতরে তাড়িয়ে দেওয়ার জন্য একটা নোংরা প্ল্যান বা ষড়যন্ত্র করে। তাদের সেই চক্রান্তের কারণে এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি হয় যে, পল্লবীকে অন্যায়ভাবে অফিস থেকে বের করে দেওয়া হয়। কোনো উপায় না দেখে মন খারাপ করে বাধ্য হয়েই অফিস থেকে বেরিয়ে যায় পল্লবী।

ওদিকে পল্লবীর নিজের পরিবারেও একটা মস্ত বড় আর্থিক বিপদ নেমে আসে। মহাজনের কাছ থেকে নেওয়া ধারের টাকা শোধ করতে না পেরে পল্লবীর বাবা শ্রীনিবাস বাবু একেবারে দিশেহারা হয়ে পড়েন। কোনো পথ না পেয়ে তারা ঠিক করেন, নিজেদের শেষ সম্বল জমিকোটা বিক্রি করে মহাজনের ধার মেটাবেন। কিন্তু এই চরম বিপদের দিনে শ্রীনিবাস বাবুকে নিজের ছেলের কাছেই ভীষণভাবে অপমানিত হতে হয়। ছেলে মুখ ফিরিয়ে নিলেও মেয়েরা কিন্তু বাবার পাশে এসে দাঁড়ায়। তারা বাবাকে সাহস দিয়ে বলে যে, এই বিপদে তারা সব সময় বাবার সাথে আছে।

এর পরের দিনই গল্পে একটা অদ্ভুত ঘটনা ঘটে। শ্রীনিবাস বাবু যখন মন খারাপ করে জমি বিক্রি করতে যান, ঠিক তখনই সেই মহাজন হন্তদন্ত হয়ে সেখানে ছুটে আসে। সবাইকে অবাক করে দিয়ে মহাজন উল্টে শ্রীনিবাস বাবুর হাত-পা ধরে ক্ষমা চাইতে শুরু করে। সে জানায় যে, তাকে আর কোনো ধারের টাকা শোধ করতে হবে না এবং জমিও বিক্রি করতে হবে না। এই অলৌকিক ঘটনায় শ্রীনিবাস বাবুর পরিবারের ওপর থেকে একটা মস্ত বড় বিপদের মেঘ এক নিমেষেই কেটে যায়।

আরও পড়ুনঃ ‘সবার পেছনেই তো বাঁশ আছে, আমি তো খুবই ক্ষুদ্র ব্যক্তি!’ ক্যারিয়ারের প্রতিবন্ধকতা নিয়ে অকপট স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়!

পরিবারের এই মস্ত বড় ফাঁড়া কেটে যাওয়ার পর, সবাই মিলে ঝিনুকের সাথে সম্রাটের বিয়ের কথাবার্তা এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই কারণে পরের দিন শ্রীনিবাস বাবু আর কমলা দেবী সম্রাটের অফিসে যান তার সাথে দেখা করতে। অফিসে গিয়ে সম্রাটের কথাবার্তা ও ব্যবহার দেখে শ্রীনিবাস বাবুর তাকে বেশ পছন্দ হয়ে যায়। কিন্তু শ্রীনিবাস বাবু খুশি হলেও, কমলা দেবীর মনে কেন যেন একটা অজানা ভয় আর খটকা তৈরি হয়। সম্রাটের ভালো ব্যবহারের পেছনে কোনো খারাপ উদ্দেশ্য লুকিয়ে আছে কি না, তা নিয়ে কমলা দেবীর মন দুশ্চিন্তায় ভরে ওঠে।

Back to top button