খোদ পুলিশ অফিসারের করজোড়ে ক্ষমা! অদৃশ্য ব্যক্তির ক্ষমতায় জেল থেকে মুক্তি! শ্রীনিবাস-কমলার রক্ষাকর্তা আসলে কে?

জি বাংলার (Zee Bangla) পর্দায় পথচলা শুরু করেছে নতুন ধারাবাহিক ‘কমলা নিবাস’ (Kamala Nibas )। গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, পরিবেশ ও পরিস্থিতির সাথে ক্রমাগত লড়াই করতে করতে পল্লবী আজ বড্ড ক্লান্ত। ছোটবেলা থেকেই সে শান্ত স্বভাবের, ঝগড়া বা অশান্তি কোনোদিন তার স্বভাববিরুদ্ধ ছিল। অথচ ভাগ্যের এক অদ্ভুত পরিহাসে তার কপালে বারবার শুধু দুঃখ আর যন্ত্রণাই জুটেছে। পল্লবীর মা এই নিয়ে সারাক্ষণ আফসোস করেন, কারণ তিনি জানেন তাঁর মেয়ে কতটা কোমল মনের। পল্লবীর নিজের বলতে কেউ নেই যে তার মনের খবর নেবে বা তাকে একটু শান্তির আশ্রয় দেবে। এই একাকীত্ব আর সহ্য করতে না পেরে পল্লবী এখন নিজের জন্য একটু হলেও মানসিক শান্তির খোঁজ করছে।
পল্লবীর জীবন আরও জটিল হয়ে উঠেছে তার দাদাভাইদের মানসিকতার কারণে। পল্লবী এখনও অবিবাহিত, আর তার ওপর সে সাগরের মেয়ের সমস্ত দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে এই বিষয়টি পরিবারের কেউ ভালো চোখে দেখছে না। তাদের ধারণা, সাগরের মেয়ের দেখাশোনা করার কারণেই পল্লবীর বিয়ের পথে বাধা আসছে এবং সমাজ তাকে অন্য নজরে দেখছে। নিজের আপনজনদের কাছ থেকেই এমন বিরূপ সমালোচনা পল্লবীকে মানসিকভাবে আরও বিপর্যস্ত করে তুলেছে, যা তার ত্যাগের কোনো মূল্যই দিচ্ছে না।
অন্যদিকে, গল্পের সমান্তরাল ধারায় রনোর মনেও বইছে কষ্টের ঝড়। ঝিনুক এবং সম্রাটকে একসাথে হাসিমুখে যেতে দেখে রনো নিজেকে আর সামলাতে পারছে না। তার মনের গভীরে ঝিনুকের প্রতি যে ভালোবাসা তৈরি হয়েছে, তা সে আজও মুখ ফুটে বলতে পারেনি। এই না-বলা কথাগুলো তাকে কুরে কুরে খাচ্ছে। ঝিনুককে হারানোর ভয় আর সম্রাটের সাথে তার ঘনিষ্ঠতা রনোর মনে গভীর আঘাত দিয়েছে, যা আগামী দিনে তাদের সম্পর্কে এক বড়সড় মোড় আনতে পারে।
শান্ত ও সুন্দর শ্রীনিবাসদের বাড়িতে হঠাৎ করেই যেন বজ্রপাত হলো। অতর্কিতে পুলিশ এসে শ্রীনিবাস ও কমলাকে থানায় নিয়ে যাওয়ার জন্য তলব করে। সেই সাথে পল্লবী এবং ছোট্ট মিঠিকেও ছাড় দেওয়া হয় না। আসলে এই সবটাই মিঠির পিসির এক পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। মিঠিকে নিজের কব্জায় নেওয়ার জন্য তিনি পল্লবীদের বিরুদ্ধে পুলিশে গিয়ে মিথ্যে অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগটি ছিল অত্যন্ত গুরুতর শ্রীনিবাস ও তার পরিবার নাকি মিঠিকে জোর করে আটকে রেখেছে বা কিডন্যাপ করেছে।
আরও পড়ুনঃ ভয়ংকর বিপদে দিতি! উৎসবের আনন্দেই ঘনিয়ে এল অন্ধকার! রক্তিমের নতুন ষড়যন্ত্রে মৃ’ত্যুর মুখে দিতি! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব
থানায় গিয়ে শ্রীনিবাস ও কমলাকে চূড়ান্ত অপমান আর লাঞ্ছনার শিকার হতে হয়। সাগরের বোনের এই সাজানো মিথ্যে অভিযোগের সামনে তারা একপ্রকার অসহায় হয়ে পড়ে। পুলিশের সহায়তায় শেষ পর্যন্ত পল্লবীর কোল থেকে ছোট্ট মিঠিকে জোর করে ছিনিয়ে নেওয়া হয়। মিঠিকে পল্লবীর কোল থেকে জোর করে ছিনিয়ে নিয়ে যায় সাগরের বোন, আর অসহায় পল্লবীকে তার প্রিয় মিঠির কাছে পর্যন্ত ঘেঁষতে দেওয়া হয় না। ওদিকে শ্রীনিবাস এবং কমলাকে শ্রীঘরে বন্দি করে রাখা হলেও, কিছুক্ষণের মধ্যেই নাটকীয়ভাবে পরিস্থিতি বদলে যায় এবং তাদের সসম্মানে ছেড়ে দেওয়া হয়। এমনকি খোদ পুলিশ অফিসার নিজে বাড়িতে এসে তাঁদের কাছে ক্ষমা চেয়ে অনুরোধ করেন, যেন কোনো ‘বিশেষ ব্যক্তি’র কানে এই অপমানের খবর না পৌঁছায়। শ্রীনিবাস ও কমলা মুক্তি পেলেও এক গভীর রহস্যের জালে আটকে পড়েন—কে সেই প্রভাবশালী মানুষ, যিনি আড়াল থেকে কলকাঠি নেড়ে তাঁদের এই বিপদ থেকে রক্ষা করলেন, তা ভেবেই তাঁরা কূল-কিনারা পাচ্ছেন না।

