অফিসে ফিরতেই পল্লবীর বিরুদ্ধে সুপর্ণাদের চক্রব্যূহ! অন্যদিকে মহাজনের ঋণের দায়ে ডুবে শ্রীনিবাস! চারদিক থেকে ঘনিয়ে আসা অন্ধকার কি কাটাতে পারবে পল্লবী?

জি বাংলার (Zee Bangla) পর্দায় পথচলা শুরু করেছে নতুন ধারাবাহিক ‘কমলা নিবাস’ (Kamala Nibas )। গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, সুপর্ণার স্বামী ও শাশুড়ি মিঠিকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনার পর থেকেই শুরু হয় তাদের আসল রূপের প্রকাশ। মিঠির প্রতি ন্যূনতম ভালোবাসা না থাকলেও, তার বাবার রেখে যাওয়া বিপুল সম্পত্তির প্রতি তাদের চরম লোভ। সমস্ত সম্পত্তির মালিক এখন মিঠি হওয়ায়, তাকে ভয় দেখিয়ে ও মানসিক চাপে রেখে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায় তারা। চেনা পরিবেশ ছেড়ে আসা ছোট্ট মিঠি এই নরকতুল্য পরিবেশে একা পড়ে দিনরাত চোখের জল ফেলতে থাকে।
মিঠিকে হারিয়ে পল্লবী যখন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত, তখন মনে শান্তি খুঁজতে সে মন্দিরে যায়। সেখানে আবারও আদিত্যের সাথে তার দেখা হলেও সরাসরি কথা হয় না। আদিত্য আগে থেকেই পল্লবীর প্রতি আকৃষ্ট ছিল এবং তার সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ খুঁজছিল। সে পল্লবীকে অনুসরণ করে শ্রীনিবাসদের বাড়ির দোরগোড়ায় পৌঁছে যায়, যেখানে তার পুরনো পরিচিত কমলার সাথে অপ্রত্যাশিতভাবে দেখা হয়ে যায়।
কমলার আমন্ত্রণে আদিত্য তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে এবং চা-জলখাবারের আতিথেয়তা গ্রহণ করে। সেখানে পল্লবীর ঠাকুমার সাথে তার আলাপ হয় এবং অজান্তেই সে পল্লবীর হাতের তৈরি চা পান করে। কিন্তু ভাগ্যের এক অদ্ভুত পরিহাসে, এত কাছে থেকেও পল্লবী ও আদিত্য মুখোমুখি হতে পারে না। আদিত্য আড়ালে থেকে পল্লবীর গতিবিধির ওপর নজর রাখলেও, নিজের মনের লুকানো ভালোবাসার কথা সে এখনো তাকে জানানোর সুযোগ পায়নি।
নিজের মান-অভিমান সরিয়ে রেখে পল্লবী সিদ্ধান্ত নেয় যে সে সাগরের অফিসেই কাজে ফিরবে। তার একমাত্র লক্ষ্য হলো মিঠির খবর রাখা এবং তার কাছাকাছি থাকা। তবে পরিস্থিতি এখন ভিন্ন; বাড়িতে চাকর-বাকরদের তাড়িয়ে দিয়ে ছোট্ট মিঠিকে দিয়েই সব কাজ করিয়ে নিচ্ছে সুপর্ণা ও তার পরিবার। অন্যদিকে, পল্লবী অফিসে পা রাখতেই তাকে সেখান থেকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার জন্য সুপর্ণা, তার স্বামী ও শাশুড়ি মিলে এক কুটিল ষড়যন্ত্র লিপ্ত হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ মহোৎসবের আড়ালে নাশকতার ছক! রক্তিম-কুন্তলদের ষড়যন্ত্রে এবার কোন নতুন বিপদ? দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব
ব্যক্তিগত সমস্যার পাশাপাশি পল্লবীর পরিবারে ঘনিয়ে আসছে আর্থিক দুর্যোগ। মহাজনের ঋণের দায়ে শ্রীনিবাস এখন দিশেহারা। নিরুপায় হয়ে তারা নিজেদের শেষ সম্বল জমিটুকু বিক্রি করে টাকা জোগাড়ের চেষ্টা করছে। একদিকে মিঠির ওপর অত্যাচার আর অন্যদিকে পরিবারের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই এতগুলো প্রতিকূলতাকে জয় করে পল্লবী ও তার পরিবার আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কি না, তা সময়ই বলবে।

