কমলা নিবাসে নতুন মোড়! মুখোমুখি পল্লবী-আদিত্য! দুজনের আসল পরিচয় কি আসবে প্রকাশ্যে? দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জি বাংলার (Zee Bangla) পর্দায় পথচলা শুরু করেছে নতুন ধারাবাহিক ‘কমলা নিবাস’ (Kamala Nibas )। গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, শান্ত ও সুন্দর শ্রীনিবাসদের জীবনে হঠাৎ করেই যেন কালো মেঘ ঘনিয়ে আসে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই এক দুপুরে অতর্কিতে পুলিশ এসে হাজির হয় তাঁদের বাড়িতে। শ্রীনিবাস ও কমলাকে থানায় নিয়ে যাওয়ার জন্য কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়, এবং সেই সাথে পল্লবী ও ছোট্ট মিঠিকেও ছাড় দেওয়া হয় না। আসলে এই সবটাই ছিল মিঠির পিসির এক সুপরিকল্পিত ও কুটিল ষড়যন্ত্র। মিঠিকে নিজের কব্জায় নেওয়ার নেশায় তিনি পল্লবীদের বিরুদ্ধে থানায় গিয়ে এক ভয়াবহ মিথ্যে অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ ছিল যে, শ্রীনিবাস ও তাঁর পরিবার নাকি মিঠিকে জোর করে আটকে রেখেছে, অর্থাৎ তাঁকে কার্যত কিডন্যাপ করা হয়েছে।
থানায় পৌঁছানোর পর শ্রীনিবাস ও কমলাকে যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়, তা ছিল অভাবনীয়। সাগরের বোনের সাজানো সেই মিথ্যে অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁদের ওপর নেমে আসে চূড়ান্ত অপমান ও লাঞ্ছনা। নিরপরাধ হওয়া সত্ত্বেও পরিস্থিতির ফেরে তাঁরা একপ্রকার অসহায় হয়ে পড়েন। পুলিশের কঠোর মনোভাবের সামনে শেষ পর্যন্ত পল্লবীর কোল থেকে ছোট্ট মিঠিকে জোর করে ছিনিয়ে নেওয়া হয়। নিজের সন্তানের মতো আগলে রাখা মিঠিকে এভাবে হারিয়ে পল্লবী কান্নায় ভেঙে পড়লেও, নিষ্ঠুরভাবে তাঁকে মিঠির কাছে পর্যন্ত ঘেঁষতে দেওয়া হয় না। মিঠির পিসি জয়ী হওয়ার হাসি হেসে মিঠিকে নিয়ে চলে যায়।
অন্যদিকে, বাড়িতে তখন চরম উৎকণ্ঠা ও উত্তেজনার পরিবেশ। কমলা এবং শ্রীনিবাসের জন্য সবাই চিন্তায় অস্থির হয়ে পড়লেও বাড়ির বড় ছেলে সাহায্য করতে অস্বীকার করে। সে সাফ জানিয়ে দেয় যে, এই আইনি ঝামেলার দায়ভার সে কোনোভাবেই নিতে পারবে না। এমন চরম বিপদে নিরুপায় হয়ে পল্লবীর বড় বৌদি নিজের জা প্রীতির কাছে হাতজোর করে অনুরোধ জানায়। প্রীতির বাবা একজন প্রভাবশালী মন্ত্রী, তাই একমাত্র তিনিই পারেন শ্রীনিবাস এবং কমলাকে এই বিপদ থেকে উদ্ধার করতে। বাবার ক্ষমতা ব্যবহার করে প্রীতি যেন তাঁদের জামিনের ব্যবস্থা করে দেয়, এটাই ছিল পরিবারের শেষ আশা।
তবে ঘটনার মোড় ঘোরে একেবারে নাটকীয়ভাবে। শ্রীনিবাস এবং কমলাকে জেলহাজতে বন্দি করে রাখা হলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি বদলে যায়। কোনো এক অজানা ও অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে তাঁদের সসম্মানে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ আসে। এমনকি যে পুলিশ অফিসার তাঁদের সাথে দুর্ব্যবহার করেছিলেন, তিনি নিজেই বাড়িতে এসে তাঁদের কাছে হাতজোড় করে ক্ষমা চেয়ে অনুরোধ করেন। তিনি বারবার বলতে থাকেন, কোনো ‘বিশেষ ব্যক্তি’র কানে যেন এই অপমানের খবর না পৌঁছায়। শ্রীনিবাস ও কমলা মুক্তি পেলেও এক গভীর রহস্যের জালে জড়িয়ে পড়েন কে সেই রহস্যময় প্রভাবশালী মানুষ, যিনি আড়াল থেকে কলকাঠি নেড়ে তাঁদের রক্ষা করলেন, তা তাঁরা কিছুতেই ভেবে কুলোতে পারেন না।
আরও পড়ুনঃ রক্তিমের ষড়যন্ত্র চুরমার! শয়তানকে শাস্তি দিতে এবারে চরম সিদ্ধান্ত নিল দিতি! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব
বিপদ কাটলেও মিঠিকে হারানোর ক্ষত পল্লবীর মনে টাটকা ছিল। পরের দিন মনের দুঃখে মন্দিরে প্রার্থনা করতে গেলে সেখানে আবারও তাঁর দেখা হয় আদিত্যর সঙ্গে। আদিত্য মনে মনে চাইছিল যেন পল্লবীর সাথে তার একটা পরিচয় হয়। পল্লবীকে অনুসরণ করতে করতে সে একসময় শ্রীনিবাস এবং কমলার বাড়ির সামনে এসে পৌঁছায়। সেখানে কমলাকে দেখেই আদিত্য অবাক হয়ে যায়, কারণ পূর্বপরিচিত কোনো যোগসূত্র যেন এখানে কাজ করছে। এরপর কমলা নিজ থেকেই আদিত্যর সাথে পল্লবীর পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কথা জানায়। এখন দেখার বিষয় হলো, পল্লবী এবং আদিত্য একে অপরের মুখোমুখি হয়ে নিজেদের আসল পরিচয় জানতে পারে কি না এবং এই নতুন সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়।

